নাটক –  শৈশব

শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব শৈশব

নাটক –  শৈশব

নাট্যকার – –   বিশ্বদীপ মুখাজ্জী

চরিত্র –                                      বয়স

বিদ্যা –         দিদি                    ১৭  বছর

অর্ক –         বড় ভাই               ১৫  বছর

আশিস –     ছোট ভাই              ১২   বছর 

বিদ্যা –  অন্ধরা অন্ধ না । যাঁদের চোখ আছে তারা ই অন্ধ । তুই কখন ও কোন অন্ধ কে accident করতে দেখেছিস ?

আশিস – না , তবে accident এর জন্য অন্ধ হতে দেখেছি ,  অর্ক দা কে । 

বিদ্যা – সেটা ই তো । মানে যার চোখ আছে তারা দেখেও দেখেনা , কিন্তু যাদের চোখ নেই তারা সাবধানতা অবলম্বন করে চলে । আমাদের অর্ক কে ই দেখ না , যেটা আমরা বুঝতে পারি না ও ঠিক বুঝে নেয় ।

অর্ক – এখানে এত জল কে ফেলল , অথই জল , দিদি ?

বিদ্যা – আমি মুছে নিচ্ছি ভাই , তুই চৌকিতে বস ।

অর্ক – হা হা হা , কত আর মুছবি দিদি , আমার সামনে শুধু জল আর জল , সমুদ্র কি মোছা জায় ? হা হা হা ।

আশিস – আচ্ছা দিদি , এই যে রাস্তায় দেখি,  মাঝে মধ্যে বাইক নিয়ে খুব জোরে হাওয়ার বেগে অনেক ছেলে মেয়ে চলে যায় তারা কি খুব ব্যস্ত ?

বিদ্যা – কি জানি ?  কেন ?

আশিস – আগের দিন দেখলাম লল্টে দা কে,  দুজনকে চাপা দিতে দিতে বেচে গেল , তার পর পল্টন দার দোকানে দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছে ।

এই অর্ক , তুই ও তো দেখলি ,

অর্ক – ( হেসে ) অনুভব করেছিলাম ।  তাহলে হয়ত ওর কাছে মানুষ মেরে চা খাবার মজা ই আলাদা । হা হা হা ।

আশিস – আচ্ছা দিদি , বাবা মা কবে থেকে নেই রে ?

অর্ক – আমি যবে হয়েছি ।

বিদ্যা – তোর ছমাস আর আমার পাঁচ বছরের মাথায় । অর্ক  তখন তিন বছর ।

আশিস – সেটা কেন ? দিদি তো বললো আমি তখন ছ মাসের ।

অর্ক – আমাকে নিয়ে চিন্তা করে ই তো বাবা মা শেষ হয়ে গেল ।

বিদ্যা – অমন করে বলতে নেই ভাই ।

অর্ক – বাস্তব বড় কঠিন দিদিভাই , সেটা মেনে নেওয়াই ভাল ,

আশিস – যারা মরে যায় তারা ফেরে না কেন রে ?

অর্ক – তারা বেঁচে যায় বলে ।

বিদ্যা – মরার পর তারা অন্য জায়গায় চলে যায় । তাই ।

আশিস – তবে যে উকিল কাকু বলছিল মানুষ মরে কিন্তু তাদের আত্মা মরে না ।

বিদ্যা – ঠিক ই তো ।

আশিস – আত্মা কি রে ?

বিদ্যা – আমাদের শরীর টা একটা খোলস , আত্মা তার মধ্যে থাকে । যখন মানুষ মরে যায় তখন আত্মা এই খোলস ত্যাগ করে মানে ছেড়ে অন্য খোলসে গিয়ে ঢোকে । তাই আত্মা অমর ।

আশিস – তাহলে তো আমরা সবাই অমর , আমাদের বেচে থাকা আর মরে যাবার মধ্যে তফাত কি ? মরে গেলে ই বা কি । শরীর মরে যাক , আত্মা তো বেঁচেই থাকবে ।

বিদ্যা – ওসব তুই বড় হলে বুঝবি

আশিস – বড় হলে বুঝব কেন ? আমি এখন ই বুঝবো , তুই বোঝা আমাকে ।

বিদ্যা – আরে বাবা , আমাদের বাবা মারা গেলেও  মা তো মারা যায় নি , আমাদের ছেড়ে চলে গেছে ।

আশিস – কোথায় ?

বিদ্যা – জানি না ।

আশিস – না , তুই জানিস , আমাকে বল ।

বিদ্যা – অন্য একজন কে বিয়ে করে চলে গেছে ।

আশিস – কেন ?

অর্ক – সুখের খোঁজে ।

আশিস – সুখ কি ? বিয়ে করলে কি হয় ?

বিদ্যা – আমাকে আমার কাজ তুই করতে দিবি না ? শুধু বক বক ।

আশিস – বাবা মা থাকলে তো তাদের জিজ্ঞেস করতাম । নেই বলে ই তো তোকে জিজ্ঞেস করি ।

বিদ্যা – তোর যখন জ্ঞান বুদ্ধি হবে , তখন তুই সব বুঝতে পারবি ।

আশিস – জ্ঞান, বুদ্ধি কীভাবে হবে ?

বিদ্যা – প্রচুর পড়াশোনা করলে ।তাই তো তোকে বলি , জীবনে বড় হতে হলে পড়াশোনা টা ভাল ভাবে কর । সোনা ভাই আমার , আমার কাজ গুলো করতে দে । না হলে জানিস তো ? তুই একটু অর্কের সাথে কথা বল ।

অর্ক – আর তার সাথে সাথে চোখ কান খোলা রাখ । তুই যে এত প্রশ্ন করিস এটা ভাল তবে মাঝে মধ্যে কিছু প্রশ্ন অন্যকে করার আগে নিজেকে করবি । দেখবি উত্তর পেয়ে গেছিস ।

আশিস – এই অর্ক দাদা , সুখ কি রে ?

অর্ক – শুধু অনুভব করে ভালো থাকা টা কে সুখ বলে ।

আশিস – আমি তোর কথা কিছু বুঝতে পারি না ।

আশিস – এই দিদি ,  জেঠিমা তোকে মারে কেন রে ?

বিদ্যা – কোথায় মারে , ও কিছু না ।

আশিস – আমি সব জানি , তুই এত কাজ করিস তাও জেঠিমা এমন করে ? আমি বড় হয়ে জেঠিমা কে খুব মারব ।

বিদ্যা – না , তোকে কিছু করতে হবে না । তুই শুধু মানুষ হ

আশিস – আমি কি মানুষ নই ? জানিস দিদি , সেবার চিড়িয়াখানা গিয়ে খুব আনন্দ হয়েছিল ।

বিদ্যা – হ্যাঁ – তাহলে বল , অমল কাকু জেঠূ জেঠিমা কে রাজি করিয়ে আমাদের  নিয়ে তো গিয়েছিল , কত কিছু দেখেছিলাম , বাঘ , সিংহ হাতি , তাই না বল ?

আশিস – এই অর্ক দাদা , তোর চিড়িয়াখানা কেমন লেগেছিল ?

অর্ক – দারুণ ।

আশিস – কিন্তু তুই তো দেখতে পাস না , তোর ভাল লাগল কি ভাবে ।

অর্ক – ভাগ্যিস দেখতে পাই না , তাই তো বাঘ আর সিংহের হিংস্র চাউনি দেখতে পাই নি , শুধু অনুভব করেছিলাম পাখিদের কিচিরমিচিরের মধ্যে মিষ্টি মধুর কথা আর

আশিস – আর ?

অর্ক – আর হাজার হাজার মানুষের আনন্দের হাসি , নতুন কে দেখতে পাওয়ার হাসি ।

আশিস – কুমির গুলোকেও দেখেছিলাম , মরার মত মটকা মেরে পরে থাকতে । অমল কাকু বলেছিল ওরা মরে নেই , ওভাবেই পরে থাকে আর শিকার ধরে ।

বিদ্যা – তোর সব থেকে কি ভাল লেগেছিল ?

আশিস – একটা   শিম্পাঞ্জী তার বাচ্চা কে বুকে জড়িয়ে বসে আছে ।

বিদ্যা – হ্যাঁ , ওটা মা শিম্পাঞ্জী ,

আশিস – জানোয়ার রাও তাহলে বাচ্চা কে এত ভালো  বাসে ?

বিদ্যা – সবাই বাচ্চা কে ভাল বাসে

আশিস – আমাদের মা ?

অর্ক – হা হা হা হা

বিদ্যা – ভাই , কি হল আয়নায় নিজেকে ও ভাবে দেখছিস কেন ?

আশিস – হ্যাঁ রে দিদি , আমাদের তো মানুষের মত ই দেখতে বল

বিদ্যা – মানে ?

আশিস – আমরা মানুষ তো ?

বিদ্যা – ভাই , ( বলে ভাইকে বুকে জড়িয়ে ধরে )

( অন্যদিকে অর্ক প্রাণ খোলা হাসি হাসতে থাকে )

         সমাপ্ত

Leave a Reply