নাটক – ভুল, BENGALI DRAMA – VUL

             

নাটক – ভুল ,নাটক – ভুল, নাটক – ভুল, নাটক – ভুল ,নাটক – ভুল ,নাটক – ভুল, নাটক – ভুল, নাটক – ভুল ,নাটক – ভুল ,নাটক – ভুল, নাটক – ভুল, নাটক – ভুল ,নাটক – ভুল ,নাটক – ভুল, নাটক – ভুল, নাটক – ভুল ,নাটক – ভুল ,নাটক – ভুল, নাটক – ভুল, নাটক – ভুল ,নাটক – ভুল ,নাটক – ভুল, নাটক – ভুল, নাটক – ভুল ,নাটক – ভুল ,নাটক – ভুল, নাটক – ভুল, নাটক – ভুল ,নাটক – ভুল ,নাটক – ভুল, নাটক – ভুল, নাটক – ভুল ,নাটক – ভুল ,নাটক – ভুল, নাটক – ভুল, নাটক – ভুল ,নাটক – ভুল ,নাটক – ভুল, নাটক – ভুল, নাটক – ভুল ,নাটক – ভুল ,নাটক – ভুল, নাটক – ভুল, নাটক – ভুল ,নাটক – ভুল ,নাটক – ভুল, নাটক – ভুল, নাটক – ভুল ,নাটক – ভুল ,নাটক – ভুল, নাটক – ভুল, নাটক – ভুল ,নাটক – ভুল ,নাটক – ভুল, নাটক – ভুল, নাটক – ভুল ,নাটক – ভুল ,নাটক – ভুল, নাটক – ভুল, নাটক – ভুল ,নাটক – ভুল ,নাটক – ভুল, নাটক – ভুল, নাটক – ভুল ,

নাটক – ভুল

        লেখক -বিশ্বদীপ মুখার্জ্জী

        (M) – 7439360321

      চরিত্র –                       বয়স

  তন্ময় ( অঙ্কিতা আর অঙ্কুরের বাবা )         45

  দোলন  (অঙ্কিতা আর অঙ্কুরের  মা)          40

  ঝন্টু দাদু  ( বিজ্ঞানী )                   65

  গৌরব  (গৌরব ও সৌরভ দুই ভাই )         12   

  সৌরভ  (গৌরব ও সৌরভ দুই ভাই )         08

  তানিশা  (বান্ধবী )                      13

  কুশল   (বন্ধু )                        12

  রিতম  (বন্ধু )                         13

 অঙ্কিতা (তন্ময় ও দোলন এর বড় মেয়ে )        13

 অঙ্কুর  (তন্ময় ও দোলন এর ছোট ছেলে )        8                    

 সুতপা ( ঝন্টু দাদুর কাজের মেয়ে )            28

তন্ময় – রোজ রোজ দেরি করে বাড়িতে ফেরা তুমি অভ্যাস করে ফেলেছ ।

দোলন – তোমার মত আমার ব্যবসা নয় যে যখন খুশি ঝাঁপ বন্ধ করে বাড়ি চলে এলাম ।

তন্ময় – তাই তো , ব্যবসা মানে ই যখন খুশি ঝাঁপ বন্ধ করা যায় । সেখানে কোনো পরিশ্রম নেই , কোনো কমিটমেন্ট নেই । ব্যবসায়ী রা সব ডুগডুগি বাজিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর রাত হতেই ছাদ ফুঁড়ে টাকা গুলো ঝরঝর করে বিছানায় আকাশ থেকে নেমে আসছে ।

অঙ্কিতা – বা , তাহলে আমরা ব্যবসা ই করব দারুণ ।

অঙ্কুর –  হ্যাঁ , শুধু ডুগডুগি বাজিয়ে ঘুরে বেড়াব , আর রাতের বেলা টাকা উড়ে উড়ে বিছানায় পরবে ।

অঙ্কি্তা – কি মজা , কি মজা ।

দোলন – মারব টেনে এক চড় , অনেক মজা হয়েছে , এবার পড়তে বসে উদ্ধার কর আমাকে ।

অঙ্কিতা – এই তো পড়ে উঠলাম , এখন তো খাবো ।

দোলন – আবার মুখে মুখে কথা ?

তন্ময় – তোরা পাশের ঘরে গিয়ে বস । আমি আসছি । যাও বাবা । ও ঘরে গিয়ে খেল । খাবার হলে মা ডাকবে ।

( অঙ্কিতা আর অঙ্কুর পাশের ঘরে চলে যায় ।) 

 তুমি ওদের শুধু শুধু বকছ কেন ? তুমি তো ওদের পড়াশোনার খোঁজ ই রাখ না । ওরা তো সত্যি ই বলছিল , ওদের হোম ওয়ার্ক হয়ে গেছে । আমি তো বসে বসে এতক্ষণ করাচ্ছিলাম । বাড়িতে এসে এভাবে বাচ্চাগুলোর ওপর চোটপাট কর না ।

দোলন – হ্যাঁ , আমার তো সব ই খারাপ । আমি মানুষ টা ই খারাপ । আমাকে ছাড়া যখন সংসার চলছে তখন আমাকে ছেড়ে দাও না । তুমি ও বাঁচ আর আমি ও একটু বুক ভরে নিশ্বাস নিই ।

তন্ময় – আমি তো তোমাকে ধরে রাখিনি , ছেড়ে ই তো দিয়েছি , নাহলে তুমি চাকরি করতে যেতে পারতে ? আর তা ছাড়া আমরা প্রশ্বাস নিই , নিঃশ্বাসটা কিন্তু  ছাড়ি ।

দোলন – ধুর , আমার ভাল লাগেনা , সব সময় ইয়ারকি মারার মুড থাকে না ।

তন্ময় – সব সময় তোমাকে পাচ্ছি কোথায় যে সব সময় ইয়ারকি মারব ? শোন , তোমার যদি সত্যি ভাল না লাগে , তুমি গিয়ে রেস্ট কর , আমি খাবার বানিয়ে ফেলছি । যাও ।

(দোলন চলে যায় । পাশের ঘরে গিয়ে দরজা দিয়ে  ফোনে কথা বলতে থাকে ।)

দোলন – কি ব্যাপার এতবার ফোন করেছ কেন ? ফোন তো সাইলেন্ট করা ছিল । না , এই তো বাড়ি ফিরলাম । তোমাকে বলেছি না , সব সময় ফোন করবে না , বিশেষ করে রাত আট টা থেকে দশ টার মধ্যে । এখন রাখ , ওকে , পরে দেব , বাই ।

(অন্য দিকে সৌরভ আর গৌরব দুই ভাই ),

( গৌরব আর সৌরভ প্রফেসর ঝন্টু র খুব ন্যাওটা , তার একটা খুব স্বাভাবিক কারণ হল , গৌরব  আর সৌরভ এর বাবা মা এর ছাড়াছাড়ি । সেই ছোট্ট , একদম ছোটবেলায় , যখন  গৌরব এর বয়স মাত্র চার আর সৌরভ সবে তিন দিনের , ওদের মা , বাবা কে ছেড়ে বাপের বাড়িতে থেকে যায় । কারণ টা ভাল করে জানা না গেলে ও কানাঘুষো শোনা যায় কারণ টা না কি টাকা পয়সা সংক্রান্ত । ওদের মধ্যে যে বড়,  মানে  গৌরব  র এখন বারো বছর আর সৌরভ এর  মাত্র আট বছর বয়স। বড় বাড়ি , উঠোন , দালান , বাগান সব আছে , দাদুর দিদার মোটা ব্যাংক ব্যালেন্স আছে , শুধু বাবা র ভালবাসা নেই , পার্থিব সব কিছু পেলে ও বাবার ভালবাসা টা ওরা পাইনি , যদিও   গৌরব  মাত্র চার বছরেই কিছুটা বাবা র ভালবাসা পেয়েছে কিন্তু সে তো মাত্র চার বছর অবধি , সে কি ওর মনে আছে ? কে জানে । এমনি সময় নিজেদের পড়া আঁকা এসবে ব্যস্ত থাকলেও ওদের বয়সি কোন ছেলে মেয়ে বাবা মায়ের হাত ধরে রাস্তায় যায় , বা স্কুল ছুটির সময় যখন সবার বাবা মায়েরা তাদের ছেলে মেয়ে দের নিতে আসে তখন ওরাও মনে মনে ওদের বাবা মা কে খোঁজে । জানে বাবা আসবে না , কিন্তু মা থেকে ও আসেনা , তাই অগত্যা দাদু বা দিদার হাত ধরে বাড়ি ফিরতে হয় । কথায় বলে মামা বাড়ি খুব আদরের , কিন্তু বাবা র বাড়ি ? বাবা ? দিন টা রবিবার , দুই ভাই সকালে পড়াশোনা করে তার পর খেলছে )

সৌরভ – আচ্ছা দাদা , তুই বাবা কে দেখেছিস ? তোর মনে আছে বাবা কে ।

গৌরব – হ্যাঁ , মনে আছে । সব মনে আছে । সব থেকে বেশি মনে আছে বাবার হাতের রান্না । মা র থেকে অনেক ভাল ।

সৌরভ – তুই সব সময় বাবার প্রশংসা করিস । বাবা যদি এত ই ভাল তাহলে মা ছেড়ে চলে এল কেন ?

গৌরব – সেটা আমি বলতে পারব না । ওদের ব্যক্তিগত ব্যাপার ।

সৌরভ – তা ঠিক ।

গৌরব – তোর কি হয়েছে রে ভাই , আজ হঠাৎ বাবার কথা বললি কেন ?

সৌরভ – না রে দাদা , কিছু না ।

গৌরব – কিছু তো একটা হয়েছে , তুই আমাকে ও বলবি না ?

সৌরভ – কাল স্কুলে প্যারেন্টস মিটিং ছিল । অনেকের ই বাবা মা এসেছিল ।

শুধু আমার ই

গৌরব – মন খারাপ করিস না ভাই ।

সৌরভ – মন খারাপ করব কেন ? আমি কি বাবা কে দেখেছি না কি ?

আচ্ছা দাদা , আমি তোকে একটা কথা জিজ্ঞেস করব ? তুই আবার সেই কথা টা সবাই কে বলে দিবি না তো ?

গৌরব – নিশ্চিন্তে বল ।

সৌরভ – দিদা খুব মিথ্যে কথা বলে না রে ?

গৌরব – কি ভাবে বুঝলি ?

সৌরভ -পরশুদিন সুধাকর দাদু এসেছিল , এত বড় এক হাঁড়ি মিস্টি নিয়ে , ও মা , কাল সকালে দাদু যেই দিদার কাছে মিস্টি চেয়েছে , দিদা বলল মিস্টি নেই ।

গৌরব – তার পর ।

সৌরভ – বলে মিস্টি আনার জন্য টাকা চাইল । দাদু টাকা দিয়ে ও দিল । কিন্তু সুধাকর দাদুর আনা মিস্টি ই দিদা দাদু কে দিল । আবার টাকা ও নিয়ে নিল ।

গৌরব – সত্যি , দিদা কি মিথ্যুক রে ।

সৌরভ – আরে , এ তো একটা , এরকম আর ও অনেক ঘটনা আছে ।

গৌরব – আবার আমাদের জ্ঞান দেয় । বলে , আমরা যেন সব সময় সত্যি কথা বলি ।

সৌরভ – এমন কি আমাদের ও একটা মিষ্টি ও দিল না বুড়ি টা । সব নিজেই সাটিয়ে দিয়েছে ।

 গৌরব – আমাকে দেয়নি আমার দুঃখ নেই , কিন্তু তোকে ও দেয় নি । দাড়া , দেখাব একদিন এমন মজা । বুঝবে ।

সৌরভ – কি করবি ?

গৌরব – বুড়িটা ঝাল একদম সহ্য করতে পারে না । দেব একদিন তরকারিতে শুকনো তিখা লাল মিশিয়ে । বুঝবে ঠেলা ।

সৌরভ – হি হি হি হি ।

গৌরব – বাবার নামে আমাদের কাছে সব সময় খারাপ খারাপ কথা বলে । আমাদের স্কুলের পূর্ণা মিস তো বলেছে , যে নিজে ভাল নয় সেই শুধু অন্যের নামে অ কথা কু কথা বলে বেড়ায় । ঠিক ই তো , তুমি নিজে ভাল হলে অন্যের নামে নিন্দা করতে ? করতে না ।

সৌরভ – আরে দাদা , সব ই তো আমাদের বানিয়ে বানিয়ে বলে । সব ঢপের চপ ।

গৌরব – হি হি হি হি । তুই ও শিখে গেছিস , ঢপের চপ । হি হি হি হি ।

সৌরভ –  চল দাদা , ঝন্টু দাদুর ল্যাবটারিতে যাই ।

গৌরব – তাই চল ।

( প্রফেসর ঝন্টু কে সবাই এক কথায় চেনে , দেশ বিদেশে ওনার প্রচুর নাম । নানা রকম আবিষ্কার করে দেশের মুখ উনি কতবার যে উজ্জ্বল করেছেন তার ইয়ত্তা নেই , আসলে প্রফেসর ঝন্টুর গৌরব আর সৌরভ কে ভালোবাসার একটা বিশেষ কারণ আছে , সেটা ওনার একান্ত ই ব্যক্তিগত , উনি নিঃসন্তান , বিয়ে করার বছরেই একটা পথ দুর্ঘটনায় ওনার স্ত্রী মারা যায় । সুতপা ওনার বাড়ির সব কাজ করে দেয় আর ওনার বাড়িতেই থাকে । যদিও প্রফেসর ঝন্টু ভীষণ ব্যস্ত মানুষ , তবু , গৌরব আর সৌরভ কে ওনার ভাল ই লাগে । )

গৌরব আর সৌরভ দু-দিন ধরেই খেয়াল করে দেখছে ঝন্টু দাদু নিজের কাজে ভীষণ ব্যস্ত । নানা রকম কাঁচের বিকার , জার , নানা রঙের বোতল যা খুললেই ধোঁয়া বের হয় ।চারিদিকে প্রচুর বই ছড়ানো , গৌরব জানে যে ঐ বইগুলো সব বিজ্ঞানের বই ।   গৌরব সৌরভ এসবের কিছু না বুঝলেও এটুকু আন্দাজ করতে পারে এখন ঝন্টু দাদু কে ডাকা ডাকি করা উচিত নয় । গৌরব মনে মনে ভাবে সে ও একদিন মস্ত বড় বিজ্ঞানী হবে । ঝন্টু দাদুর মত দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে আর বাবাকে খুঁজে বের করবে । বড় হয়ে গেলে নিজে যা খুশি করতে পারবে । অকারণে মার খেতে হবে না । কেউ মিথ্যে কথা বলে ভুল বুঝিয়ে রাখতে পারবে না ।

ঝন্টু দাদু – কি , হবু ম্যাজিশিয়ান , কী খবর ?

সৌরভ – ভালোই । তুমি কি করছ দাদু ।

ঝন্টু দাদু – আমি , আমি কাজ করছি দাদু ।

সৌরভ – আবিষ্কার করছ ? আবিষ্কার ?

ঝন্টু দাদু – সেই রকম ই কিছু একটা করার চেষ্টা করছি দাদুভাই । তোমাদের তো আজ ছুটি , তাই এখানে বুঝি ।

সুতপা –  তোমরা এখানে , এই ঘরে ঢুকো না , এখানে দাদুর সব দরকারি জিনিস রাখা ।

ঝন্টু দাদু – থাক সুতপা , তুই যা , ওরা কিছুতে হাত দেবে না । ওরা লক্ষ্মী ছেলে , তাই তো ।

সৌরভ –   আমি বড় হয়ে ম্যাজিশিয়ান হব আর দাদা বিজ্ঞানী । তাই তো এখানে দাদুর কাছে আসি দাদুর কাজ দেখতে ।

সুতপা –  তোমরা এখান থেকে দেখেই দাদুর কাজ সব শিখে যাবে ?

সৌরভ – হ্যাঁ , যাবই তো ।

গৌরব – বাবা বলতেন  , একজন বিজ্ঞানী ই সত্যিকারের ম্যাজিশিয়ান ।

 দাদু , টেবিলে ঐ সাদা সাদা ও গুলো কি গো ।

ঝন্টু দাদু – কি বলতো দাদুভাই ,

গৌরব – নতুন কিছু ।

ঝন্টু দাদু- তা তো বটেই । এখন নয় , সময় এলে ঠিক বলব । তারপর বল , তোমাদের পড়াশোনা ঠিকঠাক হচ্ছে তো ।

সৌরভ – হ্যাঁ , তুমি তো বলেছ , ভালো করে পড়াশোনা না করলে ম্যাজিশিয়ান  হতে পারব না । আমাদের তো ভাল করে পড়াশোনা করতেই হবে দাদু ,তুমি দেখ দাদু ,  ম্যাজিক আর বিজ্ঞান দিয়ে আমি আর দাদা ,  বাবা কে ঠিক খুঁজে আনব ।

ঝন্টু দাদু (সৌরভ আর গৌরব এর কাঁধে হাত দিয়ে )   – হ্যাঁ দাদুভাই ,ম্যাজিকের মধ্যে লুকিয়ে হাজারো অঙ্ক ।এই পৃথিবীতে জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি চলছে অঙ্কের খেলা । যে যত ভাল অঙ্ক কষতে পারে , জীবন যুদ্ধে তার জয়ী হওয়ার সুযোগ সব থেকে বেশি ।

 আমি  বিশ্বাস করি , তোমরা একদিন ঠিক তোমাদের বাবাকে খুঁজে পাবে ।এবার যাও দাদুভাই , অনেক বেলা হল ।

(গৌরব আর সৌরভ বেড়িয়ে যায় , কিন্তু দরজার পরদার বাইরে যেতেই শুনতে তে পায় ),

  গৌরব এর চোখে শিশি টা পরেছে । ওরা জানেনা আমার আবিষ্কারের এই বড়ি একটা খেলে এক বছর জলের তলায় থাকা যায় । যত গভীরে খুশি যাওয়া যায় । যে এই বড়ি খাবে সে একবছর অবধি ডুববে ও না , কিছু হবে ও না ।

(ওরা দুই ভাই কথা টা শুনে দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে  বেড়িয়ে যায় ।

সেদিন রবিবার ছুটি হলেও ওরা দুজনে ম্নায়ের দেখা পায় না ,মা আর দিদা নাকি কোথায় বেরিয়েছে । এরকম   ছুটির দিনে মা আর দিদা ওদের রেখে কোথায় যেন যায় , জিজ্ঞেস করলে জুটেছে ধমক ।  কিন্তু তবু ওরা নিজেরাই পাশের আঁকার ক্লাসে যায় , নিজেদের  হোমওয়ার্ক করে নেয়, তার প্রযুক্তির অভ্যাস বশত তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পরে পরের দিন সকালে স্কুল আছে বলে ।

পরের দিন স্কুলের টিফিন টাইমে সবাই এক হয় , আসলে টিফিনে যে যে ক্লাসে ই পড়ুক না কেন , টিফিনের সময় টা যেহেতু এক , তাই ঐ সময় ওরা সবাই এক হয়ে কথা বলে টিফিন খায় । )

তানিশা – সামনে দুর্গা পূজা আসছে , খুব মজা বল ?

রিতম – মজা বলে মজা । দারুণ মজা , নতুন জামা , জুতো , আর সারা দিন খাওয়া দাওয়া ।

তানিশা – তোর শুধু খাওয়া আর খাওয়া , তাতে পুজার কি দরকার । তুই তো  সকাল থেকে রাত অবধি সুযোগ পেলে ই সদ্ব্যবহার করছিস ।

কুশল – সুযোগ পেলে না , বল সুযোগ করে নিয়ে ।

রিতম – তা ভাই তোরা যাই বলিস , সপ্তমী তে ভেটকি র ফিসফ্রাই , পাবদা মাছের ঝাল , দই কাতলা , মুরি ঘন্ট , সব বাড়িতে বানানো । রায়গঞ্জ থেকে বড়দি-জামাইবাবু  , বাটানগর থেকে মেজদি , মেজ জামাইবাবু আসতে পারবেনা এবা্র , কিন্তু মেজদি তুতু কে নিয়ে ঠিক আসবে । অষ্টমী তে অঞ্জলি দিয়ে ফুলকো ফুলকো লুচি , সঙ্গে  ছানার তরকারি , সিমুই , বোঁদে । ওইদিন পুরো লুচির ওপর থাকব । এবার নবমী , নবমী তে পাঁঠার মাংস , রেওয়াজি খাসি নয় , একদম কচি পাঁঠা র মাংস । আর দশমী তে তো নিমকি গজা মিহিদানা আর মিষ্টির বন্যা বইবে । বুঝলি কিছু । একেই বলে পূজা ।

তানিশা – সত্যি , তুই খেতে কি ভাল ই না বাসিস রে । এসব শিখলি কোথা থেকে ?

রিতম – বাবার কাছ থেকে , বাবা খেতেও ভালোবাসে , খাওয়াতেও ভালোবাসে ।

তানিশা – সত্যি , আঙ্কেলের জবাব নেই । কুশল , তোর ।

কুশল – আমার জামা , প্যান্ট হতে শুরু করে দিয়েছে । যদি ও জামা প্যান্ট তৈরির ব্যাপারে  এখন পূজা বলে আর কিছু নেই , যখন দরকার , তখন ই বাবা বানিয়ে দেয় । তবুও পুজার সময় দশ বারোটা তো নতুন হবে ই । আর আমার নতুন জামা প্যান্ট পরতে দারুণ লাগে । সকালে একটা , বিকেলে একটা । পুরো জমে ক্ষীর ।

সবাই – হি হি হি হি

তানিশা – আমি এবার পূজায় থাকছি না । লম্বা ছুটি তাই লম্বা ট্যুর , বাবা , মার সাথে কাশ্মীর ।

অঙ্কুর – সত্যি , তোর বাবা মা ,তোকে নিয়ে  প্রতি বছর কোথাও না কোথাও বেড়াতে যায় । তাই না ?

অঙ্কিতা – এই দিক থেকে তুই খুব লাকি ।

তানিশা – সেটা বলতে পারিস । কি রে , তোরা চুপ চাপ কেন রে ?

গৌরব – আমাদের পূজা বাড়িতেই কাটে । আমি ভাই এর সাথে আর ভাই আমার সাথে ।

অঙ্কিতা – হ্যাঁ , কি আর করবি বল , তোর তো বাবা মা একসাথে থাকে না ।

তার পর শুনেছি তোর মা ও নাকি তোদের কে সময় দেয় না । হা হা

তানিশা – ওভাবে বলছিস কেন ওদের ? তোর কিন্তু এটা খুব খারাপ স্বভাব অঙ্কিতা । অন্যের কষ্টে আনন্দ পাওয়া ।

কুশল – ওরা কিন্তু খুব চুপ চাপ । এই গৌরব , তুই সব সময় চুপ করে থাকিস কেন ? তোকে এভাবে অপমান করে , তুই কিছু বলতে পারিস না ?

গৌরব – ঝন্টু দাদু বলে , তুমি শুধু নিজেকে শোধরাতে পারবে , অন্য কে নয় , আর তার চেষ্টাও কোনোদিন মূর্খের মত করতে যেও না ।

অঙ্কুর – মানে তুই আমার দিদি কে ঘুরিয়ে ।মূর্খ বললি ?

সৌরভ – পেছনে না লেগে নিজের পড়াশোনা টা মন দিয়ে কর না । আমার বাবা যদি আমার কাছে না থাকে তাতে তোর কি ?

অঙ্কিতা – থাকে না বলে ই তো মুখ বন্ধ করে একা একা ঘুরে বেড়াস ।

সৌরভ – কেন ? এই ভাবে । (অঙ্কিতার মুখের সামনে নিজের মুখ টা নিয়ে গিয়ে ভেঙ্গাতে থাকে )

গৌরব – ছেড়ে দে ভাই , চলে আয় ।

সৌরভ – “ক্ষুদ্র আমি তুচ্ছ নই” – মনে রাখিস কথা টা । 

তানিশা – ঝগড়া করিস না , মিস দেখলে অসুবিধা হবে ।আমরা প্রতি বছর ঘুরতে যাই কেন জানিস ? বাবা বলে , প্রতি বছর আমাদের একটা বড় আর একটা ছোট ট্যুর অবশ্যই করা উচিত । বেড়ানো ই মন ভাল রাখার এক মাত্র ওষুধ যার কোন  বিকল্প নেই ।

গৌরব – তোর সুযোগ আছে তুই ঘুরতে যাস । সবার কি সে সুযোগ থাকে ? তবে আমিও একদিন সারা পৃথিবী ঘুরব , যেদিন নিজের পায়ে দাঁড়াব ।

তানিশা – তুই পারবি । আমার বাবা , মা তোর খুব প্রশংসা করে , তুই ক্লাস টপার , শুধু তাই নয় , তুই খুব ভদ্র,  সভ্য ।

সৌরভ – এই তানিশা , তুই কি আমার দাদা কে লাইক করিস রে ?

গৌরব – ভাই , পাকামো নয় ।

সৌরভ – পাকামির কি আছে , যা দেখছি তাই বলছি ।

গৌরব – ওর কথায় তুই কিছু মনে করিস না , ও ফট ফট করে বলে দেয় ।

তানিশা – আমি কি ওর কথায় কিছু মনে করতে পারি , মিষ্টি ভাই আমার । চল , সময় প্রায় শেষ , এবার ক্লাসে যাওয়া যাক ।

সবাই – হ্যাঁ , তাই চল ।

( দুপুরে বাড়ি ফিরে গৌরব আর সৌরভ স্নান খাওয়ার পর )

সৌরভ – এই দাদা , কি ভাবছিস তখন থেকে ?

গৌরব – জানিস ভাই , ঝন্টু দাদু মনে হয় দুর্দান্ত একটা জিনিস আবিষ্কার করেছে ।

সৌরভ -হ্যাঁ ?

গৌরব- বুঝে বলছিস না , না বুঝে ?

সৌরভ- না বুঝে কেন বলব ,  সেদিন শুনলাম ত, ঐ ছোট্ট শিশি তে সাদা সাদা বড়ি গুলো । ও , আচ্ছা , এবার বুঝেছি , তুই ঐ কথা টা ই ভাবছিস সব সময় ।

গৌরব- হ্যাঁ রে ভাই ।

সৌরভ- এতে ভাবার কি আছে , চল , ঝন্টু দাদুকে জিজ্ঞেস করি ব্যাপার টা ।

গৌরব – যদি ঝন্টু দাদু কিছু মনে করে ?

সৌরভ- না জিজ্ঞেস করা টা ই অন্যায় হবে । মনে যখন এসেছে ,চল দাদা ,  জিজ্ঞেস করে ফেলি ।

গৌরব – তাই চল ।

( ওরা দুজনে মিলে ঝন্টু দাদুর ল্যাব এ যায় । )

ঝন্টু দাদু – কি ব্যাপার , তোমরা ঘুমাও নি দুপুরে ? রাতে পরতে কষ্ট হবে না ?

গৌরব -না না ,  তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করব ?

একটু বস দাদু , আমি হাতের কাজ টা সেরে নিই , পাঁচ মিনিট ।

( ওরা নিজেদের মধ্যে কথা বলতে থাকে , পাঁচ মিনিট বাদে ঝন্টু দাদু হাত মুছতে মুছতে আসে ) ।

 গৌরব – তুমি ও তো আজ দুপুরে রেস্ট নিলে না ?  

ঝন্টু দাদু – আমার রেস্ট নেবার সময় নেই এখন দাদুভাই । বল , এই দুপুরে কি মনে করে ?

সৌরভ- এই দাদা , বল ।

গৌরব – আচ্ছা দাদু , কাল যখন আমরা বেড়িয়ে যাচ্ছিলাম , তুমি তখন ঐ সাদা বড়ি এগুলোর কথা কি বলছিলে । ওটা খেলে এক বছর জলের তলায় থাকা যাবে ?

ঝন্টু দাদু – শুনে ফেলেছ তা হলে ।আগে বল , তোমরা এটা আর কাউকে বলেছ ?

গৌরব- না দাদু , তাই তো তোমার কাছে জানতে এলাম ।

ঝন্টু দাদু –  আমি খুব খুশি হয়েছি , তোমরা আমার কাছে ই জানতে এসেছ ।

সৌরভ- আমরা এখানকার কোনো কথা কাউকে বলি না দাদু ।

ঝন্টু দাদু – হ্যাঁ , জান তো , ভাল জিনিসের শত্রুর অভাব নেই । আমাদের এখান কার কোনও কথা কাক পক্ষী তেও যেন টের না পায় ।

সৌরভ- পাবে না দাদু ।

ঝন্টু দাদু – তাহলে শোন দাদু , এ আমার চল্লিশ বছরের সাধনার ফল । যবে থেকে বিজ্ঞানের সেবা করতে শুরু করেছি , এই জিনিস আবিষ্কার ই ছিল আমার এক মাত্র লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য । মানুষের শ্বাস কষ্ট , হাঁপানি , এসব নিয়ে কাজ করতে করতে আমার মাথায় এসেছিল এই বিশ্বায়নে যে ভাবে উষ্ণতা বাড়ছে , আন্টারটিকা থেকে বরফ গলতে গলতে এক সময় এমন দিন আসবে যখন পৃথিবী জলের তলায় চলে যাবে । আবিষ্কার সেদিন আমি থাকব না , কিন্তু আমরা মানে যারা বিজ্ঞানী তারা নিজেদের কথা ভাবে জীবন কাটায় না , আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য সব সময় মহৎ , তাই সেদিন আমি না থাকলেও মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই যাতে শেষ না হয় তার জন্য এই বড়ি আবিষ্কার । এই বড়ি একটা খেলে মানুষ এক বছর জলের তলায় থাকতে পারবে । সাঁতার না জেনে ও । অক্লেশে ।

ইঁদুর কে খাইয়ে টেস্ট আমি করেছিলাম , সম্পূর্ণ সফল । তার পর মানুষ হিসেবে আমি নিজেই নিজেকে টেস্টের মধ্যে ফেলেছিলাম । আমি সম্পূর্ণ সফল । খুব জটিল এইএই

সৌরভ- পেটেন্ট কি দাদু ?

গৌরব- স্বীকৃতি , তাই না দাদু ।

ঝন্টু দাদু – একদম ঠিক বলেছ দাদু । পেটেন্ট হওয়া মানে তমার নামে ঐ জিনিস টা হয়ে গেল । আর কেউ চুরি করতে পারবে না ।

সৌরভ- আমাকে একটা বড়ি দাওনা দাদু , আমি আমাদের বাড়ির পেছনের পুকুরটায় নামব । নেমে খুঁটি নাটি সব দেখে আসব ।

ঝন্টু দাদু – দেব দাদু , তবে এখন ই নয় । কদিন পরে । তবে তুমি একা নয় , আমরা তিনজন একসাথে পুকুরে নামবো । কারণ ডোবার ভয় না থাকলেও অন্য অনেক বিপদ জলের তলায় থাকতে পারে । যেগুলো অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই । তাই একটা দিন ঠিক করে আমরা তিন জন তিনটি বড়ি খেয়ে জলে নেবে পুকুরের ভেতর টা ভাল করে দেখব ।

সৌরভ – ওকে দাদু , ডান ।

গৌরব- ডান ।তাহলে এখন দাদু আমরা যাই । কাল দুপুরে আসব ।

ঝন্টু দাদু – এস দাদুভাই ।

গৌরব- চল ভাই ।

সৌরভ – চল ।

( সেদিন বিকেলে গৌরব আর সৌরভ পার্কে বেড়াতে গিয়ে দেখে অঙ্কিতা আর অঙ্কনের মা দোলন আন্টি অনুপম আঙ্কেলের সাথে কথা বলছে । )

দোলন – কি ব্যাপার , হঠাৎ জরুরি তলব , এভাবে আমাকে যখন তখন ডাকলে কি আমি আসতে পারি ? আমার কি কাজ কর্ম নেই ?

অনুপম – তোমার এখন সব কাজ শুধু আমার সাথে । সামনে মাসে তো তুমি আমার কাছে চলে ই আসছ ।

দোলন – এখন ও তো আসিনি ।

অনুপম – এভাবে বল না । সেই বিয়ের সময় থেকে আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করে আছি , সেটা তো তুমি জান ।

দোলন – জানি , তাই আমি সেদিন থেকে ই তোমাকে বলে আসছি ভূত নামাও , একটা ভাল মেয়ে দেখে বিয়ে করে সুখী হও । এভাবে পরের বউ কে নিয়ে টানাটানি করো না ।

অনুপম – এত দূর এগিয়ে এখন তুমি এসব বলছ ?

দোলন – আচ্ছা , ঠিক আছে , বলব না , এবার বল , কি জন্য ডেকেছিলে ।

অনুপম – তেমন কিছু না , তোমাকে দেখতে ইচ্ছা করল , আর তাছাড়া আমাদের নতুন সংসার কি ভাবে শুরু হবে তার তো একটা প্ল্যানিং চাই , সেই আলোচনা করব বলে তোমাকে ডাকা । চল , ওখানে বসা যাক ।

দোলন – কেউ দেখে ফেললে ?

অনুপম – তুমি তো আমার কাছে চলে ই আসছ , এখন কেউ দেখে ফেললেও কি আর না দেখলে ই বা কি ।

দোলন – চল

((গৌরব আর সৌরভ সব দূর থেকে দেখে , তার পর বাড়ি চলে আসে ,  কিন্তু কাউকে কিছু বলে না ।

পরের দিন স্কুলে টিফিন টাইমে ওরা সবাই এক হয়ে )

গৌরব – এই ভাই , কি ভাবছিস ?

সৌরভ – ভাবছি এটা কি ভাবে সম্ভব ।

গৌরব – কোন টা ?

সৌরভ – এই যে , মানুষ ডোবে না কি ভাবে ?

গৌরব – চুপ ।

সৌরভ – আরে আমি ওসব কিছু বলছি না ।

গৌরব – শোন , সবাই আসছে , কালকের বড়ির প্রসঙ্গ ছেড়ে যা খুশি আলোচনা কর ।

সৌরভ- ওকে ।

( সবাই চলে আসে ),

 সৌরভ- (সবাই কে বলে) , আজ কে আমাদের টপিক হল জলে না ডোবা ।

রিতম – এ আবার কেমন টপিক ?

গৌরব – তুই সাঁতার জানিস ?

রিতম – না

গৌরব – কুশল , তুই ?

কুশল – না রে ।

গৌরব- আমাদের এই পৃথিবীতে এমন একটা জলাশয় আছে যেখানে তুই সাঁতার জানিস বা না জানিস , কোন ম্যাটার করে না , ঐ জলাশয়ের জলে তুই ডুববি না ।

অঙ্কিতা – ঢপের চপ ।

সৌরভ- এই , আমার দাদা ভাই তোর মত ঢপ দিয়ে বেড়ায় না । সত্যিকারের  জ্ঞান অর্জন করে তার পর কথা বলে , বুঝলি , ও তুই বুঝবি না । তোর তো জ্ঞান ই নেই ।

কুশল – এটা ঠিক , গৌরব বাজে বকার ছেলে না । তুই বল তো গৌরব , আমরা শুনব ।

তানিশা – হ্যাঁ , কনটিনিউ ,কনটিনিউ ।

গৌরব – মৃত সাগর বা ডেড সি বলে একটা জলাশয় আছে , সাগর বললেও এটা আসলে সাগর নয় , হ্রদ । লবণাক্ত হ্রদ । পৃথিবীর অন্যান্য সাগরের তুলনায় মৃত সাগরের জল দশগুণ বেশি লবণাক্ত হওয়ায় এই জলে তুই চাইলেও ডুবতে পারবি না । তবে অতিরিক্ত লবণের পরিমাণের জন্য এই হ্রদে মাছ বা অন্য কোন প্রাণী বেঁচে থাকতে পারে না । তাই একে মৃত সাগর বা ডেড সী  বলে ।

রিতম – এই হ্রদ টা কোথায় রে ?

গৌরব – মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মৃত সাগরের পূর্ব সীমান্তে জর্ডান আর পশ্চিম সীমান্তে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন । ওয়ার্ল্ড ম্যাপ নিয়ে বসলে বুঝতে পারবি ।

তানিশা – হ্রদ যখন তখন খুব গভীর নিশ্চয় না ?

গৌরব – না তো । বর্তমানে এর সর্বোচ্চ গভীরতা 1240 ফুট । দীর্ঘ 67 কিলোমিটার আর প্রস্থ 18 কিলোমিটার ।

কুশল – বিশেষত্ব ?

গৌরব – প্লবতা ।

অঙ্কিতা – সেটা আবার কি ?

গৌরব – প্লবতা হল  জলে ভাসমান কোন জিনিসের ওপর জলের ঊর্ধ্বমুখী বল । যেমন ধর , কোন বস্তু কে জলে ছেড়ে দেওয়া হলে বস্তুর ওজন নিচের দিকে একটা বল প্রয়োগ করে । সেই সঙ্গে জল ও বস্তুটাকে ওপরের দিকে ঠেলে দেয় । বস্তুর ওজন বেশি হলে বস্তু ডুবে যায় আর জলের ঊর্ধ্বমুখী বল বেশি হলে বস্তুটি জলে ভাসতে থাকে । আসল মজা টা এখানেই , অত্যধিক লবনাক্তের কারণে এখানে জলের প্লবতা এত ই বেশি যে মানুষ সাঁতার না জেনেও ভেসে থাকতে পারে ।

সৌরভ – আরিব্বাস ।

গৌরব – লবণের পরিমাণ 34.2 শতাংশ । সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক নিচে অবস্থানের কারণে এখানে প্রচুর অক্সিজেন আছে , অতিবেগুনী রশ্মির প্রভাব কম , অত্যধিক লবণাক্ত হওয়ায় জল খুব দ্রুত বাষ্প হয়ে উড়ে যায় । পরে থাকে খনিজ পদার্থ , এসব কারণে চিকিৎসা শাস্ত্রের জন্য দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ।

সৌরভ – (অঙ্কুর আর অঙ্কিতা কে দেখিয়ে)  বুঝলি ?

অঙ্কুর – খুব ইন্টারেস্টিং , তাই না দিদি ।

সবাই – হাততালি দিতে থাকে ।

( এর পর টিফিনের ঘণ্টা বাজলে সবাই ক্লাসে চলে যায় ) ।

(পরের দিন দুপুর বেলা খাওয়া দাওয়া র পর গৌরব আর সৌরভ শুনতে পায় ঝন্টুদাদুর গলা । সাধারণত ঝন্টু দাদুর গলা বাইরে থেকে শোনা যায় না , উনি অত্যধিক ঠান্ডা প্রকৃতির মানুষ । কিন্তু কি এমন হল যে ……।)

গৌরব-  চলতো ভাই , দেখে আসি , ঝন্টু দাদু রেগে গেছে বলে মনে হচ্ছে ।

সৌরভ – তাই চল ।

(গৌরব আর সৌরভ এক দৌড়ে ঝন্টুদাদুর ল্যাবটারিতে গিয়ে হা হয়ে যায় )

গৌরব- এ কি দাদু , তোমার ল্যাবটারির এ কি অবস্থা ?

ঝন্টুদাদু – আর বল না দাদু , সর্বনাশ হয়ে গেছে । ( সুতপাকে ) আর এখন মুখ কাঁচুমাচু করে দাঁড়িয়ে থেকে কি হবে , যা হওয়ার তো ঘটিয়ে ফেলেছ ।

গৌরব- কি হয়েছে দাদু ?

ঝন্টুদাদু – তোমরা তো জান , আমি কত সাবধানে থাকি , কাউকে এখানে ঢুকতে দিই না , কাল সুতপা কে বলেছিলাম , ঘরটা পরিষ্কার করতে । দরকারি কোনো জিনিসে যেন হাত না দেয় । পরিষ্কারের ঠেলায় ও আমার ফর্মুলার নোটবুক টা ও ময়লার ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছে ।

গৌরব- এতো সত্যি ভয়ংকর সর্বনাশ ।

ঝন্টুদাদু – তবে আর বলছি কি ।

সৌরভ – আর বড়ি গুলো ?

ঝন্টুদাদু – কাল রমেন এসেছিল , মানে , চেন তো ?

গৌরব- হ্যাঁ , রমেন কাকু , যে তোমার বাজার দোকান করে দেয় ?

ঝন্টুদাদু – হ্যাঁ , ওর আর ওর বাড়ি সুদ্ধ সবার জ্বর । সুতপা ঐ বড়ি এগুলোকে হোমিওপ্যাথি জ্বরের ওষুধ ভেবে রমেন কে একটা  খাইয়ে দিয়েছে বাকিটা বাড়িতে গিয়ে বউ বাচ্চা কে খাইয়ে দিতে বলেছে ।

গৌরব- তোমার ফরমুলা মনে নাই ?

ঝন্টুদাদু – সে কি যে সে ফরমুলা দাদুভাই , আমার চল্লিশ বছরের সাধনার ফরমুলা । যাক , আর কি করা যাবে ,

সৌরভ – তাহলে কি করবে দাদু ?

ঝন্টুদাদু – আজ রাত থেকেই আবার কাজে লেগে পরতে হবে । আমরা বিজ্ঞানী , আমাদের হতাশার কোনো জায়গা নেই । দাঁড়িয়ে আছিস কেন ? বিকেল চারটে বাজতে জায় , এক কাপ চা তো খাওয়াবি না কি ?

সুতপা – আমার ভুল হয়ে গেছে , আমাকে ক্ষমা করে দেন , আমাকে তাড়াবেন না । আমার কোথাও আর যাবার জায়গা নেই ।

( বলে সুতপা ঝন্টুদাদুর পা ধরে কাঁদতে থাকে ) ।

ঝন্টুদাদু – ওরে ওঠ ওঠ , কাঁদিস না । কোথাও যেতে হবে না তোকে , আমি এখান থেকে ই তোর বিয়ে দেব । তখন সোজা শ্বশুর বাড়ি যাবি । হল তো ? নে , এবার পা ছাড় , এক কাপ চা খাওয়া আর দাদুদের জন্য হরলিক্স করে নিয়ে আয় । সঙ্গে বিস্কুট আনতে ভুলিস না যেন ।

সুতপা – এখুনি নিয়ে আসছি ।

( ফ্রিজ )

গৌরব- এই হচ্ছে বিজ্ঞানী , আমি বড় হয়ে ঝন্টু দাদুর মত হব ।

সৌরভ – কত বড় একটা জিনিস ঘটে গেল , আর ঝন্টু দাদু কে দেখ , এমন ভাবে রয়েছে যেন কিছু ই ঘটেনি । সত্যি দাদা ভাই , আমরা ছোট ছোট জিনিসেও এমন রিআক্ট করি যেন কি না কি হয়ে গেছে । তাই না ?

গৌরব- চল্লিশ বছরের সাধনার ফল ? এভাবে নষ্ট হল ,  ভাবা যায় ? আমাদের দিদা হলে তো হার্টফেল করে মারা ই যেত ।

সৌরভ – হি হি হি হি ।

(পরেরদিন বিকেলে পার্কে (গৌরব আর সৌরভ বেড়াতে গিয়ে দেখে   দোলন আর অনুপম কথা বলছে , কিছুক্ষণ পর অনুপম চলে গেলে দোলনের নজর গৌরব আর সৌরভ এর দিকে পড়ে । দোলন এগিয়ে এসে গৌরব এর কান ধরে ।)

দোলন – লুকিয়ে বড়দের কথা শুনছিলে ? এই তোমাদের শিক্ষা ?

গৌরব-  হ্যাঁ আন্টি , আমরা তোমাদের সব কথা শুনেছি , তবে লুকিয়ে নয় ।

এই পার্কে । এর আগের দিন ও তুমি অনুপম আঙ্কেলের সাথে যখন পার্কে কথা বলছিলে তখন ও আমরা সব কথা শুনেছি ।

সৌরভ – হ্যাঁ । আমরা সত্যি বলতে ভয় পাই না । আমি বাবা কে দেখিনি , কিন্তু দাদা বলে , আমার বাবা বলত সব সময় সত্যি কথা বলতে । তাই বললাম ।

গৌরব- আন্টি , তোমাকে একটা কথা বলব ?

  আমরা তোমাদের মানে তোমার আর অনুপম আঙ্কেলের সব কথা শুনলেও কাউকে কিছু ই বলিনি । কিন্তু আজ তোমাকে বলছি । তুমি অনুপম আঙ্কেলের সাথে চলে যেও না ।

সৌরভ – হ্যাঁ আন্টি , আমাদের বাবা মা এক সাথে থাকে না বলে আমাদের অনেকের কাছ থেকে অনেক কথা শুনতে হয় যেটা আমাদের ভাল লাগে না ।

গৌরব- আমাদের বাবা , মা একসাথে থাকেনা এতে তো আমাদের কোন দোষ নেই বল , আমরা তো পাগলের মত আমাদের বাবা কে খুঁজে বেড়াই । আমি তো তবুও বাবা কে দেখেছি , ভাই এর তখন মাত্র তিন দিন বয়স ছিল যখন মা বাবা কে ছেড়ে দাদু-দিদার এই বাড়িতে চলে আসে । আমরা যে কি খাই  ,কি ভাবে স্কুলে যাই , তা শুধু আমরা ই জানি । বাবার স্নেহ কি তা জানতে পারলাম না ।

সৌরভ – স্কুলে যখন সবাই বাবা – মা এর হাত ধরে যায় , বা ছুটির সময় বাবা – মা এর হাত ধরে বাড়ি ফেরে তখন আমি আর ভাই দুজনে একসাথে থেকে সেই কষ্ট ভুলি । কিন্তু যেদিন আমাদের মধ্যে কারোর শরীর খারাপ হয় তখন অন্যজনের স্কুলে যেতেও ইচ্ছা করে না । আশেপাশের লোকেদের কটু কথায় ভীষণ কষ্ট পাই ।

গৌরব- অঙ্কিতা আর অঙ্কুর তো আমাদের বন্ধু , আন্টি , আমরা চাই না ওরাও আমাদের মত কটু কথা শুনুক , কষ্ট পাক । তুমি প্লিজ , যেও না আন্টি , কোথাও যেও না । বাবা বলত ভুল তো সবাই করে , শোধরানো টাই আসল ।

( দোলন খুব অবাক হয়ে ওদের দুজনের দিকে তাকায় , তারপর ওদের বুকে টেনে জড়িয়ে ধরে , চুমু খায় )

( ফ্রিজ )

(দোলন ও অনুপমের ফোনে কথা )

দোলন – আজ তোমাকে একটা কথা সরাসরি জানিয়ে দিই অনুপম , আমি তন্ময় কে ছেড়ে তোমার কাছে আসতে পারব না ।

অনুপম – তাহলে আমাদের এতদিনের  প্রেম , ভালবাসা !তোমার কথা দেওয়া ?  সব মিথ্যে ?

দোলন – মিথ্যে কেন হবে । কিন্তু কিছু সত্যি আছে যেটা অস্বীকার না করা ই ভাল ।

অনুপম – সেটা কি ?

দোলন – সেটা হল আমাদের দু দুটো বাচ্চা আছে । তাদের জীবন , তাদের আবেগ , সব কিছু নিজের সুখের জন্য ছুঁড়ে ফেলা যায় না ।

অনুপম – তুমি তো বলেছিলে তুমি রাতে সুখী নও ।

দোলন – হ্যাঁ , বলেছিলাম , আর সেটা সত্যি ও , কিন্তু সেটার জন্য তন্ময় কে আমি লেখা পড়া শিখে দায়ী করতে পারি না । তার জন্য বাচ্চা দুটোকে আমি কষ্ট দিতে পারি না ।

অনুপম – আমি তোমাকে ছাড়া সুখী না ।

দোলন – খুব বাঁচবে । আমাকে ছাড়া ই তো এত দিন বেঁচে আছ ।

অনুপম – সেটা একটা আশা নিয়ে । তুমি আমার জীবনে আসবে সেই আশার স্বপ্নে

দোলন – এসব কথা তোমার মুখে মানায় না । তা ছাড়া যে পুরুষ কথায় কথায় সুইসাইডের কথা বলে তার কাছে কোন মেয়ে ভরসা করে যাবে বলতে পার ?

অনুপম – তুমি অনেক পালটে গেছ । এই দোলন কি আগের দিনের দোলন , যে আমাকে এত কথা , এত প্রতিশ্রুতি দিল ।

দোলন – হ্যাঁ , আমি পালটে গিয়েছি , আমাকে পাল্টাতে হয়েছে । আসলে দিনের শেষে আমি একজন বাঙালি ঘরের হিন্দু নারী তো । তাই শুধু নিজের সুখের জন্য সব কিছু আমি করতে পারব না । তন্ময় কে আমি এতদিন দোষ দিয়ে এসেছি , কিন্তু সত্যি বলতে কি ওর যেটা দোষ , সেটাতে ওর কোন হাত নেই , কিন্তু আজ আমি বুঝতে পারি ওর দোষের থেকে গুণের সংখ্যা অনেক বেশি ।

অনুপম – যেমন ?

দোলন – যেমন তন্ময় নেশা ভান করে না , একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হয়েও কোনোদিন মদ ছুঁয়ে দেখেনি । আমি না থাকা সত্ত্বেও বাচ্চাদের নিয়মিত সময় দেয় । আর সব থেকে বড় কথা সৌরভ আর গৌরব । না গো । আমাকে তুমি ক্ষমা কর । আমি আমার বাচ্চাদের ছেড়ে তোমার কাছে আসতে পারব না ।

অনুপম – সৌরভ আর গৌরব ? ওরা আবার কি করল ?

দোলন – কিছু না , তবে জীবনের সব থেকে বড় শিক্ষা টা আমি ওদের কাছে ই পেয়েছি গো । বই পড়ার শিক্ষা যেমন দরকার , জীবনের শিক্ষাও তার থেকে কিছু কম দামি নয় । আমি রাখছি । প্লিজ আমাকে আর ফোন কর না , কোন লাভ হবে না । বাই ।

সৌরভ আর গৌরব , সত্যি , জীবনের সব থেকে বড় শিক্ষা টা আজ তোদের কাছে ই আমি পেলাম রে । আমি তোদের কাছে চির কৃতজ্ঞ থাকব । ভগবানের কাছে কামনা করি , তোরা মানুষের মত মানুষ হ । একদিন তোরা নিশ্চয়ই তোদের বাবা কে খুঁজে পাবি , নিশ্চয় খুঁজে পাবি ।

  সমাপ্ত

Leave a Reply