বাংলা নাটক –   পরিণতি

নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি, নাটক –   পরিণতি, নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি, নাটক –   পরিণতি, নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি, নাটক –   পরিণতি, নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি, নাটক –   পরিণতি, নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি, নাটক –   পরিণতি, নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি, নাটক –   পরিণতি, নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি, নাটক –   পরিণতি, নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি, নাটক –   পরিণতি, নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি, নাটক –   পরিণতি, নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি নাটক –   পরিণতি

নাটক –   পরিণতি ,

লেখক ,  গান রচনা ও সুর  – বিশ্বদীপ মুখার্জ্জী

প্রথম দৃশ্যে দেখা যায় দুই জন হ্যান্ডেলার দুটি স্নিফার ডগ নিয়ে স্টেজের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চলে যায়

( চারজন দুষ্কৃতির কথোপকথন )

লখিয়া – কাল যে হরিণ মেরে শালবনে পুঁতে দিলি, কবে তুলবি রে

হরিয়া – দাড়া , এখন কদিন একদম চুপ , শালা গার্ড গুলো বড্ড জ্বালাচ্ছে রে ।

গৌতম – ওসব গার্ড,  রেঞ্জার বুঝি না ,  শালা সাম্বর টার ভাল দাম মিলবে, কাল পার্টি আসবে , আজ রাতে কাজ সে্রে ফেল ,

রজক  – মালিক , আজ রাতে তুলে ফেললে তো পুরো মেহনত বেকার যাবে , পার্টি তো খোঁজে চামড়া , কিন্তু মাংস , কতদিন হরিণের মাংস মেলেনি । সেই কবে খেয়েছিলাম , ইয়াদ নেই ।

গৌতম – (রজকের মাথায় চাঁটি মেরে )  আর মাংস খেতে হবেনা , কামচোর শুয়ার , বেচলে মাল মিলবে , শালা দেশি মোরগ জবাই কর, আর খা  । হরিয়া , বড় দেখ বড় , এসব ছোটো তে পোষাচ্ছে না ।

হরিয়া – তুমি কি তবে হাতির খোঁজে আছ মালিক ?

( সবাই হেসে ওঠে ।)

গৌতম – চুপ , শালারা , এ জঙ্গলে হাসলেও আমাদের সামলে হাসতে হয় , বুড়বক কাহিকা ।

হরিয়া – এ শাল বনের জঙ্গলে র মধ্যে এই আস্তানার খোঁজ কেউ পাবে না মালিক । তুমি বহুত চিন্তা কর ।

লখিয়া – মালিক , আগের চিতল টার পয়সা পায়নি এখন ও , তুমি তো নগদা কারবার কর । আমাদের তাহলে ভুখা রাখ কেন ?  

গৌতম – চুপ শালা , বহুত কথা হয়েছে তোর , বলছি না বড় দেখ , আগলা পিছলা সব চুক তা করে দেব । মাল ভি বহুত মিলবে , তখন আয়েশ করবি আয়েশ ।

লখিয়া – আয়েশ , এই জঙ্গলে ? বউ বাচ্চা ছেড়ে এসেছি পাঁচ বছর হল , কখন গার্ডের গুলিতে ফুটে যাবো , এই শাল বনে টেনে নিয়ে যাবে  ঢোলের দল ( বুনো কুকুর ) কেউ হদিস পাবে না , আয়েশ ।

গৌতম – যা যা , বেশি বকিস না , কাম কর কাম ।

লখিয়া – এই চুপ

রজক – কেউ আসছে এদিকে । চলে আয়ে ।

( সবাই চলে যায় )

(  রেঞ্জার ডেপুটি আয়েশ আর চার গার্ড এর প্রবেশ )

রেঞ্জার সুধির বাবু –  কিশলয় বাবু , অবস্থা খুব একটা ভাল নয় , গৌতম বলে ছেলেটি এই দলের পান্ডা ,

ডেপুটি রেঞ্জার কিশলয় বাবু – হা স্যার , তবে শালারা যাবে কোথায় , ঠিক খুঁজে বার করব ।

রেঞ্জার  – হ্যাঁ , তবে তাড়াতাড়ি , পরিবেশের সাংঘাতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে । ওপর থেকে চাপ ও প্রচুর । সরকার এখন এসব এর জন্য প্রচুর টাকা খরচাও করছে ।প্রচুর সুবিধা দিচ্ছে , যা আগে ছিল না ,  আমাদের কাজ টা খুব মন দিয়ে করতে হবে । আপনার নেট ওয়ার্ক কি বলছে ?

ডেপুটি রেঞ্জার – কাল দুপুরে আমরা শালবনের ও দিকটা হানা দেব ।

খবর আছে ।

রেঞ্জার – গুড,  রতন

রতন – ( গার্ড ) হ্যাঁ স্যার ?

রেঞ্জার  – তুমি তো শুনেছি গার্ড দের মধ্যে খুব ভাল কাজ করছ , এভাবে ই চালিয়ে যাও । খুব মন দিয়ে কাজ কর আর সজাগ থেকো ,

রতন – স্যার – আস্তে , কেউ যেন গুন গুন করছে ।

রেঞ্জার – তাই তো , দেখ কে ?

( সবাই ফ্রিজ , স্টেজের বাইরে বেরিয়ে জায় , স্টেজের মধ্যে ঢোকে ঝুমরি , হাতে শালের কাচা পাতা নিয়ে আপন মনে হেলতে দুলতে সে চলে , পেছনে রতন গার্ড পিছু নিয়েছে সে বুঝতে পারে না ,গান গাইতে গাইতে সে যায় 

গান রচনা ও সুর বিশ্বদীপ মুখার্জ্জী

শালের পাতা নিঝুম রাতে  

জ্যোৎস্না উকি দিয়ে রে,

মন মরে পিরিত জাগায়

মরিচিকার সাথে 

( হঠাৎ  গৌতম হাত ধরে টেনে নেয় ,

গৌতম – কি রে ঝুমরি , পিরিতে ডগমগ ,

ঝুমরি – ছাড় আমার হাত , তোর শালা খুনে বেইমানি ছাড়া কিছু নেই  , তুই আমারেও ধোঁকা দিচ্ছিস বাবু , আমার হার ত দিলিনে ।

গৌতম – দেব দেব , ছাউনি তে চল , আগে তোর রস ঢাল ।

ঝুমরি হাসতে থাকে , গৌতম হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে যায় ।)

রতন ফিরে হাঁপাতে হাঁপাতে খবর দেয় সবাই কে

রতন – স্যার , গৌতমের হদিস পাওয়া গেছে ।

রেঞ্জার – কিশলয় বাবু , কুইক , আর এক মুহূর্ত দেরি নয় , আপনি ওয়ারলেসে খবর পাঠান এখুনি  হ্যান্ডেলার আর  স্নিফার ডগ পাঠাতে ।

আমরা এখুনি অভিযান চালাবো , আজ শালাদের শেষ দিন , গুড জব রতন । ভেরি গুড জব ।

তার পর ফরেস্ট  পুলিশ এর দল শালবন ঘিরে ফেলে , অভিযান এতটাই আচমকা হয় ছাউনিতে যে কেউ কিছু করার আগেই পুলিশে ঘিরে  ফেলে সবাই কে । ছাউনির ভেতরে গৌতম আর ঝুমরি , গুলি বিনিময় হতে হতে গৌতমের বা কাঁধে লাগে , আর ঝুমরির বুকে , তার পর বাইরে বেরোতে গেলে গৌতম পুলিশের গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে যায় , বাকিরা পালাতে যায় , স্নিফার ডগ তাদের তারা করে । গৌতম মরে পরে থাকে বাকি সবাই ছুটতে থাকে , দৌড়াতে দৌড়তে অনেক দূরে এসে লখিয়া হরিয়া আর রজক হাঁপাতে থাকে , আর   সামনে তাকিয়ে দেখে সাক্ষাৎ জমের মুখে দাঁড়িয়ে তারা , সামনে ঢোল অর্থাৎ জংলি কুকুরের দল যাদের বাঘেরাও ভয় পায় কারণ এরা দল বেধে শিকার করে । সেই কুকুরের দল ঝাপিয়ে পরে ওদের ওপর , সবাই আর্তনাদ করতে থাকে , কুকুর গুলো ছিঁড়ে খায় তাদের । )

ওদিকে গৌতমের লাশ বাইরে গ্রামে আনা হলে গ্রামবাসী ভিড় জমায় । গৌতমের বউ অঝোরে কাঁদতে থাকে । লাশ কে দেখিয়ে রেঞ্জার সাহেব বলেন ।

রেঞ্জার – অবরাধের পরিণতি এটাই । এই বক্সার জঙ্গল তোমাদের ,রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের থেকে তোমাদের বেশি , আমরা ডিউটি করতে এখানে আসি , কিন্তু তোমরা তো এখানকার ,৬৮ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৪১ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি, ৪ প্রজাতির উভচর এবং ১০৩ প্রজাতির মাছ এবং প্রায় ৫০০ প্রজাতির কীটপতঙ্গ আছে এখানে , শাল সেগুন লালি তে ছড়ানো গাছ গাছালি , এরা তোমাদের বন্ধু , কিন্তু তোমাদের মধ্যে যখন কেউ কেউ সস্তায় বড়লোক হওয়ার আর প্রলোভনের রাস্তা বেছে নেয় , কি হয় নিজের চোখে দেখতে পারছ তো এর পরিণতি । শাল সেগুনের ভরা জঙ্গলে এখন তো পাশাপাশি গ্রামে থাকার সুবাদে প্রচুর সুবিধা তোমরা পাও , কাজ পাও , তবু অসৎ পথ বেছে নিলে কি পরিণতি হয় নিজের চোখে ই তোমরা দেখ ।

গ্রামবাসী – হ্যাঁ বাবু , হক কথা , পয়সা রোজগারের চক্করে পরান ডা খুইয়ে কি লাভ । তবে বাবু , আমরা গরিব , আমাদের কাজ দেন ।

ডেপুটি রেঞ্জার – কাজ ছড়িয়ে ছিটিয়ে প্রচুর আছে , হয় তো রোজগার খুব বেশি নয় , কিন্তু বেঁচে থাকার মত । চেষ্টা কর , সৎ থাক , অকারণে লোভের পরিণতি তোমাদের চোখের সামনে পরে আছে ।

                                                                                             সমাপ্ত

Leave a Reply