DRAMA/নাটক , আমরা কি money / টাকা দিয়ে সব সমস্যা মেটাতে পারি ? family বা পরিবারে আজ এত সমস্যা কেন ? নাটক – নীল তিমি -৩

অঞ্জনা – ( ফোনে ) আজ রাতের পার্টিটা দারুন জমবে , শুনেছি প্রচুর টাকা খরচা করছেন ওরা । দারুন আয়োজন । ৯ টা বাজে, হ্যাঁ , আমি আর দশ মিনিট বাদে বেরচ্ছি , কি বললেন ? আমার কর্তা ? না , সে এখন ও আসেনি , ড্রিঙ্কস ? হ্যাঁ , আরে না না , ওসব সফট ড্রিঙ্কস এখন বাচ্চা দের পার্টি তেও চলেনা , ঐ তো , গত মাসে মিঃ অ্যান্ড মিসেস শর্মা র বাড়িতে বাচ্চার বার্থডে পার্টি ছিল , সবাই মিলে কেক কাটার পর বাচ্চারা বাচ্চাদের মত খেলতে লাগল , আর আমরা ড্রিঙ্কস ENJOY করতে লাগলাম , আরে বাবা , এটাইতো LIFE , তাতে হয়েছে টা কি , অ্যাঁ ? কি বললে ? হ্যাঁ , এখন ই বেরচ্ছি , ওকে , সি ইউ , বাই ।

যাই , পার্টি টা জমিয়ে ENJOY করতে হবে , কল্পনা , আমি বেরোলাম ।

কল্পনা – মা , বলছিলাম যে …

অঞ্জনা – না এখন আর তুমি কিছু বলবে না , আমার বেরোবার সময় কোন কথা না, সব দিক খেয়াল রাখিস ।

কল্পনা – কিন্তু মা ……।

অঞ্জনা – সব এসে শুনবো ।

অঞ্জনার প্রস্থান

ডঃ সৌম্য র প্রবেশ ( একটু টলতে টলতে )

ডঃ সৌম্য – আজ একটু বেশি হয়ে গেছে , এ নে কল্পনা , এগুল রাখ ।

( কল্পনা ডঃ সৌম্য র হাত থেকে ব্যাগ টা নিয়ে রেখে দেয় ) তোর মা কোথায় ?

কল্পনা – মা তো বেড়িয়েছে , মনে হয় কোন পার্টি তে গেছে ।

 ডঃ সৌম্য – পার্টি ? আজ আবার পার্টি ।  স্বস্তিক কোথায় ?

( কল্পনা চুপ করে থাকে )

তোর স্বস্তিক দাদাবাবু কোথায় ?

কল্পনা – আজ্ঞে , ঘরে রয়েছে ।

ডঃ সৌম্য – মাই সন , কোথায় ? ও ঘুমিয়ে পড়েছে ?

কল্পনা – বাবু একটা কথা বলব ?

ডঃ সৌম্য – কি কথা ?

কল্পনা – বড় ভয় হয় ।

ডঃ সৌম্য – ভয় ? কেন ?

কল্পনা – যদিও দাদাবাবু বলতে বারণ করেছে , তবুও না বলে থাকতে পারছিনা , কত্তাবাবু , দাদাবাবুর শরীর ভাল না ।

ডঃ সৌম্য – কেন ? কি হয়েছে ?

কল্পনা – আপনি দেখবেন চলুন ।

ডঃ সৌম্য – আঃ , কি হয়েছে বলবি তো ?

কল্পনা – পক্স , আমার ভাই এর হয়ে ছিল যে ।

ডঃ সৌম্য – কি ? চলতো দেখি ।

( দুজনে এক সাথে স্বস্তিক এর ঘরে যায় , কল্পনা লাইট জালায় , দেখে স্বস্তিক ঘুমোচ্ছে ।) হ্যাঁ , তাই তো , সারা গা , মুখ ভরে গেছে । কিছু খেয়েছে ?

তোর মা কোথায় ?

কল্পনা – বাবু ,আস্তে ।

ডঃ সৌম্য – I AM SORRY , তোর মা জানে ? কোথায় তোর মা ?

কল্পনা – ঐ যে বললাম , পার্টি তে গেছে ।

ডঃ সৌম্য – স্বস্তিক কিছু খেয়েছে ?

কল্পনা – না , সারাক্ষন ছটফট করতে করতে এই একটু আগে ঘুমোলো , আমি আর ডেকে তুলিনি ।

ডঃ সৌম্য – ঠিক আছে , তুই যা , আমি সকালে দেখছি , এখন ঘুমোক । পার্থ  কোথায় ?

কল্পনা – উনি তো চলে গেছেন?

ডঃ সৌম্য – চলে গেছে ? কই কিছু বলল না তো আমাকে ?

কল্পনা – উনি কি একটা জরুরি কাজে এসেছিলেন , তাই ঘুরে গেলেন । আপনি ব্যস্ত ছিলেন বলে বোধ হয় কিছু বলেন নি । উনি পরের সপ্তাহে আসবে বলে গেছেন।

ডঃ সৌম্য – ছেলে টা বড় ভাল ছেলে , স্বস্তিক কে খুব ভালবাসে ।

কল্পনা – আচ্ছা কত্তাবাবু , আপনার খাবার বারি ,

ডঃ সৌম্য – না , আমি খেয়ে এসেছি , তুই যা ।

( কল্পনা চলে যায় )

(ডঃ সৌম্য স্বস্তিক এর ঘর থেকে বেরিয়ে আসে , তার পর নিজে ই নিজেকে বলতে থাকে )

খুব ছোট্ট একটা গ্রামে আমার জন্ম , অভাবের সংসারে আমি মানুষ , টাকার দরকার বেঁচে থাকতে যে কতটা জরুরী তা খুব ছোট থেকে ই বুঝেছিলাম , মা ,  আর আমরা সাত ভাই বোন , বাবা মাত্র CLASS V PASS হলে ও সেই বাবার কাছে ই আমার বাংলা আর ইংরাজি শেখা , আশ্চর্যের ব্যপার , কখন ও কোন খুব কঠিন বানান ও আমার বাবা কে ভুল করতে দেখিনি সে ইংরাজি হোক বা বাংলা ।ধৈর্য ছিল খুব কম তাই বাবা আমাদের খুব কড়া হাতে শাসন করতেন । ভাই বোন এর মধ্যে সবাই মার খেলেও বাবার হাতে আমি কখন ও মার খাইনি , পড়াশোনায় খুব ভাল ছিলাম । অভাব থাকলেও বাবা কে কোন দিন শুধু টাকার পেছনে ছুটতে দেখিনি , সেই পড়াশোনার আলোয় হেঁটেই গ্রাম থেকে শহরে এলাম , মেডিক্যাল কলেজের দিন গুলতেও ছিল বাবার স্নেহের পরশ , আর তারপর যখন ডাক্তার হলাম , চিকিৎসার সাথে টাকা রোজগারের নেশা ও পেয়ে বসল আমাকে ।মা আমার জন্য একটা মেয়ে পছন্দ করেছিল , আমি রিফিউস করেছিলাম , কারন ততদিনে অঞ্জনা কে কথা দিয়ে ফেলেছি। বিয়ের পর কথা দেওয়া আর কথা রাখার তাগিদে ছুটে চলেছি , কেন ছুটছি , কিসের জন্য , কোথায় এর শেষ কিছু ই জানিনা , হয়তো সব জানি , তবু নিজেকে থামাতে পারছিনা ,  অনেকটা সময়ের কাছে নিজেকে গাড়ির ব্রেক ফেলের মত লাগছে । মানুষের সত্যিকারের চাহিদা কি ? সত্যি  যা দরকার না যা যে দরকার  আমরা নিজেরা তৈরি করি ? যদি দরকার হয় , তাহলে কোন গুলো দরকার আর কোন গুলো দরকার নয় সেই বিচারের অক্ষমতায় ভুগছি । আমরা “কোথায় থামতে হবে” সত্যি কি জানি ?

জানিনা বলেই কি এতো দুর্ভোগ ? যে মদ খাবনা বলে চারটে প্রিয় বন্ধুর বন্ধুত্ব ছেড়েছি সেই আমার আজ রোজ প্রতি রাতে কম করে দু পেগ না হলে হয় না ।ও ফ , মাথাটা খুব যন্ত্রণা করছে , খুব ক্লান্ত লাগছে নিজেকে ।

( বলতে বলতে  ডঃ সৌম্য সোফায় গা এলিয়ে দেয় , ও ঘুমিয়ে পরে )

পরের দিন সকাল বেলা

ডঃ সৌম্য – এই যে তুমি ? এতক্ষনে তোমার ঘুম ভাঙল ?

অঞ্জনা – কাল রাত পার্টি করে ফিরতে অনেক দেরি হয়েছিল , উঠতে তো দেরি হবেই । তুমি এখন ও বের হওনি ?

ডঃ সৌম্য – শুধু পার্টি পার্টি আর পার্টি ।

অঞ্জনা – সকাল বেলা সিন ক্রিয়েট করনা ।যা বলার তারা তারি বল ।

ডঃ সৌম্য – তুমি কি মানুষ ? এক মাত্র ছেলে পক্সে কাতর হয়ে বিছানায় সারাদিন ছটফট করছে আর তুমি মা হয়ে একবার খোঁজ পর্যন্ত নাও না ।

অঞ্জনা – ও , তাই নাকি ? স্বস্তিক এর পক্স হয়েছে ? আহারে , তা ডঃ তো   তুমি , আমি কি করব ? তুমি সেবা কর বাড়ি বসে , ছেলে অনেক বড় , অত আদিক্ষেতা করার কিছু নেই ।

ডঃ সৌম্য – আদিক্ষেতা ? আমাদের এক মাত্র ছেলে জ্বরে বেহুশ হয়ে বিছানায় কাতরাচ্ছে , আর তোমার কাছে এটা আদিক্ষেতা ? একটা রুগী কে কি শুধু একজন ডাক্তার ই ঠিক করে , তার মায়ের কোন ভুমিকা নেই ? তুমি তো এমন ছিলে না অঞ্জনা , কেন তুমি এমন আচরন   করছ আজকাল ? এ জীবন তোমাকে মানায় না ।

অঞ্জনা – সস্তা জ্ঞান দিও না তো । আমাকে এখন ই বেরতে হবে । মিসেস গুপ্তা কে কথা দিয়েছি , আজ একবার ওনার বারিতে যাব ।

ডঃ সৌম্য – মিসেস গুপ্তার কথায় মনে পড়ল । গতকাল মিঃ গুপ্তা এসেছিলেন আমার ক্লিনিকে , রুটিন চেক আপ এ , শুনলাম ওনার ACCOUNTS এর পুরো ব্যাপার টা না কি নবিন দেখছে ?

অঞ্জনা – তা আমি কি করে জানব ?

ডঃ সৌম্য – তুমি আজকাল একটু বেশি গুপ্তা দের বাড়ি যাচ্ছ , ওদিকে নবীন ও আছে , দুই এ দুই এ তো চার ই হয় না কি ?

অঞ্জনা – মানে ? WHAT DO YOU MEAN ?

ডঃ সৌম্য – মানে খুব SIMPLE , তোমাদের পুরনো প্রেম জেগে উঠতে পারে ।

অঞ্জনা – সেটা হলে ভাল হত , আরও ভাল হত নবীনের সঙ্গে আমার বিয়ে হলে । তাহলে এরকম নরক যন্ত্রণা ভোগ করতে হত না ।

ডঃ সৌম্য – আমার সাথে বিয়ে হয়ে তোমাকে নরক যন্ত্রণা ভোগ করতে হচ্ছে ? ফর গড সেক , এরকম কথা তুমি বললে তোমাকে সত্যি সত্যি নরক যন্ত্রণা পরকালে ভোগ করতে হবে । আমার সঙ্গে বিয়ে হয়ে তুমি তো রাজার হালে আছ । বলতে গেলে যা খুশি তাই করে বেড়াচ্ছ । তবুও তোমার মন ভরছে না ?

অঞ্জনা – এটাকে রাজার হালে থাকা বলে ? তুমি আমার বাপের বাড়ির স্ট্যাটাস জান না ?

ডঃ সৌম্য – জানি জানি , কিন্তু সে রাম ও নেই , সে অয্যোধ্যা ও নেই ।সত্যি বড় ভাল মানুষ ছিলেন তোমার বাবা , তুমি তার যদি নখের ও যোগ্য হতে ।

অঞ্জনা -হ্যাঁ হ্যাঁ , আমার সব ই খারাপ , সব খারাপ তো বিয়ে করেছিলে কেন ?

ডঃ সৌম্য – কারন তখন তুমি আমার পেছনে হাত ধুয়ে পরেছিলে ।

অঞ্জনা – আমি না , আমার বাবা ।

ডঃ সৌম্য – হ্যাঁ , উনি মানুষ চিনতে ভুল করেন নি , আর আমি মানুষ চিনতে পারিনি ।

অঞ্জনা – কি বললে ?

(৩)  চলবে………

Leave a Reply