DRAMA/নাটক , আমরা কি money / টাকা দিয়ে সব সমস্যা মেটাতে পারি ? family বা পরিবারে আজ এত সমস্যা কেন ? নাটক – নীল তিমি -৬

পার্থ – হ্যাঁ ভাই , কিছুদিন আগে মেসোমশাই বাথরুম এ পরে গিয়ে ডান পা ভেঙ্গেছে , আর মাসিমা ? তার তো গলায় ক্যান্সার .

তাপস – সত্যি ভাই , বার্ধক্য বড় কঠিন ঠাই , যে পা ঝলসে উঠত ফুটবল এর মন মাতানো SKILL এ , সেই পা ই এখন অচল , আর যে গলা হাজার হাজার শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রাখতো সেই গলা তে ই এখন  ক্যান্সার ।

পার্থ – আমার খারাপ লাগার জায়গা  টা অন্যখানে , দেখ , ভবিষ্যৎ বা বার্ধক্য কোন টা ই আমাদের হাতে নেই , কিন্ত দিদি বা জামাইবাবু যদি নিজের পরিবার কে একটু সময় দিত , একটু সহনশীল হতো । শুধু টাকা আর টাকা র পেছনে ছুটে চলা ! কি জানি , খুব ভয় হয় ।

তাপস – কী করবি বল , সবাই তো তোর মতো ভাবতে পারেনা , তাই তো তোকে আমি যতো দেখি ততো ই অবাক হই ।

পার্থ – কেন ?

তাপস – না , মানে , পুলিশ মানেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে মোদমাতাল , ঘুষখোর ভুলভাল জায়গায়  যাওয়া একটা চরিত্র

  , সেখানে তুই তো রীতিমত FAMILYMAN.

পার্থ – সেটা কি অন্যায় ?

তাপস – অন্যায় কেন হবে ভাই , আমি তো তোর মতো বন্ধু পেয়ে গর্বিত ।কথায়ে বলে পুলিশের সাথে বন্ধুত্ব বা শত্রুতা , কোনটা ই ভালো নয় , কিন্ত তোকে দেখলে , তোর সাথে মিশলে সে ভূল ভেঙে যায় । আমি অনেক পুলিশ দেখেছি , যাদের কাছে টাকা রোজগার , আরও আরও বেশি টাকা রোজগার ই জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য ।

পার্থ – না রে ভাই , তোরা বাইরে থেকে ওরকম ভাবিস , সব পুলিশ কি এক ই রকম হয় ? সমাজে আমাদের দায়িত্ব কতো বলতো , তবে আপাতত আমার সব চিন্তা SALT LAKE এর বাড়ী তে আটকে আছে । এক দিকে দুই বুড়ো বুড়ি , যাদের দেখার কেউ নেই , আর এক দিকে একটা উঠতি বয়স এর ছেলে , যে MENTAL SUPPORT এর ওভাবে কেমন যেন হয়ে যাছে । আসলে কী জানিস তাপস , স্বস্তিক এর বয়স টা খুব সাংঘাতিক , এই বয়স এ অনেক অজানা বিপদ এর হাতছানি থাকে ।

তাপস – তুই স্বস্তিক কে নিয়ে একটু বেশি বিপদের সন্ধেহ করছিস না কি ?

পার্থ – ( হাসি )  জানিস তো , আমরা মাইনে পাই সন্ধেহ করার জন্য ।

তাপস – তা ঠিক , কিন্তু সেটা সব ক্ষেত্রে ?

পার্থ – তুই ভাব , একটা ছেলে , একটা ইয়ং ছেলে , CLASS 11 এ পড়ছে , কোন বন্ধু নেই , কোথাও খেলতে যাওয়া নেই , বাড়ির কারোর সাথে কোন কথা নেই , সারাদিন শুধু গেম আর গেম , এটা কী আশঙ্কাজনক না ?

তাপস – সেটা ঠিক , কিন্ত তুই এত দূর থেকে কি করতে পারবি ? তাছাড়া তোর ও তো DUTY আছে ।

পার্থ – তা থাক , এটা ও আমার DUTY র মধ্যে ই পড়ে ।

আমি সামনের সপ্তাহে স্বস্তিক কে আমাদের কাছে এক সপ্তাহ এনে রাখবো , আমার মনে হয় আমাদের বাড়ি তে এলে ও একা থাকার সুযোগ পাবেনা , সবার সঙ্গে মিশলে মন টা ভালো হয়ে যাবে , মানসিক অবসাদ ও অনেকটা ই কেটে যাবে ।

তাপস – তা ঠিক ।

স্বস্তিক – কোথায় ভয় ? খুব সহজ ভাবে ই তো গেম টা খেলতে শুরু করলাম , তিন টে স্টেপ দেখতে দেখতে পার হোয়ে গেলো , এবার দেখি , COMPUTER আমার কাছে কি চাইছে । আমাকে আমার সব DOCUMENTS দিতে হবে , আই ডি প্রুফ , ওকে , তার পর আমার অ্যাকাউন্ট স DETAILS , প্রত্যেক টা স্টেপ COMPLETE হবার সাথে সাথে প্রমাণ সাপেক্ষে আমাকে আমার MOBILE এ ফটো তুলে GAME MAKER এর কাছে পাঠাতে হবে , তার পর আমার অ্যাকাউন্ট এ প্রত্যেক স্টেপ complete এর জন্য ৫ ডলার করে ঢুকবে । FANTASTIC , সব কিছু পাঠিয়ে দিই ।……………………………………………..

কিছুক্ষন পরে স্বস্তিক এর মোবাইল এ একটা মেসেজ ঢোকে , তাতে দেখা যায়ে ১৫ ডলার ঢুকেছে ।

১৫ ডলার , মানে বাড়িতে বসে শুধু গেম খেলে ১৫০০ টাকা ঢুকে গেলো , দারুন তো।

এবার দেখি ৪র্থ স্টেপ এ কি চাইছে — রাত ২ এম এ উঠে GAME MAKER এর পাঠানো একটা ভূতের MOVIE দেখতে হবে । এটা কোন ব্যাপার হল ? আমি তো এমনিতে ই রাত ২ এম অবধি জেগে থাকি , আজ রাতে না হয়ে বসে বসে একটা ভুতের মুভি দেখে ফেলবো , ভাল ই হবে , তাছাড়া ভুতের মুভি দেখতে আমার বেশ ভাল ই লাগে , আজ রাত টা দারুন কাটবে ।

৫ম স্টেপ – সারাদিন ঘরে কারোর সাথে কথা না বলে থাকতে হবে । সারাদিন সারারাত , কিন্ত ঘুমনো চলবে না । আমি পারব , তেমন কিছু না , ৫ ডলার তো এমনি এমনি দেবেনা , নো প্রবলেম ।

৬ষ্ঠ স্টেপ – একটা খুব উঁচু বাড়ির ছাতে রাত ৩ র সময় উঠে বসে থাকতে হবে । হাঁ , কোন অসুবিধা নেই , ৩.৫০ এ এলারম টা দিয়ে শুই । শুধু উঠলে তো হবেনা , আমার ছবি গুলো তুলে প্রমান হিসেবে পাঠাতে হবে , আমি পারব ।

কথক – খুব সহজ ভাবে আর দশ তা গেম এর মত এই গেম এর ও খেলা শুরু হয় । প্রত্যেক স্টেপ এ ৫ ডলার মানে আমাদের টাকায়ে প্রায় ৪০০ টাকা , খুব সহজে এ অ্যাকাউন্ট এ ঢুকতে থাকে , তাই গেম এর প্রতি স্বস্তিক এর আকর্ষণ ও বাড়তে থাকে , প্রথম ১০ স্টেপ খুব সহজে এ কেটে যায় , আসলে এই সহজ স্টেপ গুলো দিয়ে ই বোনা হয় মরন ফাঁদের জাল ।

স্বস্তিক – ১১ নম্বর স্টেপ – ডান হাত দিয়ে নিজের বাঁ হাতে ব্লেড দিয়ে কেটে  F57 লিখতে হবে।হ্যাঁ আমি লিখব , এমন কত ই তো কেটে গেছে , ক্ষতবিক্ষত হয়েছে শরীর , আর আজ এইটুকু পারবনা ?কোন ব্যাপার ই না , এই তো কাটলাম , কি হল ? এবার এটার ছবি তুলে পাঠাতে হবে , পাঠাছি।

স্টেপ ১২ – রাত ৩ টে বাড়ির ছাতে উঠে হাঁটতে হাঁটতে বলতে হবে ” YES I WILL DIE FOR THE GAME” হ্যাঁ আমি পারব , অ্যালার্ম দিয়ে শুই ।

১৩ স্টেপ – চিন্তা ও করতে পারবেনা এমন কিছু করে নিজেকে কষ্ট দিতে হবে । যাকে তুমি প্রানের থেকেও বেশি ভালোবাসো তার সঙ্গ পুরপুরি ত্যাগ করতে হবে । রিয়া র সাথে ছাড়াছাড়ি করতে হবে? সেই ক্লাস ৯ থেকে আমাদের RELATION , সব সময় ও আমাকে কত SUPPORT করেছে ।আর আজ ওকে আমি ছেড়ে দেবো ? হ্যাঁ , দিতে ই হবে । গেম প্রথমে ই বলেছে সব শর্ত মানতে হবে , তাহলে এখন পিছিয়ে যাচ্ছি কেন আমি ? রিয়া র সঙ্গে FACEBOOK, TWITTER, INSTAGRAM সব জায়গা এ RELATION CUT OFF করে দিই , ফোনে ও BLOCK করে দিই । হ্যাঁ , এই তো আমি পেরেছি ।

১৪ নং স্টেপ – সারাদিন কারোর সাথে কথা না বলে থাকতে হবে, বলব না , এ আবার এমন কি? কারোর সাথে কথা বলব না । একি ? SIR এর ফোন ? আমাকে কত যত্ন করে উনি পরাতেন । সেই ছোট্ট থেকে আমাকে ক্লাস ১০ অবধি উনি পড়িয়েছেন । উনি না থাকলে মাধ্যামিক এ আমার এত ভাল RESULT হত না । উনি না থাকলে কে এভাবে GUIDE করত আমাকে ? কিন্ত আজ ওনার ই সাথে কথা বলতে পারব না আমি ? বাজুক ফোন । কিন্ত স্যার তো খুব দরকার ছাড়া ফোন করেন না ? তাহলে ? তা হোক , যে গেম আমি খেলতে বসেছি সেখানে এসব কথা ভাবলে চলেনা , ধরবো না স্যার এর ফোন ।

মাস্টারমশাই এর অসুস্থ গলা ভেসে আসে , – স্বস্তিক , তুমি আমার ফোন টা ধরলে না বাবা , আজ যে আমি খুব অসুস্থ , উঠে দাঁড়াবার ক্ষমতা নেই , ভেবেছিলাম একটু ওষুধ এনে দেবে , এতবার ফোন করলাম , ধরলে না বাবা ? তাহলে নিশ্চয় তুমি কোনও কাজ এ খুব ব্যস্ত আছ , MESSAGE করে রাখলাম , সময় পেলে PHONE BACK করো বাবা ।

স্বস্তিক – আমি মাস্টারমশাই এর ফোন ধরলাম না ? এ কি করলাম আমি ? না , গেম এর সব নিয়ম আমাকে মানতে ই হবে ।

১৫ স্টেপ – খুব পরিচিত কারোর সাথে দুর্ব্যবহার করতে হবে ? কে সে ? কার সাথে করব আমি এটা ? যারা আমাকে ভালবাসে তারা আমাকে আমার ব্যবহার এর জন্য ই আমাকে ভালবাসে । শেষে আমি কিনা … উফ …

কিন্ত গেম এর স্বার্থে আমাকে এটা করতে ই হবে ( বলতে বলতে বেড়িয়ে যায়ে )

(৬)  চলবে………

Leave a Reply