বাংলা নাটক ব্যতিক্রম

               

বাংলা  নাটক ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম বাংলা  নাটক – ব্যতিক্রম

নাটক      ব্যতিক্রম

       লেখক –   বিশ্বদীপ মুখার্জ্জী

বাবা  – কার্তিক বাবু

ছেলে  – অমল

অমল – তোমার ঐ এক কথা বাবা , রোজ এক পাতা বাংলা আর এক পাতা ইংরেজি হাতের লেখা অভ্যাস করা , তুমি কোন জামানায় পরে আছ বল তো ? তোমার কোন ধারণা আছে আজ কাল KG1 এর একটা বাচ্চাকে কি পরিমাণ পড়াশোনার চাপ নিতে হয় ?

কার্তিক বাবু ( অমল এর বাবা ) – এই যে তোমরা বলতে শিখেছ চাপ কথাটা , ওটা আমরা জন্ম থেকে ই নিয়ে আসছি। বুঝেছ বাবা , যদি চাপ না নিতাম তাহলে তোমার আর এই পৃথিবী দেখা হত না ।

ছেলে – তাই নাকি ?

বাবা – অবশ্যই , চাপ আবার কি রে ? বেঁচে থাকার প্রত্যেক টা মুহূর্ত ENJOY কর , বুঝলি , ও সব চাপ ফাপ কোথায় চলে যাবে দেখিস ।

ছেলে – তোমার সঙ্গে কথা বলা মানে সকাল সকাল জ্ঞানের  ফিরিস্তি শোনা ।

বাবা – হ্যাঁ , তা তো বটেই , তবে এটা জেনে রেখ , জ্ঞান সেই দিতে পারে যার পেটে কিছু আছে।

ছেলে – মানে তুমি আমাকে কি বলতে চাও , আমি মূর্খ ?

বাবা – সেটা আমি কেন বলে দেব ?

ছেলে – দেখ বাবা , সকাল সকাল তোমার এই ধরনের কথা শুনতে আমার ভাল লাগেনা ।তোমাদের সময় তা আলাদা ছিল । এখন সময় অনেক কঠিন ।

বাবা – তুমি আমাকে বলতে পারো বাবা এমন কোন সময় ছিল যে বাবা মা তাদের সন্তান দের বলেনি ” এখন দিনকাল খুব খারাপ , বুঝে শুনে চলতে হবে , এখন জিনিস পত্রের দাম অনেক বেশি বেড়ে গেছে , আগে অনেক কম ছিল ।”

ছেলে – আমি এটা কখনোই বলি না যে তুমি যা বলছ তা সব ভুল ।

বাবা – সেটা বললে ও কেউ বিশ্বাস করবে না ।

ছেলে – তুমি নিজের প্রতি এতটা কনফিডেন্ট ?

বাবা – ইয়েস , এখন তোমার প্রশ্ন এর পর এটা হওয়া উচিত যে এত কনফিডেন্স আমি পাই কোথা থেকে ।

ছেলে – হল

বাবা – শিক্ষা থেকে বাবা ।

ছেলে – CLEAR কর

বাবা – জানলা দিয়ে যে সুন্দর পাকা আমের ভরা গাছ টা দেখতে পাওয়া দেখতে , তার গোরা কেটে আগায় জল দিলে কি হবে বলতো ?

ছেলে – বুঝলাম

বাবা – এবার তুমি CLEAR কর ।

ছেলে – গাছটা বাঁচবে না , মানে তুমি সিস্টেম কে দায়ী করছ , তাই তো ?

বাবা – ঘুরিয়ে নাক দেখা বা দেখানো কি তোদের স্বভাব হয়ে গেছে ? তোরা কি সহজ সরল কথা বুঝতে পারিস না না বুঝতে চাস না ?

ছেলে – তুমি পরিষ্কার করে বোঝাও ।

বাবা – এতক্ষণে তুই একটা বুদ্ধিমানের মত কথা বললি , তাহলে শোন , সিস্টেম তো তোকে , আমাকে নিয়ে , তাই নয় কি ? বেঁচে থাকার থিওরি বা PRACTICAL বরাবর ই এক , যেমন ধর , আমাদের সুস্থ স্বাভাবিক ভাবে মানে ভাল ভাবে বেঁচে থাকতে গেলে নিম্ন মধ্যবিত্ত বা মধ্যবিত্তের প্রধান উপকরণ কি ?

ছেলে – টাকা

বাবা – না , পুরোপুরি নয় , টাকা নিম্ন মধ্যবিত্ত বা মধ্যবিত্তের 98% সমস্যার সমাধান করে ঠিক ই, তুই যা ই করতে যাস , পড়াশোনা থেকে চিকিৎসা , টাকা তোর লাগবেই , কিন্তু আমরা ভুলে যাই এর উৎস টাকে ।

ছেলে – শিক্ষা ?

বাবা – একদম ই তাই ।এবার এখানে কথা আছে , শিক্ষা মানে তুমি কি বোঝ ?

ছেলে – ভালো রেজাল্ট, অবশ্যই ।

বাবা – একদম ই না ।তোমার হিসেবে তো তাহলে রবীন্দ্রনাথ অশিক্ষিত , কিন্তু তাই কি ?

ছেলে – HE WAS EXCEPTATIONAL

বাবা – ওরে না রে , বল উনি হলেন প্রকৃত শিক্ষিত , যিনি স্কুল এ না গিয়ে ও শিক্ষা টাকে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন সবার থেকে বেশি ।সারা জীবন তার সুষ্ঠু প্রয়োগ করেছেন ।

ছেলে – তাহলে তোমার বাড়িতে যখন কোন বাচ্চা বড় হবে , সে যদি স্কুলে যেতে না চায় তুমি তাকে উৎসাহ দিতে রবীন্দ্রনাথ এর উদাহরণ দেবে ?

বাবা – শিক্ষা ব্যবস্থা , মানে এই যে আমরা স্কুল কলেজে যাই , এটা একটা PROCESS এর মধ্যে দিয়ে যাই , রবীন্দ্রনাথ এর উদাহরণ তো একশ বার দেব, কিন্তু ঐ সুবিধাগুলো তো তাকে আমি দিতে পারব না বাবা , বাড়িতেই সমস্ত ব্যবস্থা আমি কি তাকে করে দিতে পারব ? পারব না । মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের মত তো আমার জমিদারি  নেই । কিন্তু একটা কথা তোমাকে মানতে ই হবে , শান্তিনিকেতন এর বাগানে যে ক্লাস হয় , চার দেওয়াল থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষার যে ব্যবস্থা , তা বিশ্ব সমাদৃত ।

ছেলে – তা তো বটেই ।

বাবা – যেটা বলছিলাম , সেটা হল , যে শিক্ষা তুমি পাচ্ছ তাতে তোমার মেরুদণ্ড শক্ত হচ্ছে কিনা? একটা চিঠি লিখতে গেলে তোমার হাত কাঁপে কিনা , ইংরেজি তে একটা মেল করতে গেলে তোমাকে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবতে হয় কি না ? STOCK OF WORD হাতড়াতে হয় কি না ।

ছেলে – অবশ্য তোমার এই যে দাওয়াই , মানে রোজ রোজ একপাতা বাংলা ও একপাতা ইংরেজি হাতের লেখা অভ্যেস , তাতে আমার হাতের লেখার প্রচুর উন্নতি হয়েছিল এটা অস্বীকার করার কোন জায়গা নেই , এখন ও অফিসে কোন জিনিস লিখলে আমার দিকে সবাই হাঁ করে তাকিয়ে থাকে আমার হাতের লেখার জন্য ।

বাবা – এটা তুই মনে প্রাণে বিশ্বাস করিস কেন ? কারণ এর ফল টা তুই নিজে হাতে পেয়েছিস বলে, তাইতো ?

ছেলে – সে তো ঠিক ই ।

বাবা – তাই তো বলি, সময় যাই হোক , BASIC টা কে FOLLOW কর । ওটা সব সময় প্রাসঙ্গিক । দাদুভা্‌ই, দিদিভাই কে সময় দিতে হবে , ধৈর্য রাখতে হবে , অধৈর্য হলে চলবে না ।

ছেলে – আচ্ছা বাবা , তোমাকে কি আমরা CONSERVATIVE দের দলে ফেলতে পারি ?

বাবা – আমার অপরাধ ?

ছেলে – তুমি তো মেয়েদের চাকরি করার বিপক্ষে ।

বাবা – মারব টেনে এক চড় ।

ছেলে – এই তো তুমি পেসেন্স রাখার কথা বললে , এখন এটা হারিয়ে ফেলছ কেন ?

বাবা – হা হা হা , মেয়েরা চাকরি করতে যাকগে  , কিন্তু অমানুষ হওয়ার আর ডিভোর্স দেবার চাকরি তা না করতে গেলেই ভাল করবে ।

ছেলে – বাব্বা , সেটা আবার কি গো ?

বাবা – দেখ , স্কুল টিচার , ভালো কোনো সরকারি চাকরি তো সবার কপালে জোটে না । I MEAN TO SAY সেই মেধা সবার নেই , সেই পরিশ্রম ও সবাই করতে পারে না ।কর্পোরেট লেভেল তো আরও টাফ ।  কিন্তু এখানে একটা ছোট্ট মুশকিল কাজ করে ।

ছেলে – সেটা কেমন ?

বাবা – যেমন ধর , আমাদের সময় চাকরি করতে যেত কারা ? যারা সত্যিকারের চাকরির উপযুক্ত , এটা বললে ও ভুল হবে না যে এমন অনেক বিদুষী মহিলা ছিলেন যাদের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও গৃহ বন্দী করে রাখা হত । এখন ক্লাস টেন ভালোভাবে পাশ করেনি , চাকরি করতে ছুটছে , ৫০০০ টাকা মাইনে, তার মধ্যে মোবাইল ফোন হাতে হাতে , ফষ্টিনসটি চলছেই , এর বউ ওর সাথে পালাচ্ছে , মেয়েদের চাকরি করতে যাবার নামে অরাজকতা ই বেশি ।

ছেলে – জানো বাবা , আমার মনে হয় এর মূল কারণ কি ?

বাবা – কি ?

ছেলে – দেখ , এখন অধিকাংশ বাঙালি বাড়িতে একটা সন্তান , সে যদি মেয়ে হয় তাহলে তো কথা ই নেই , মামা বাবা র আদরের দুলালি । অল্প বয়সে এখন বিয়ে দেবার চল প্রায় উঠে গেছে । পাশ ফেল ও নেই , কাজেই কোন মেয়ে যখন মাধ্যমিক , এইচ এস , বা গ্রাজুয়েশন করে, তার পর এম এ পাশ বা প্রাইভেট এ বি এড ট্রেনিং করা এখন জল ভাত । কারণ বাবা মা তার সন্তানের পেছনে শিক্ষার জন্য টাকা খরচ করতে দুবার ভাবেন না ।তাই অধিকাংশ মেয়ে  ডিগ্রি র পাহাড়ে চরার সঙ্গে সঙ্গে অহংকার এর পাহাড়েও  চড়তে  থাকে । তার বাড়ির লোক তখন সরকারি চাকরি ছাড়া পাত্র খোঁজেন না ,কিন্তু অতো সরকারি চাকুরে কোথায় ? তার তো একটা LIMITATION আছে , ফলে অধিকাংশ মেয়ে র স্বপ্নের সাথে COMPROMISE .

তারপর কিছু ক্ষেত্রে, ভালোলাগা , ভালবাসা থেকে বিয়ের পিঁড়ি অবধি গড়ালেও জোড়া তাপ্তির সংসারে ডিভোর্স হতে বেশি সময় লাগছে না ।

বাবা – তোর মায়ের ডিগ্রি জানিস ?

ছেলে – জানি

বাবা – তোর মায়ের ডিগ্রি জানিস ? জেনারেল নলেজ জানিস ?  আমাদের থেকে অনেক বেশি ।আমার বাবা মানে তোর ঠাকুরদা , তোর মা কে পাওয়া চাকরি করতে দেন নি ।তখন খুব রাগ হয়েছিল জানিস , মনে হয়েছিল আমি স্বামী হিসেবে অপদার্থ , তোর মা এত ভাল লেখাপড়া য় অথচ আমি তাকে এইটুকু স্বাধীনতা দিতে পারলাম না , কিন্তু এখন কি ভাবি জানিস , সত্যি বলছি তোকে বিশ্বাস কর , তোরা তাহলে এমন মানুষের মত মানুষ হতিস না । একটা সন্তান কে মানুষ করার জন্য এক মায়ের যে কি ভূমিকা তা আমরা ভুলে যাই , তা টাকা রোজগারের থেকে ও অনেক দামি , মানছি আমরা টাকা রোজগার করি , কিন্তু বাড়িতে থাকা মেয়ে বউ রা যা করে , অবিশ্বাস্য ।

ছেলে – কিন্তু

বাবা – বুঝি রে সব বুঝি , আচ্ছা , পড়াশোনার অভ্যাস টা তো আমি তোকে ছোটবেলা থেকে করিয়েছি , আর ও বলা ভাল এই ব্যাপারে আমার থেকে তোমার মা এর ভূমিকা অনেক বেশী , তা তুই RICH DAD POOR DAD বই টা পড়েছিস ?

ছেলে – হ্যাঁ ঐ তো , PHD করা মানুষটি অন্যের অধীনে চাকরি করতে যাচ্ছে অথচ খুব কম লেখা পড়া করা মানুষটি এমন ব্যবসা করছে যে তার অধীনে প্রচুর মানুষ কাজ করছে ।

বাবা – হ্যাঁ , জীবনের ঐ পাঠ টা মনে রেখো , আর ঐ বই টা সুযোগ পেলে ই পড়ো , তোর মনে হয় না , প্রত্যেকের ঐ বই টা  অবশ্যই পড়া উচিত ?

ছেলে – মনে হয় তো ।

( ঠক ঠক ঠক , দরজা এ আওয়াজ হয় )

বাবা , দাঁড়াও , কে এসেছে দেখি ।

অমল বাইরে গিয়ে আবার ভেতরে ঢোকে – চিঠি ।

বাবা – সে কি রে ? এখন ও কেউ লেখে ?

ছেলে – হা হাহা , না গো , এ চিঠি সে চিঠি নয় , এ একেবারে পুরোদস্তুর নিমন্ত্রণ পত্র ।

বাবা – দুর্গাপুর থেকে ?

ছেলে – তুমি কি ভাবে জানলে ?

বাবা – AFTER ALL আমি তোমার বাবা তো , তাই , হা হা হা ।

ছেলে – ও , বুঝেছি , তুমি কালকে ই দুর্গাপুরের দুলাল দা দের সাথে কথা বলছিলে , তাই না ?

বাবা – হ্যাঁ রে । যা , তোরা কটা দিন ঘুরে আয় । দাদুভাই দিদিভাই এর পরীক্ষা ও হয়ে গেছে ।

বউমার কথা ও একটু ভাব , ওখানে হৈহুল্লোড় করে কটা দিন কাটিয়ে এলে দেখবি , মন টা ভালো হয়ে গেছে , নতুন উদ্যমে আবার কাজে লাগতে পারবি ।

ছেলে – এখন সেটা সম্ভব নয় বাবা , আমি তোমার সঙ্গে আজ এভাবে কথা বলছি ঠিকই , কিন্তু এসব আমার বিন্দু মাত্র ভাল লাগছে না ।

বাবা – তুই আমাকে কি ভাবিস অমল , সত্যি করে বল তো ।

ছেলে – তুমি আমার সত্যিকারের বাবা , হা হা হা

বাবা – হা হা হা , আর ?

ছেলে – আনডাউটেডলি  তুমি আমার সব থেকে কাছের বন্ধু ।

বাবা – সত্যি তো ?

ছেলে – একদম।

বাবা – বন্ধু তার প্রিয় বন্ধু কে প্রায় সব খুঁটিনাটি কথা ই বলে, এটা জানা আছে নিশ্চয় ?

ছেলে – আমি তো তোমাকে সব খুঁটিনাটি কথা ই বলি বাবা ।

বাবা – দেখ বাবা , বয়স তো কম হল না , হুজ্জুতি করে বেঁচে আছি তাই , সত্যি  এই COVID পরিস্থিতি এভাবে কাটিয়ে উঠব ভাবতে পারিনি রে ।দিন রাত TV থেকে শুরু করে সব জায়গায় শুধু অশনি সংকেত , আর সাবধান বানী । এর মধ্যে এক দিন শ্যামনগর স্টেশনের লাইন পেরচ্ছিলাম , সন্ধেবেলা  , অন্ধকার ঘুট ঘুট করছে । প্রত্যেক টা দোকান বন্ধ , প্রত্যেক টা আলো নেভানো , যেন যুদ্ধ লেগে গেছে বুঝি । ছোটবেলা থেকে কত বাংলা বন্ধ বা ভারত বন্ধ দেখেছি , একবেলা ট্রেন বন্ধ থাকলে ও দেখতাম বিকেল বেলা ট্রেন ঠিক চলত , আর সেই ট্রেন ৬ মাস বন্ধ । মাঝে মধ্যে ভাবতাম , হা ঈশ্বর , তোমার এই বানানো সুন্দর পৃথিবীতে কারা এমন নৃশংস কাজ করল ? সত্যি কোনোদিন স্বাভাবিক হবে তো সব , চলবে তো যাত্রীবাহী ট্রেন ? ফিরবে কোলাহল ? যেন নিজের চোখ কে বিশ্বাস করাতে পারতাম না ।

ছেলে – সত্যি বাবা , আশেপাশে আত্মীয় অনাত্মীয় মিলিয়ে কত মানুষ যে আনাচে কানাচে মরেছে তার কোন ঠিক ঠিকানা নেই । শুধু মৃত্যু আর মৃত্যু , নিষেধাজ্ঞা আর নিষেধাজ্ঞা , উফ , কি ভয়াবহ ।

বাবা – জানিস বাবু , এক রাতে শুয়ে রয়েছি , হঠাৎ মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে গেল , দেখি খুব শ্বাস কষ্ট হচ্ছে । যেন প্রশ্বাস আর নিতে পারছি না ।এই বুঝি দম আটকে প্রাণ টা বেরিয়ে গেল । ধড়ফড় করে বিছানায় উঠে বসলাম । তার পর বেশ জোরে জোরে প্রশ্বাস নেবার আর নিশ্বাস ছাড়ার চেষ্টা করলাম ।অনেকক্ষণ বাদে আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হলাম ।

ছেলে – এরকম মহামারি নাকি প্রতি ১০০ বছর বাদে একবার করে হয় । অনেকে ই দুটো সুপার পাওয়ারের নাম নিচ্ছে যারা নাকি ইচ্ছাকৃত এসব ঘটিয়েছে ।

বাবা – আমি দেখেছি , ঐ অবস্থা তে ও তুই কি মনোযোগ দিয়ে WORK FROM HOME করে গেছিস। রেস্টলেস ভাবে OFFICE এর কাজ করে গেছিস । নিয়ম মেনে ONLINE EXAM দিয়েছিস। কিছুই নজর এড়ায়নি আমার ।

ছেলে – হ্যাঁ বাবা , ফাঁকিবাজি আমি কখন ও শিখি নি ।

বাবা – সেটা আমি জানি অমল , আর আমি এ ও জানি , দুর্গাপুরের বিয়েবাড়িতে তোর কেন যাবার ইচ্ছা নেই । তোর চাকরি টা আর নেই , তাই তো ?

ছেলে – বাবা ? তুমি এই খবর টা জান ?

বাবা – জানি রে , আর আজ আমি তোকে এটাই বলব তুই চাকরি ছেড়েছিস জেনে আমি খুব খুশি হয়েছি ।

ছেলে – খুশি হয়েছ ?

বাবা – হ্যাঁ রে , সত্যি আমি খুব খুশি হয়েছি ।

ছেলে – কিন্তু আমাকে যে সবাই পাগল বলছে বাবা।

বাবা – এতে আমি অবাক হচ্ছি না ।শোন , প্রথম কথা , আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি যে DEDICATION এ তুই চাকরি করতিস সেই DEDICATION এ তুই তোর নিজের কিছু করলে অনেক উন্নতি করবি , এটাই তার উপযুক্ত সময় । আর লোকে তোকে পাগল বলছে ? বলতে দে , মহামান্য GALILIO  যখন বলেছিলেন সূর্য নয় , পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরছে , তাকে ও পাগল বলেছিল লোকে ।বিষ খাইয়ে মেরে ফেলা হয়েছে দুরবিন আবিষ্কারক ঐ মহান SCIENTIEST কে ।কিন্তু যারা তাকে মেরেছে , তাদের কথা কেউ মনে রাখেনি , পৃথিবীর ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন GALILIO ।

ছেলে – বাবা , জন্মাবার পর থেকে তোমাকে দেখছি , কত আপদ বিপদ , কত ঝর ঝাপটা গেছে , কিন্তু সত্যি , যত দিন গেছে , তোমার মনের জোর যেভাবে বেড়েছে সেটা দেখে আমি অবাক না হয়ে পারি না । জান বাবা , প্রচুর চেষ্টা করেছি আমি , কোম্পানির জন্য প্রাণপাত করেছি আমি , কিন্তু কি মূল্য দিল তারা ? চাকরি টা ছেড়ে দিতে বাধ্য করল আমাকে ।

বাবা – শাপে বর হয়েছে । সামনের দিকে তাকিয়ে দেখ ।

ছেলে – কিন্তু কি ভাবে বাবা ? কোথা থেকে শুরু করব , কিছু ই বুঝতে পারছি না ।হঠাৎ এই ধাক্কা । SAVINGS ও খুব বেশি নেই । আমার মাথা কাজ করছে না, সত্যিই , তুমি একটা আইডিয়া দাও । আমি এভাবে রয়েছি কারণ আমি গুরুগম্ভীর হলে বাকি রা ভেঙে পরবে ।

বাবা – একদম না , এটাই তো তোর প্রকৃত পরীক্ষার সময় । মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিকে অসাধারণ রেজাল্ট আর জীবনের পরীক্ষায় ফেল ? ও সব চলবেনা ।

শোন , আজ তোকে কয়েকটা কথা বলি , খুব মন দিয়ে শোন , চাকুরিজীবী দের প্রধান সমস্যা কি জানিস ? তারা ভাবে চাকরি ছাড়া জীবনে বুঝি করার কিছু নেই । প্রথমেই এই ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে । কাজ টা কাজ ই হয় । আমি অন্যের অধীনে পরিশ্রম করে যদি টাকা রোজগার করতে পারি নিজের ব্যবসায় কেন সেটা পারবনা ?

ছেলে – কিন্তু

বাবা – আমার পুরো কথাটা আগে শোন বাবা , তোর পরের প্রশ্ন নিশ্চয়ই কি করবি ? মানে যে কোনো ব্যবসা করতে তো পুঁজি লাগে , সেটা কোথায় পাবি ? তাই তো ?

ছেলে – রাইট ।

বাবা – তোর পুঁজি আসলে মনের জোর । আজ রাতে নিজের সাথে বস । কারণ আমি তোকে যতই অনুপ্রেরণা দিই , দিনের শেষে কাজ টা তোকেই করতে হবে । তবে একটা জিনিস জেনে রাখ , রিস্ক না নিলে জীবনে বড় কিছু করা যায় না ।তোর এই পরিস্থিতি , আমি তো বলব ভগবানের আশীর্বাদ , হ্যাঁ । দেখ বাবা , আমাকে দয়া করে টীপিক্যাল বাঙালি বাবাদের তালিকায় ফেলিস না যারা ভাবে চাকরি ছাড়া পৃথিবীতে আর কোন কাজ নেই ।

ছেলে – ওভাবে বল না বাবা , বাঙালি রা কি ব্যবসা করছে না ?

বাবা – বড়বাজারে একসময়ের খুব নাম করা বাঙালি ব্যবসায়ী , তার ছেলে কি করল জানিস ? বড়বাজারের মত জায়গায় তিন তিনটি দোকান বিক্রি করে দিয়ে MIS করে দিল আর যাদের কাছে দোকানটা বিক্রি করল তাদের কাছে এখন কর্মচারী হয়ে কাজ করছে । এই হচ্ছে এখনকার অধিকাংশ বাঙালি র BUSINESS PLAN . সে যাই হোক , YOUTUBE এ হাজার এক BUSINESS PLAN দেওয়া আছে , খুম কম পুঁজি তে শুরু করার মত প্রচুর ব্যবসা আছে । অত টেনশন করিস না ।যা হবে সব ভাল হবে ।

ছেলে – সত্যিই বাবা , তুমি সবার থেকে আলাদা ।

বাবা – শোন বাবা , একটা গুজরাতি বা মাড়োয়ারি পরিবারে গিয়ে দেখ , ছোট ছোট বাচ্চা রা ও গদিতে বসে বাপ ঠাকুরদার ব্যবসায় হাত লাগিয়েছে , আসল জিনিসটা হল অভ্যাসের , তোর মনে হয় ওরা তোর থেকে বেশি বুদ্ধিমান ? তফাত শুধু মানসিকতার । সেই কবেই প্রফুল্ল চন্দ্র রায় বলে গেছেন বাঙালি কে , গোলামি ছেড়ে বাজারে আলু পটল বেচতে  , আর আজ দেখ , সজি বিক্রি করে কত মানুষ পেট চালাচ্ছে । আমাদের সব থেকে বড় সমস্যা কি জানিস ? EGO , তাই ডঃ এ পি জে আব্দুল কালাম বলেছেন , E টাকে ছেড়ে দাও তাহলে ই  GO মানে এগিয়ে যেতে পারবে । তুই এত সুন্দর COMPUTER জানিস, নিজে WEBSITE বানাতে পারিস , আজকের দিনে এসব জানার পর কেউ মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকে নাকি ?

ছেলে – ঠিক আছে বাবা , যে কোন কাজ শুরু করার আগে সব থেকে বেশি যেটা প্রয়োজন , সেটা হল বাবা মা এর আশীর্বাদ , আমার কাছে এটা যখন আছে তখন বাকিটা ও ঠিক হয়ে যাবে । তুমি ঠিকই বলেছ বাবা , এখন COMPUTER টা ভালোভাবে জানা থাকলে রোজগার টা বিরাট কোন ব্যাপার না । আসলে সবকিছু এত আচমকা হয়েছে যে একটু কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গিয়েছিলাম ।NO PROBLEM.

বাবা – এই তো চাই , PROBLEM কথাটা ফুৎকারে উড়িয়ে দে । WEBSITE এর সাহায্যে একজন মানুষ নিজের ব্যবসা কে কোন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে , তা তো তুই জানিস , তাহলে WEBSITE বানাবার কাজ ই শুরু কর । যাদের বানিয়ে দিবি তাদের ও ব্যবসা বাড়বে , তোর ও শ্রীবৃদ্ধি হবে ।

ছেলে – BRILLIENT বাবা , BRILLIENT , আসলে আমার মাথা হ্যাং হয়ে গিয়েছিল , তুমি যে এমন অসাধারণ IDEA দেবে ভাবতে পারিনি ।

বাবা – রোজ ট্রেন এ যারা যায় মানে চাকরির জন্য যারা LOCAL TRAIN এ DAILY PASSENGARY করে , তারা অবশ্যই পেটের তাগিদে করে , জীবিকার দরকারে করে , কিন্তু মজার কথা হচ্ছে এর মধ্যে কয়েক জন খুব বড়াই করে ঝগড়া লাগার সময় বলে , জানেন মশাই , ৩০ বছর ধরে এই ট্রেন এর এই COMPERTMENT এ DAILY PASSENGARY করি , তার মানে উনি ঘুরিয়ে বোঝাতে চাইছেন , পৃথিবী এগিয়ে গেলে ও উনি এক ই জায়গায় পরে রয়েছেন । আমি খুব বিরক্ত হয়ে একদিন একজন কে জিজ্ঞেস করেছিলাম , আপনি কাজে যাবার জন্য ট্রেন এ চড়েন না ট্রেন এ চড়ার জন্য কাজে যান ? দেখলাম লোকটা ফ্যালফ্যাল করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে ।

ছেলে – আসলে কি জান বাবা , কাজের প্রেসার , বসের ধমকানি , আর চাকরির টেনশন , এই নিয়ে যারা বেঁচে আছে তাদের অনেকের রবিবারে ও ছুটি নেই । বিনোদন বলতে তারা খুঁজে নেয় LOCAL TRAIN এ পাশে থাকা দত্ত বা ব্যানার্জ্জী বাবু কে , হাসি মশকরা , পেছনে লাগা , শীতকালে বছরে একটা পিকনিক , তার পর সেই পিকনিকে কে কতটা মদ খেয়ে কতটা LIMIT CROSS করেছিল , এই সবের গাল গল্পের মধ্যে জীবন খুঁজতে খুঁজতে জীবনের আসল  উৎসাহ উদ্যমগুল বদলে যায় , মানে উৎসাহ বা উদ্যম থাকে , কিন্তু কোন CREATIVE কাজের জন্য নয় , শুধু ই গাল গল্পের জন্য ।

বাবা – হ্যাঁ রে , খুব কঠিন , সত্যি খুব কঠিন মানুষের জীবন , মানুষ কত টাকা খাবার জন্য খরচ করে বল ? তার থেকে অনেক অনেক বেশি খরচ করে রোগ , ডাক্তার আর ওষুধের পেছনে । কিন্তু দিনের শেষে ভুলে গেলে চলবেনা আমরা মানুষ , গরু ছাগল নই , তাই ভেঙ্গে পরলে চলবেনা । নিজের সমস্যার সমাধান নিজেকে ই করতে হবে । অন্ধকার আঁকা বাঁকা সাপের মত গলি গুলো যখন গিলে খেতে আসে তখন ই নিজের জ্ঞানের আলোর লাঠি দিয়ে তাড়াতে হবে কুসংস্কার আর অজ্ঞানে ভরা বিষধর সাপ গুলো কে ।সময় কঠিন ই হয় , চেষ্টা আর অধ্যাবসা দিয়ে তাকে সহজ করে তুলতে হয় ।

ছেলে – হ্যাঁ বাবা , কত তাড়াতাড়ি কাজ থেকে বাড়ি ফিরব , আর চাদরের তলায় মদের বোতল নিয়ে বেড়িয়ে THUMS UP এর বোতলে ঢেলে রাস্তা দিয়ে খেতে খেতে গিয়ে নিজের ENJOYMENT খুঁজব এমন কাজ করিনি কখন ও । CREATIVE চিন্তা গুলো এখন ও বেঁচে আছে । সেগুলো কে কাজে লাগালেই যথেষ্ট ।

কথক – খুব সামান্য পুঁজি, বুকভরা মনের জোর আর সুন্দর পরিকল্পনা নিয়ে অমল WEBSITE বানানো আর তার DEVELOPMENT এর ব্যবসা  শুরু করে, দিনরাত এক করা পরিশ্রম আর তার সাথে কাজের পরিকল্পনা র অসামান্য সামঞ্জস্যের মেলবন্ধনে অমল তার ব্যবসা কে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায় । ওদিকে কার্তিক বাবুর শরীর খুব দ্রুত খারাপ হতে থাকে , YOUNG বয়সে তার অতিরিক্ত SMOKING এখন খুব বিপজ্জনক রূপ নেয় । দু দুটো HEART ATTACK এর ফলে শরীর ভেঙ্গে যায় । ভীষণ অসুস্থ হয়ে শরীরের একদিক বিকল হয়ে যায় । NURSING HOME এ ভর্তি করতে হয় ।

           নার্সিংহোম এ

বাবা  ( কথা জড়িয়ে যায়   )  – অমল এসেছিস ? সবাই ভাল আছে তো ? আয় , বস ।

অমল – এখন কেমন বোধ করছ বাবা ? তুমি আমার আগের মত সুস্থ হয়ে উঠবে । চিন্তা করোনা ।

বাবা – সময়ের আগে কেউ নয় রে । YOUNG বয়সে শরীরের ওপর যে অত্যাচার করেছি শরীর তার প্রতিশোধ নেবে না ? তুই দুশ্চিন্তা করিস না । আ  আমার  বুক …টা …।।ব্যথা…।।উ…

অমল – বাবা , কি হল বাবা ? কষ্ট হচ্ছে ?  ডাক্তার বাবু ,  ডাক্তার বাবু ।

বাবা – অমলের হাত ধরে , মন দিয়ে কাজ কর বাবা , আজ অনেক ছেলে তোর মুখ এর দিকে তাকিয়ে , তোর ব্যবসার মাধ্যমে তাদের রুজি রুটি আসে । আমি খুব খুশি রে । I AM PROUD OF YOU . আমি সব পেয়ে গেছি । তুই সবাই কে নিয়ে চলিস , সবাই কে দেখিস , ভাল থাকিস , ভাল রাখিস।

অমল – বাবা , ডাক্তার বাবু ডাক্তার বাবু …। ( বেড়িয়ে যায় )

( ভেতর থেকে ডাক্তার বাবুর গলা ভেসে আসে I AM SORRY AMAL BABU , HE IS NO MORE)

( অমল দৌড়ে স্টেজে ঢোকে ) বাবা , তুমি মর নি তুমি মরতে পার না , মনীষী দের মত তুমি আমাদের মধ্যে বেঁচে থাকবে চিরকাল ।

          সমাপ্ত

Leave a Reply