DRAMA/নাটক , আমরা কি money / টাকা দিয়ে সব সমস্যা মেটাতে পারি ? family বা পরিবারে আজ এত সমস্যা কেন ? নাটক – নীল তিমি -৭

কথক – দেখতে দেখতে এক সপ্তাহ কেটে যায় । গেম এর শর্তের ভয়াবহতা বাড়তে থাকে, স্বস্তিক মানসিক ভাবে দিন দিন বিধ্বস্ত হয়ে পরে , এক অজানা অপরাধ বোধ তাকে কুড়ে কুড়ে খায় । ওদিকে পার্থ তাপস কে নিয়ে রহনা দেয় SALT LAKE এর বাড়ীর উদ্দেশে , স্বস্তিক কে নিজেদের বাড়িতে এনে রাখবে বলে )।

সল্টলেক এর প্রসাদপম বাড়িতে এসে পার্থ বেল দেয় , বেশ কিছুক্ষণ পর এক পরিচারিকা এসে দরজা খোলে ।

পার্থ – বাড়ির সবাই কোথায় ?

পরিচারিকা – কেউ তো নেই , শুধু স্বস্তিক দাদাবাবু ওপরে নিজের ঘরে ।

পার্থ তাপস কে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠতে থাকে , স্বস্তিক এর ঘরের কাছে পৌঁছতে ই দ্যাখে রক্ত ভেসে আসছে ।

তাপস – এত রক্ত কেন রে ?

পার্থ – তাই তো ।

এক অজানা আশঙ্কা র ছায়া দুজনের মুখের ওপর নেমে আসে, দুজনে দুজনের মুখ চাওয়া চাই করে তার পর দৌড়ে ঘরে ঢোকে , দেখে স্বস্তিক বাঁ হাতের শিরা কেটে ফেলেছে ।

পার্থ – তুই এ কি করলি স্বস্তিক ? নিজের হাতের শিরা নিজে ই এভাবে কেটে ফেললি ? তুই সুস্থ হয়ে উঠবি স্বস্তিক , আমি তোর কোন ক্ষতি হতে দেব না ,কিছু তে ই না ।

(তাপস  ফোন বার করে ডায়াল করে , অ্যাম্বুলেন্স , SALT LAKE , BA/1/3 থেকে বলছি , তারাতারি , কুইক ।)

সপ্তাহ দুয়েক পর 

স্বস্তিক এর বাঁ হাতে ব্যান্ডেজ জড়ানো , একটা চেয়ারে সে বসে , মাঝে একটা টেবিল , উল্টো দিকে বসে বিখ্যাত মনবিদ ডঃ নিলাঞ্জনা সেনগুপ্ত ।

ডঃ – স্বস্তিক এখন কেমন বোধ করছ ?

স্বস্তিক – ভাল ।

ডঃ – তুমি ত খুব মেধাবী , হঠাত করে এ রকম করলে কেন ?

স্বস্তিক – আমার বাঁচতে আর ভাল লাগেনা তাই ।

ডঃ – তুমি মারা গেলে কি হবে তুমি জান ?

স্বস্তিক – কিছু ই হবেনা , পৃথিবী তে একজনের সংখ্যা কমবে ।

ডঃ – তোমার কাছে আর তোমার নিজের জীবনের কোনও গুরুত্ব নেই , কিন্ত তুমি কি জান স্বস্তিক , এটা আমাদের সমাজের কি অপূরণীয় ক্ষতি ?

স্বস্তিক – (অবাক দৃষ্টি তে তাকায়) , ক্ষতি ?

ডঃ – ক্ষতি নয় ? একজন মানুষ যদি সত্যি জীবনে ভাল মানুষ হয়ে ওঠে তাহলে সমাজে DIRECTLY OR INDIRECTLY কতো মানুষ উপকৃত হয় তুমি জান ?

স্বস্তিক – আমি বুজলাম না ।

ডঃ – তোমার আজকের অসুস্থতা বা আত্মহননের চেষ্টা করার কারন তো একটা গেম , তাই তো ?

স্বস্তিক (স্বস্তিক  চুপ করে থাকে , কিছুক্ষণ চিন্তা করে) – হ্যাঁ

ডঃ এবার এই গেম যবে থেকে তুমি খেলতে শুরু করেছ , তবে থেকে যে ঘটনাগুলো ঘটতে শুরু করেছে সেগুলো একটু মনে কর ।

স্বস্তিক – গেম খেলা আমার অভ্যাস , আর দশটা গেম এর মত এটাও আমি খেলতে শুরু করি অনেকটা কৌতূহল বশত । প্রত্যেক স্টেপ কমপ্লিট করলে আমার অ্যাকাউন্ট এ ৫ ডলার করে ঢুকবে জানতাম ।

ডঃ – প্রথম প্রশ্ন বা স্টেপ গুলো সহজ দেবার কারন তা কি , এবার তাহলে বুজতে পারছ তো স্বস্তিক?

স্বস্তিক – হ্যাঁ ম্যাডাম , টাকার লোভ , খুব সহজে টাকা রোজগারের লোভ দেখানোর জন্য ।

ডঃ – ইয়েস , প্রথম থেকে যদি কঠিন স্টেপ হয় , অনেকে শুরু তে ই খেলা থেকে কুইট করে যাবে, তাই প্রথম তিন টে স্টেপ খুব সহজ রাখার কারণ যাতে তোমার বয়সি ছেলে মেয়ে রা সহজে টাকার লোভে আর গেম এর মজায়ে আকৃষ্ট হয় ।

তার পর কি হয় ?

স্বস্তিক – 3RD STEP এর পর আমার ID PROOF , ACCOUNT DETAILS ও সমস্ত PERSONAL INFORMATION নিয়ে নেওয়া হয় ।

ডঃ – যাতে তুমি সহজে গেম থেকে কুইট না করতে পার ।

স্বস্তিক – হ্যাঁ ম্যাডাম , প্রথম দশ টা স্টেপ বেশ সহজ ছিল ।

ডঃ – 11th নং স্টেপ এ তুমি তোমার নিজের হাত কেটেছ তাই তো ?

স্বস্তিক – হ্যাঁ

ডঃ – তার মানে সুদূর বিদেশে বসে থাকা কেউ , তার খারাপ বুদ্ধির মাধ্যমে একটা গেম এর দ্বারা তোমাকে প্রভাবিত করছে , তোমার ক্ষতি করছে , অথচ তুমি তাকে চেননা , তাকে জান না , কিন্ত তার প্রত্যেক টা খারাপ কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে দুবার ভাবছনা , এটা কে কি বলবে ? এক ধরনের বোকামো নয় ?

স্বস্তিক চুপ করে থাকে

ডঃ – 12th NO STEP এ কি হয় ?

স্বস্তিক – আমাকে বলা হয় , রাত ৩ টে তে আমার বাড়ির ছাদে এটা বলতে বলতে হাঁটতে হবে ” I WILL DIE FOR THE GAME ” .

ডঃ – রাত ৩ টে এমন এক টা সময় যখন প্রায় সবাই ঘুমিয়ে থাকে , সেই সময় এই গেম এর মাধ্যমে তোমার ” মগজধোলাই ” চলতে থাকে । ভেবে দেখ একবার , একজন কে মার্ডার করার কতো শার্প প্ল্যানিং ।

13 TH STEP এ কি হয় ?

স্বস্তিক – বলা হয় , চিন্তা ও করতে পারব না এমন কিছু করে নিজেকে কষ্ট দিতে হবে ।

ডঃ – তার মানে তোমাকে এমন টাস্ক দেওয়া শুরু হয় যাতে তুমি তোমার LIFE এর প্রতি FURSTETED মানে জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পর ।

আছা স্বস্তিক , তুমি এই গেম মেকার সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছিলে ? I MEAN GAME খেলা শুরুর আগে GOOGLE SERCH করে DETAILS নিয়েছিলে ?

স্বস্তিক – না ম্যাডাম ।

ডঃ – তোমার মতো এত মেধাবী ছেলের এত বড় ব্লান্ডার মানে এত বড় ভুল ?

স্বস্তিক – কেন ম্যাডাম ?

ডঃ – তাহলে শোন , ফিলিপ বুদেইকি নামে রাশিয়া র এক নিষ্কর্মা বখে যাওয়া ২২ বছরের ছেলে প্রায় দিন ই স্কুল যেতে দেরি করে , তার স্বভাবের জন্য তাকে কেউ দেখতে পারত না । কোন কিছু না পারার জন্য শিক্ষক রা তাকে বখতেন তো বটেই এমন কি তার প্রেমিকা ও হাল ছেড়েদেয় ও তাকে ছেড়ে চলে যায় । নিঃসঙ্গতা ও একাকীত্ব তাকে ক্রমশ গ্রাস করতে থাকে , কথা এ বলে অলস মস্তিক শয়তানের বাসা , তাই তার মত নিঃসঙ্গ মানুষদের চির ঘুমের দেশে পাঠাতে সে গেম বানানো শিখে এই গেম টি তৈরি করলো ।

সে প্রথম থেকে ই TARGET করত একাকিত্তে ভোগা ছেলে মেয়ে দের ।সহজ লোভে শুরু টা করিয়ে দিয়ে সমস্ত DETAILS নিয়ে নেবার পর সে হুমকি দিত এবং বাধ্য করত গেম খেলা CONTINUE করতে। কিন্ত তুমি তো অত্যন্ত মেধাবী , তুমি ওর ফাঁদে পরলে কি ভাবে ?

আসলে তোমার একাকীত্ব তোমাকে এই সর্বনাশা গেম এর দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করেছে ।

স্বস্তিক – হ্যাঁ ম্যাডাম , তাছাড়াও গেম এর নাম টা ও আমার গেম এর প্রতি আকর্ষণের একটা কারণ

ডঃ – তোমাকে একটা ঘটনা বলি , রাশিয়ার এক শহরে আন্দ্রেই নামে একটি ছেলে ছিল । তার বাড়িতে ছিল তার বাবা , মা , ও দুই বোন , সে স্কুলে পড়ত । তার স্বভাব ছিল স্কুল থেকে এসে ই অনলাইন গেম খেলতে বসে যাওয়া ।তার বাবা , মা তাকে অনেকবার বারন করলে ও সে শুনত না । যাই হোক , এমন ই একদিন গেম খেলার সময় একটা INVITATION NOTIFICATION আসে । আন্দ্রেই কিছু না বুঝে সেই INVITATION কে ACCEPT করে নেয় ।

স্বস্তিক – তার পর ?

(৭)  চলবে………

Leave a Reply