DRAMA/নাটক , আমরা কি money / টাকা দিয়ে সব সমস্যা মেটাতে পারি ? family বা পরিবারে আজ এত সমস্যা কেন ? নাটক – নীল তিমি -৮

ডঃ – তার পর তাকে অন্যরকম একটা চ্যাটিং সাইটে নিয়ে যায় । সেখানে তাকে WELCOME জানানো হয় , এবং অনেক মেয়ে রা তার সাথে হাসি মজা করতে থাকে । আন্দ্রেই এর ব্যাপার টা খুব পছন্দ হয় । এর পর থেকে প্রতিদিন আন্দ্রেই স্কুল থেকে ফেরার পর ওই সাইটে গিয়ে কথা বলত এবং প্রচুর মজা করত । এভাবে অনেক দিন কেটে যায় । আসতে আসতে সে আসক্ত হয়ে পরে । এর পর তাকে একটা লিঙ্ক দেওয়া হয় । আর আন্দ্রেই তাতে ক্লিক করতে ই একটা গেম ডাউন লোড হয়ে যায় । ব্যাস , এর পর শুরু হয় আন্দ্রেই এর জীবনের ভয়ানক দিন গুলি । এর পর থেকে আন্দ্রেই ঠিক মত স্কুলে যেত না । অনেক রাত  পর্যন্ত জেগে থাকত  । একা একা কথা বলত । কারর সাথে মিশত না ।

স্বস্তিক – এর পর কি হয় ?

ডঃ – এর পর আন্দ্রেই তার বাবা মা র সাথে কথা বলা ও বন্ধ করে দেয় ।

কিন্ত তার বাবা , মা বিষয় টি লক্ষ্য করেন । তাদের এই ব্যাপার টা ভাল লাগেনি । একদিন আন্দ্রেই ঘুমিয়ে যাবার পর তারা তার ল্যাপ্টপের   সব কিছু দেখেন । ঐ গেম আর আন্দ্রেই র ল্যাপটপের ফাইল গুলো দেখে তাদের মোটেও ভাল লাগেনি । তখন তারা পুলিশের আশ্রয় নেন ।

পুলিশ আন্দ্রেই কে কিছু জিজ্ঞেস করলে সে কিছুই বলত না , শুধু বলত I AM WHALE . আজ আমাকে মিশ্ন  পুরো করতে হবে । কেউ আমাকে বিরক্ত কর না ।, পুলিশ সেই ল্যাপ্টপ টি নিয়ে সব কিছু যাচাই করে । BLUE WHALE এর ADMIN বিষয় টি বুঝতে পেরে ডিভাইস টি ব্যান করে দেয় । তার পর আর কোন ভাবে সম্ভব  হয়নি গেমে ঢোকার । আশ্চর্যের বিষয় হল গেমটি উধাও হয়ে যায় ল্যাপ্টপ থেকে ।

স্বস্তিক – এর পর আন্দ্রেই এর কি হয় ?

ডঃ – তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । সে মানসিক ভাবে সুস্থ ছিল না । আন্দ্রেই এর সুস্থ হতে পুরো এক বছর সময় লেগেছিল । তুমি বেঁচে গেছ তুমি খুব ভাগ্যবান। BLUE WHALE গেম খেলতে খেলতে সবাই মারা যাচ্ছিল । আন্দ্রেই প্রথম যে এই গেম খেলতে গিয়ে বেঁচে যায় ।

স্বস্তিক – সত্যি ভয়ঙ্ক্র ব্যাপার ।

 BLUE WHALE বা নীল তিমি সম্পর্কে কিছু জান ?

স্বস্তিক – পৃথিবীর সব থেকে বড় স্তন্যপায়ী প্রাণী , যা প্রায় ১০০ ফুট লম্বা , পুর্নাঙ্গ দুটি ডাইনোসরের থেকে ও বড় , পূর্ণ বয়স্ক ৪০ টা আফ্রিকান হাতি র সমান , ওজন প্রায় ২০০ টন একটি পুর্নাঙ্গ নিল তিমির জিভ একটি হাতির সমান , শুধু জিভের ওপর একটা গোটা ফুটবল টীম দাঁড়াতে পারে।

ডঃ – হ্যাঁ , এরা ক্রিল নামে চিংড়ির মত এক ধরনের প্রাণী খায় প্রতিদিন প্রায় ৪ টন এবং একটা সদ্যজাত নিল তিমি প্রতিদিন ৫০০ লিটার মাতৃদুগ্ধ পান করে , তিমি কিন্ত মাছ না ।

স্বস্তিক – জলের ওপর থেকে দেখলে জলের তলায়ে যখন থাকে তখন এদের নীল দেখতে লাগে , ভেসে উঠলে ধুসর রঙের দেখায় ।

ডঃ – 1900 থেকে 1960 সালের মধ্যে প্রায় ৩ লাখ তিমি শিকার করে মেরে ফেলা হয়েছে । বলা যায় সব টা ই টাকার লোভে । অবশ্য শুধু তিমি নয় , একটা সময় টাকার লোভে প্রচুর প্রাণী হত্যা করা হয়েছে , বর্তমানে এদের শিকার করা নিষেধ এবং এরা লুপ্তপ্রায় প্রাণী দের একটি , এখন সব মিলিয়ে মাত্র 25000 তিমি বেঁচে ।

স্বস্তিক – এদের দাঁত নেই , ঝালর আছে , মজার কথা ,এদের মস্তিকের এক ভাগ ঘুমলে ও আর এক ভাগ জেগে থাকে কারন শ্বাস প্রশ্বাস এর জন্য এদের জলের উপরে ভেসে উঠতে হয় না হলে এরা জলের মধ্যে দম আটকে মারা যাবে । একটি নীল তিমি র গর্জন আর একটি নীল তিমি প্রায় হাজার মাইল দূর থেকে শুনতে পায় , এরা ঘণ্টায়ে ৫ থেকে ২০ মাইল গতি তে যেতে পারে , এদের শব্দের তিব্রতা ১৮৮ ডেসিবেল যা একটি জেট ENGINE এর থেকে ও বেশি ।

ডঃ – তবে এই তথ্য গুলো আশ্চর্যের কিছু নয় , কারণ আজকের দিন এ GOOGLE বা YOUTUBE SERCH করলে এরকম হাজার এক INFORMATION পাওয়া যায় । আশ্চর্যের যেটা সেটা হল মানুষের একাকীত্ব, যা দিন দিন বাড়ছে । আগে শুধু বয়স্ক মানুষেরা এর শিকার হতেন , আর এখন 15 , 16 বছরের ছেলে মেয়ে , যাদের জীবনে পড়াশুনো , খেলাধুলো , নাচগান কতকিছু থাকতে পারে , কিন্ত না , সেখানেও বসেছে একাকিত্তের থাবা । এই রোগ খুব ভয়ঙ্কর , মানুষকে ভেতরে ভেতরে খোকলা করে দেয় আর তখন এই সাধের জীবন তার নিজের কাছে ই বোঝা বলে মনে হয় । বুঝলে ?

স্বস্তিক – হ্যাঁ ম্যাডাম , যেমন আমার হয়েছে ।

ডঃ – BRILLIENT , তুমি তোমার নিজের অবস্থান বুঝেছ জেনে আমি খুব খুশি , এবার তুমি আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দেবে স্বস্তিক ?

স্বস্তিক – বলুন

ডঃ তুমি বড় হয়ে কি হতে চাও ?

স্বস্তিক – আমি ও সব চিন্তা ছেড়ে দিয়েছি ।

ডঃ – I MEAN কি হতে চাইতে ?

স্বস্তিক – প্রথমে ডাক্তার হতে চাইতাম  কিন্ত বাবা কে দেখে সে ইচ্ছা চলে গেছে ।

ডঃ – কেন ?

স্বস্তিক – আচ্ছা ম্যাডাম , বেঁচে থাকা কি শুধু মাত্র টাকা রোজগার আর ভোগ করার জন্য ? টাকা ই কি জীবনে সব ? সুখ শান্তি , সব সময় টাকা দিয়ে পাওয়া যায় ? আমি অস্বীকার করছি না টাকা রোজগার মানুষের দরকার , তাবলে সব সময় সব ক্ষেত্রে সব কিছুর বিচার টাকা দিয়ে করা যায় ?

ডঃ – একদম ই না।

স্বস্তিক – কিন্ত আমি আমার বাড়িতে তো তাই দেখে এসেছি, আরও বেশি টাকা মানে আরও উন্নত স্ট্যাটাস , তাই প্রতিনিয়ত ছুটে চল শুধু টাকার পেছনে ।

ডঃ – আমি তোমার মনের অবস্থা বুঝতে পারছি , কিন্ত তুমি যেটা দেখেছ সেটা পৃথিবীর একটা দিক , উল্টো দিক টা ও তো আছে ।

স্বস্তিক – সেটা কি ?

ডঃ – তোমার চোখে সমাজের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি র উদাহরন দাও ।

স্বস্তিক – ডঃ এ পি জে আব্দুল কালাম , রতন টাটা ।

ডঃ – তোমার মনে হয় এরা নিজেদের কথা চিন্তা করে বেঁচে ছিলেন বা বেঁচে আছেন ? এনারা কোনদিন টাকার পেছনে দৌড়েছেন ? তুমি নিঃসঙ্গতার কথা বলছ ? একবার ভাব তো , তোমার মত এদের ও তো কেউ নেই, কিন্ত এঁরা এঁদের কাজের নেশায় এতটা ই বিভোর , সমাজের প্রতি এনারা এতটা ই দায়বদ্ধ যে প্রয়োজন ছাড়া এনারা কোনদিন কোনকিছু ব্যবহার করেন নি। অথচ এঁদের জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষ সুস্থ ভাবে খেয়ে পড়ে বেঁচে আছে, দেশ সুরক্ষিত , এবং দেশের অর্থনীতির ও GROWTH হচ্ছে । একজন কে তো মিসাইল ম্যান আখ্যা দেওয়া হয়েছে , আর একজন এখন জীবন্ত দৃষ্টান্ত ।

অথচ এনারা যদি স্বার্থপর এর মত শুধু নিজেদের কথা ই ভাবতেন তাহলে ?

স্বস্তিক – ম্যাডাম , আমাকে একটা প্রশ্নের উত্তর দেবেন ?

ডঃ – অবশ্যই , বল কি জানতে চাও ।

স্বস্তিক- আচ্ছা ম্যাডাম , এই যে আপনি যাদের কথা বললেন , তাদের বাড়ির পরিবেশ কি আমাদের বাড়ির মত ছিল ?

ডঃ – কি বলতে চাইছ বল ।

স্বস্তিক- মানে এরা কি দিন রাত বাবা মা র ঝগড়া দেখে বড় হয়েছেন ?

ডঃ – খুব দামি কথা , খুব দামি কথা ।কিন্ত স্বস্তিক , এটাও তো তোমাকে মানতে হবে এক এক জনের সমস্যা এক এক রকম । তারা তাদের মত নিজেদের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন  । আবার নিজেদের দক্ষতায় তা কাটিয়ে ও উঠেছেন ।দেখ , আমি স্বীকার করছি তোমার পারিবারিক সমস্যা ই তোমাকে এই সব রাস্তায় অজান্তে ঠেলে দিয়েছে , কিন্ত তুমি যদি তার থেকে না ই নিজেকে বার করে আনতে পারলে তাহলে তোমার জীবনের সার্থকতা কোথায় , তাই না বল ?

স্বস্তিক- সত্যি কথা বলতে কি , আমি জর্জরিত বাবা মা র ঝগড়া শুনতে শুনতে । আপনি বিশ্বাস করবেন না ম্যাডাম , এক এক সময় আমার মনে হত , আমি বেঁচে আছি কেন ? ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমতে জাওয়া অবধি আমি ঞ্জ্যান হবার পর থেকে কোনদিন বাবা মা কে ঝগড়া ছাড়া কোন স্বাভাবিক কথা কখন ও বলতে শুনিনি ।

ডঃ – আমি তোমার কষ্ট টা বুঝতে পারি স্বস্তিক ।

(৮)  চলবে………

Leave a Reply