DRAMA/নাটক , আমরা কি money / টাকা দিয়ে সব সমস্যা মেটাতে পারি ? family বা পরিবারে আজ এত সমস্যা কেন ? নাটক – নীল তিমি -৫

অঞ্জনা – সস্তায় জ্ঞান দিও না তো , দরকার হলে চারটে লোক রেখে দাও , তোমার তো টাকার অভাব নেই ।

ডঃ সৌম্য – টাকা আমরা রোজগার করি ঠিক ই , কিন্তু সেটা আমাদের করতে হয় । বুঝতে পারছি জড়িয়ে যাচ্ছি , বুঝতে পারছি এর কোন শেষ নেই , কিন্ত একটা কথা মনে রেখ অঞ্জনা , জীবনে টাকা সব না , এতবার করে বলা সত্তেও তুমি গ্রামের বাড়ি থেকে মামা কে আসতে দিলে না , এলে ছেলে টা কত দ্রুত ভাল হয়ে উঠত একজন ডাক্তার হিসেবে আমি তা খুব সহজে বুঝতে পারি , কিন্তু তোমার ইগো , তোমার স্ট্যাটাস , অথচ বদলে তুমি যে ছেলে টাকে সময় দিচ্ছ, তাও না , তুমি যে কি চাইছ আর  কি চাইছ না  সেটা মনে হয় তুমি আজকাল নিজেও জান না , আর সেটাই তোমার সব থেকে বড় সমস্যা । তোমার কি সুবুদ্ধি একেবারে শেষ হয়ে গেছে ?

অঞ্জনা – বুদ্ধি , শিক্ষা , এসব তোমার থেকে আমার পরিবারের অনেক বেশি , মনে রেখ তোমার বাবা ক্লাস ফাইভ পাশ , আর আমার বাবা …।

ডঃ সৌম্য – JUST SHUT UP অঞ্জনা , আর একটা বাজে কথা ও বলবে না , এত বড় সাহস তোমার , আমার বাবা কে নিয়ে কথা বল তুমি ? ঐ ফাইভ পাশ বিদ্যে নিয়ে উনি যেভাবে আমাকে ছোটবেলায় দিনের পর দিন পড়িয়েছেন তুমি তা স্বপ্নে ও ভাবতে পারবে না ।কুলাঙ্গার কোথাকার ।

অঞ্জনা – তুমি কুলাঙ্গার , তোমার বংশের সবাই কুলাঙ্গার , শোন , আমি আজ পার্টি তে যাবই , কেউ আমাকে ঠেকাতে পারবে না ।

অঞ্জনার প্রস্থান

স্বস্তিক – আজ আবার সেই বাবা , মা র ঝগড়া , উফ , আমার আর ভাললাগেনা , সেই টাকা , টাকা আর টাকা ! বাবা তাও আমাকে কিছু টা বোঝে , বাবার সত্যি সময় নেই সেটা আমি বাবার চেম্বারে গিয়ে বুঝেছি , কত রকমের রুগি বাবা কে দেখতে হয় , কিন্তু মা এর ঐ নকল ব্যস্ততা আমার কাছে ভীষণ অসহ্য। বাবা – মা এর এই  সব সময় অশান্তি , যেন এর কোন শেষ নেই ,উফ , এসব যত দেখি , মনে হয় আমি একদিন পাগল হয়ে যাব । মা এর এই উগ্র সাজ পোশাক , আর ঐ সব আন্টি দের সাথে মেশা । আমি বুঝতে পারি , ওরা কার্ড খেলে , মদ খায় , ওর মধ্যে কয়েকটা আন্টি আছে যারা অন্য নেশা ও করে , অন্য আঙ্কেল দের সাথে ঘোরে । রাতে বাড়ি ফেরে না , আমি মা এর ফোনে বলা কথা গুলো শুনতে পাই , মা ভাবে যে আমি কিছু শুনতে পাই না , কিন্তু আমি সব শুনতে পাই । যে  যা খুশি করুক , আগের দিন একটা নতুন গেম দেখছিলাম ,BLUE WHALE ,   নীল তিমি , ইয়েস , নীল তিমি , দেখি তো গেম টা কেমন

( COMPUTER এর সামনে বসা  ক্লাস 11 এ পড়া এক মেধাবী কিশোর ONLINE CHATTING এ ব্যস্ত ) COMPUTER এর থেকে কিছু কথা ভেসে আসে ……………

স্বস্তিক তুমি খুব EXCITED, কিন্তু মনে রেখো , এই খেলার প্রথম ও শেষ শর্ত তোমাকে যা বলা হবে ,তাই শুনতে হবে ।তুমি কী রাজি ? এই খেলার ৫০ টা  স্টেপ আছে ।

স্বস্তিক – আমি রাজি, এই একাকীত্ব আমি আর নিতে পারছি না। আমার বাবা ডাক্তার , নিজের private nursinghome নিয়ে তিনি ব্যস্ত , তার সঙ্গে আছে বড় বড় company গুলর ওষুধ লেখার জন্য দেশ বিদেশ এর ফরেন টুর এর হাতছানি, আর দামি দামি Gift , আর মা ? তার তো শাড়ি ,গহনা, বন্ধু আর পার্টি , আমার সাথে ভাল করে কথা বলার সময় কোথায় ?

এই COMPUTER , এই ONLINE CHATTING , এই গেম , এগুলো ই আমার জীবন।

( পেছন থেকে কোরাস , তোর মত গেম কেউ খেলতে পারে না স্বস্তিক, এবারে গেম খেলে তুই সবথেকে বেশি টাকা রোজগার করেছিস , কোন কথা হবে না স্বস্তিক, কোন কথা হবেনা ।)

তাই এই গেম আমি খেলবো , এই গেম যখন আমাকে বাঁচতে শিখিয়েছে , এতে মরে গেলে কিসের ক্ষতি? আমি খেলবো , আমি খেলবো ।

(পরের সিন)

তাপস – যার কথা বলছিস, সে তোর কে হয় ?

পার্থ – আমার ভাগ্নে

তাপস – তা হঠাৎ করে তোর ভাগ্নে র ব্যাপারে তুই এত চিন্তায় কেন ?

পার্থ – চিন্তা কী এমনি ভাই , আমার ভাগ্ণে খূব মেধাবী, কিন্তু ইদানীং ওর MOBILE আর COMPUTER এর প্রতি আসক্তি খূব বেড়ে গেছে , এবং সেটা পুরোপুরি গেম RELATED.

তাপস – তুই কী করে জানলি ?

পার্থ – আরে , গত সপ্তাহে SALT LAKE এ ওদের বাড়ী তে গেছিলাম । দেখে খুব খারাপ লাগলো জানিস ।খাবার টা ও টেবিল এ পড়ে আছে , শুধু গেম আর গেম ।

তাপস – তুই শুধু শুধু ই এতো ভাবছিস , এখন কার ছেলে রা গেম একটু বেশি খেলে ঠিক ই ,তা বলে এতো চিন্তা র কিছু নেই ।

পার্থ – দেখ ভাই , এই ইন্টারনেট , এই android set , এই WIFI , সব ই ভাল, যদি তাকে ভাল দিকে কাজে লাগে লাগানো যায় ,

তাপস – মানে ?

পার্থ – মানে আবার কি ? very simple , বিজ্ঞানের আশীর্বাদ আর অভিশাপ এর মত । আমরা ক্রিমিনাল ধরার জন্য এখন কত ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি  ব্যাবহার করি বা তার সাহায্য নি ।একটা সময় PHONE বলতে ছিল LAND LINE, আর এখন MOBILE TRACK করে কত বড় বড় ক্রিমিনাল আমরা TRACE করে ফেলছি বলতো ।

তাপস – তা তো ঠীক ই , সত্যি কথা বলতে কি পার্থ , আমি ভাবি , আমার পড়াশোনার সময় যদি এমন মোবাইল আর ইন্টারনেট থাকতো ,আমার তো কোনও PRIVATE TEACHER এর কাছে যাবার দরকার এ পরত না ।

পার্থ – তাই তো , YOUTUBE এ কোন সমস্যার সমাধান নেই বলতো ? অঙ্ক , ইংরাজি , বিজ্ঞান ,সব কিছু , কিন্ত কটা ছেলে মেয়ে এর PROPER USE করে বল ?

তাপস – করে না তো , টাকা নেই তাই পড়তে পারছেনা এই যুক্তি টাই এখন অচল , একটা PHONE আর NET CONNECTION থাকলে EDUCATION RELATED 98% PROBLEM SOLVE হয়ে যায়ে । কিন্ত ভাই , ইচ্ছে টা তো থাকার দরকার ।

পার্থ – অবশ্যই , ওটাই তো সব রে , ইচ্ছে আর চেষ্টা ছাড়া কিছু হয় ? কিছু হয় না ।

তাপস – আছা , তোর দিদির শ্বশুর , শাশুড়ি , কি যেন নাম , অমলেন্দু মেসমসাই আর সোনালি মাসিমা , তাই না ?

পার্থ – হ্যাঁ

তাপস – মেসোমশাই  তো  SPORTSMAN ছিলেন , ফুটবলার ?

পার্থ – PORT TRUST এ চাকরি টাও সেই সুবাদে ই ,

তাপস – আর মাসিমা , উনি তো দুর্দান্ত RABINDRA SANGEET গাইতেন । গানের গলাটা সত্যি দারুন ছিল ।

পার্থ – ছিল , হ্যাঁ ভাই , তা ছিল , কিন্তু সব ই PAST TENSE . তারা দুজনে ই এখন আশি পার করে গেছেন ,  দুজনে দুজনের সাহায্যে বেঁচে আছেন , দুজনে দিন রাত প্রার্থনা করছেন ভগবান তাদের দিকে যেন একটু মুখ তুলে তাকান ।

তাপস – সে কি রে ?

(৫)  চলবে………

Leave a Reply