নাটক বিশ্বাসঘাতক  

নাটক – বিশ্বাসঘাতক –   বিশ্বদীপ মুখাজ্জী

      চরিত্র –                       বয়স

      সন্দীপ                         23

      চিনি                          18

      সোমা দেবী –                    48

     সুবিনয় বাবু                      61    

     মিত্তির বাবু                       63

     আনন্দ বাবু ( বিজ্ঞানী )             65

     রহিম আলি                       60

     দূর্বাদল বাবু                       61

     রায়চৌধুরী –                      68

     ক্যামেলিয়া                        38

      প্রবীর                          42

      মকসুদ                         37

চিনি – এ তুমি আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ ? এ তো একটা  পার্ক , তার মধ্যে এদিক টায় মানুষ জন ও বেশি নেই ।

সন্দীপ – হ্যাঁ , আমার সঙ্গে এস ।

চিনি – এটা কি ?

সন্দীপ – চটি টা খোল , ( জলের বোতল এগিয়ে দেয় ) হাত টা ধুয়ে নাও ।

এই নাও , এটা ধর ।

( চিনি সন্দীপের দেওয়া পুস্পস্তবক টা নেয় ) ।

নাও , এবার এখানে এটা দাও ।

এটা কার সমাধি ?

সন্দীপ – গাছ দাদুর ।

চিনি – গাছ দাদু কে ?

সন্দীপ – কিছু বীর আছেন জার কথা ইতিহাসে লেখা থাকে না , ইনি এরকম ই একজন । তবে শোন তার কথা । তোমার সেই ঘটনা টা মনে আছে তো …।।

শুধু তোমাকে ডট কম ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয় চন্দননগরের সন্দীপের সঙ্গে হাওড়ার রামরাজাতলার চিনির । চিনির ভাল নাম শুঘু আমি কেন , সন্দীপ ও জানেনা । এর দোষ অবশ্যই চিনি কে দেওয়া যায় না কারণ আজ কাল এই সব ডেটিং অ্যাপের মধ্যে কত রকমের ভুয়ো কারবার ই না চলে তার কি কোন ঠিক আছে ? তাই চিনি বুদ্ধি করে তার বাবা মায়ের দেওয়া নাম টা না দিয়ে এই নাম টা দিয়েছে । ডেটিং অ্যাপের হাজার খারাপ দিক থাকলেও ভাল দিক টাও ভুললে চলবে কেন ? বিশেষ করে আজ কাল কার দিনে হাওড়ার মত জায়গায় থেকেও যদি একটা বয়ফ্রেন্ড  না থাকে তাহলে লোক সমাজে মুখ দেখানো ই দায় । এমন টা চিনি মনে করে । সন্দীপের মানসিক অবস্থাও অনেকটা সেই রকম , তাই সায়ন নিজের কাজে ব্যস্ত থাকলেও , সৌভিকের ডানা বাঁধা পাখির  খাঁচায় ছটফট করার মত অবস্থা হলেও সন্দীপের উদগ্র বাসনা গার্লফ্রেন্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে বেড়েই চলে ।তার ই ফলশ্রুতি হিসেবে শুধু তোমাকে ডট কম এবং চিনি কারণ , প্রেম বড় বালাই ।

সন্দীপ – হাই

চিনি – হ্যালো

সন্দীপ – কেমন আছ ?

চিনি- খুব ফাস্ট দেখছি ! প্রথমেই সরাসরি তুমি ?

সন্দীপ – না , মানে এটা ডেটিং সাইট তো ।

চিনি – তাই প্রথমেই কাউকে বিয়ে করা বউ এর মত ডাকা যায় , তাই তো ?

সন্দীপ – না , মানে ঠিক তা নয় ……

চিনি- তাহলে কি ?

সন্দীপ – না , মানে

চিনি – আরে মানে টা ই তো জানতে চাইছি । এর আগে কত জন কে পটিয়েছ ?

সন্দীপ – এক জন কে ও না । তুমি ই প্রথম ।

চিনি – ওরকম সবাই বলে ।

সন্দীপ – আরে কি মুশকিল , এই তো রেজিস্ট্রেশন করলাম । স্ক্রিন শট পাঠাবো ?

চিনি – না থাক , তার দরকার নেই । কি করা হয় ?

সন্দীপ – ফটোগ্রাফি র কাজ করি ।

চিনি – মডেলিং এর ফটো তোল ? আমার ফটো তুলতে পারবে ? মান সম্মান নষ্ট করবে না তো ?

সন্দীপ – আমি মডেল দের ফটো শুট করিনি কখন ও । ওয়েডিং এর কাজ করি ।

চিনি – সেটা কি ?

সন্দীপ –  ওয়েডিং , মানে বিয়ের কাজ ই বেশি করি ।

চিনি – বা , গুড , এই , তোমার বয়স কত গো ?

সন্দীপ – তেইশ , তোমার ?

চিনি – জান না , এটা জিজ্ঞেস করতে নেই ।

সন্দীপ – সেটা মান্ধাতা আমলে ছিল । এখন ও সব নেই , এখন কেউ ই বয়স লুকায় না ।

চিনি – খুব স্মার্ট ।

সন্দীপ – বল না ।

চিনি – উচ্চমাধ্যমিক দিলাম । গেস কর ।

সন্দীপ – আঠারো ?

চিনি – তাই হবে । ওয়েডিং এর কাজ যখন কর তখন তো জীবনে মেয়ে দের ছড়াছড়ি । এখন ও অবধি কত গুলো বিয়ের ফটো শুটের কাজ করেছো ?

সন্দীপ – ছয় বছর হয়ে গেল ।

চিনি – বাঃ , তুমি তো খুব কাজের ছেলে। ২৩ বছর বয়সের মধ্যে ৬ বছর কাজ করে ফেলা তো কম কথা নয় ।

সন্দীপ – তা ঠিক ।

চিনি – এত অনুষ্ঠানে কাজ করে শেষ পর্যন্ত ডেটিং সাইটে ? এত দিনে একটা মেয়ে পটাতে পারনি ?

সন্দিপ- সেটা সত্যি পারিনি ।

চিনি – না আগে গার্লফ্রেন্ড ছিল ? ব্রেক আপ হয়ে এখানে ?

সন্দীপ – না না , আমার কাজ থেকে অবসর পেলে তো ? আমাদের কাজের প্রচুর চাপ । ফটো শুট , তার পর এডিটিং , খুব নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুরো কাজ টা গুছিয়ে শেষ না করলে ভাল রেপুটেশন হওয়া মুশকিল , আর সেটা না হলে নতুন কাজ পাওয়া খুব সমস্যার ব্যাপার ।

চিনি – তা হলে তো তুমি আমাকে সময় ই দিতে পারবে না , কি হবে তোমার সাথে রিলেশনে গিয়ে ?

সন্দীপ – আরে না না , আমাদের কাজের একটা নির্দিষ্ট সিজন যেমন আছে তেমন অফ সিজন ও আছে ।

চিনি – মানে তোমার অফ সিজন এ তুমি আমায় সময় দেবে , আর তোমার সিজিনে ? আমাকে আর একটা বয়ফ্রেন্ড জোগাড় করতে হবে ( হাসি )?

সন্দীপ – সব কথা কি এখানে হয় ? একদিন দেখা কর না ।

চিনি – আমাকে মা বাড়ি থেকে একা বেরোতে দেয় না ।

সন্দীপ – তাহলে ?

চিনি – আচ্ছা , দেখছি । পরে জানাবো । এখন যাই ।

সন্দীপ – ফোন নম্বর টা ……।

চিনি – পরে ।

সন্দিপ- যা , চলে গেল , আবার কখন আসবে কে জানে , ঠিক আছে , মিনিমাইজ করে রেখে আমার কাজ গুলো করি । মেসেজ এলে তো দেখতে ই পাব ।

( স্থান – চন্দননগর স্ট্যান্ড , লম্বা পিচ বাঁধানো রাস্তার একদিকে বিভিন্ন সরকারি দফতর , থানা , কোর্ট ,  সাংস্কৃতিক মঞ্চ , আর একদিক চওড়া করে বাঁধান পিচ রাস্তা থেকে সামান্য উঁচুতে , বলা যায় অনেক চওড়া ফুটপাত , যা রেলিং দিয়ে ঘেরা , তার পাশে সারি সারি বহু পুরোনো বড় বড় গাছ , পাখির ডাক ,  আর তার নিচে ই বয়ে চলেছে গঙ্গা নদী , এখানে মানুষ এসে সকাল বিকেল বসে । এরকম গাছের ছাওয়ার নিচে বসার জন্য লম্বা সারি সারি বেঞ্চি পাতা এখন খুব কম ই দেখতে পাওয়া যায় । বলা যায় এই জায়গা টি চন্দননগরের প্রাণকেন্দ্র । কিছু বয়স্ক মানুষ এখানে সকাল বিকেল সময় কাটাতে আসেন , সে রকম ই কিছু মানুষের আড্ডাস্থলে ………)

সুবিনয় বাবু – কি মিত্তির বাবু , কতক্ষণ ?

মিত্তির বাবু – এই তো , মিনিট পাঁচেক হল । বিজ্ঞানী আসবে না ?

সুবিনয় – আসবে তো , কিন্তু আজ বোধ হয় বিজ্ঞানীর আসতে একটু দেরি হবে ।

মিত্তির – কেন ? আবার নতুন কোন আবিষ্কার ?

সুবিনয় – না না , ওনার ছেলে , বউমা আর নাতি এসেছে নিউজিল্যান্ড থেকে । প্রায় দশ বছর পর । কাজেই , আরে ঐ তো , বিজ্ঞানী এসে পড়েছে । বস বস , তোমার জায়গা রেখে দিয়েছি ।

আনন্দ বাবু ( বিজ্ঞানী ) – সত্যি সুবিনয় , তোমার স্কুলের সেই অভ্যাসটা এখন ও রয়েই গেল । কি বল মিত্তির , হা হা হা

মিত্তির – হা হা হা

সুবিনয় – কিছু কিছু অভ্যাস , মানে যেটাকে দুম করে বদ অভ্যাস বলা যায় না , সেই অভ্যাসগুলো থাকলে মন্দ হয় না ।

( তিনজনেই হেসে ওঠে – হা হা হা )

মিত্তির – তোমার ছেলে , বউমা , নাতি , সব কুশল তো ?

আনন্দবাবু ( বিজ্ঞানী ) – আর কুশল , এই গরমে আমরা ই পাগল হয়ে যাচ্ছি , আর ওরা তো ………

মিত্তির – সে তো বটেই , আচ্ছা ভায়া , আগেও তো গরম পড়ত । কিন্তু এ কেমন গরম ? এখানকার গরমে তো ঘাম হয়েছে , কোনোদিন শ্বাসকষ্ট তো হয়নি । এখন তো প্রশ্বাস নেওয়াই রীতিমতো দায় হয়ে উঠেছে ।

বিজ্ঞানী – কেন ? আরও বেশী করে বড় বড় গাছ গুলো কেটে ফেল , । বাগান কেটে বাড়ি বানাও , চাষের জমি গুলো পর্যন্ত ছোট ছোট প্লটে বিক্রি করে দাও ,  বড় বড় কমপ্লেক্স বানাও । আর একটা গাছ পোঁতার বেলায় নৈ ব নৈ ব চ , তাই  যা হওয়ার তাই হচ্ছে ।

সুবিনয় – এটা তো লাখ কথার এক কথা ।

বিজ্ঞানী – রহিম , তুমি কিছু বলছ না যে ।

রহিম – তোমরা বলছ তো , আমার স্রোতা হওয়াই বেশি পছন্দের । তোমাদের কথা শুনতে আমার ভাল লাগে । আমি তোমাদের সাথে একমত । এর প্রতিকার খুব দরকার , আমি তোমাদের সঙ্গে আছি ।

মিত্তির – আরও আছে , ডোবা পুকুর সব বোঝাও , না আছে কচুরিপানা , না এসে বসে একটা বক । বড় গাছ নেই , তাই পাখী ও নেই । 

বিজ্ঞানী – আগে হাওড়া থেকে যখন ট্রেনে করে ফিরতাম , মানে যখন ব্যান্ডেলে থাকতাম আর কি , ট্রেনে ফিরতে ফিরতে  জানলা দিয়ে তাকিয়ে দেখতাম দুপাশে শুধু সবুজ আর সবুজ । রাতে কয়েকটা দোকানে টিম টিম করত আলো , আর এখন !

( দূর্বাদলের প্রবেশ )

দূর্বাদল – আরে তোমরা সবাই এদিকটা সিট পাকড়াও করেছো আর আমি রবিন্দ্রভবনের ওদিকটা খুঁজে মরছি । তা আজ এদিকে কেন ?

সুবিনয় – কেন আবার , এখানে জায়গা টা ফাঁকা পেলাম তাই । আজ কাল নেংটি ইঁদুরের এত উপদ্রব বেড়েছে , বসার জায়গা পাওয়াই দায় হয়ে উঠেছে ।

দূর্বাদল – নেংটি ইঁদুর ?

বিজ্ঞানী – হা হা হা , সুবিনয় কুচে কাচা গুলো কে নেংটি ইঁদুর বলে ।

দূর্বাদল – ও , তাই বল ,

সুবিনয় – পরশু ব্যান্ডেল গিয়েছিলাম একটা কাজে , সত্যি গো , চন্দননগর চুঁচুড়া , হুগলী স্টেশনের পাশে তো চেনাই যাচ্ছেনা । চুঁচুড়ায় তো পুরো সবুজ টাই উড়ে গেছে । শুধু বড় বড় বাড়ির আস্ফালন আর ঢালাই রাস্তা , একটা বড় গাছ ও অবশিষ্ট নেই ।

বিজ্ঞানী – এর একটা রিঅ্যাকশন নেই ? এভাবে চলতে থাকলে …………

সুবিনয় – সত্যি , আমরা নতুন প্রজন্ম কে কি উপহার দিচ্ছি ? শ্বাসকষ্ট ?

মিত্তির – শিক্ষার অভাব , বুঝলে ? প্রকৃত শিক্ষার অভাব । 

দূর্বাদল – কিন্তু আমরা কি ই বা করতে পারি ? কিছু বললেই বা শুনছে কে ? এই অবস্থা তো একদিনে হয় নি । ক্রমশ বাড়তে বাড়তে আজ এই জায়গায় এসে ঠেকেছে ।

মিত্তির – আর ভাই , আমাদের তিন কাল গিয়ে এক কালে ঠেকেছে ।

বিজ্ঞানী – দেখ , করতে আমরা অনেক কিছু ই পারি , আর কিছু করলে তা আমাদের ই করতে হবে ।

সুবিনয় – মিউনিসিপ্যালিটি থেকে নিয়ম করা দরকার , বাধ্যতামূলক ।

দূর্বাদল – সেটা কি ?

সুবিনয় – আমরা যখন বাড়ি করি , তখন কিছু নিয়ম কানুনের আওতায় পড়ি তো ? মানে কিছু নিয়ম কানুন বেঁধে দেওয়া আছে তো ? মানে যেমন ধর , আশেপাশে কতটা জায়গা ছাড়তে হবে, কোন জমিতে বাড়ি করতে পারবো কোন জমি তে নয় , নিয়ম  মেনে রাস্তার ও মাপ আছে , কিন্তু যেটা নেই সেটা হল বাধ্যতামূলক ভাবে কোন গাছ লাগানোর নির্দেশ ।তাই ঝাঁ চকচকে বাড়ি হলেও এলাকাগুলো ক্রমশ গাছ শূন্য

মিত্তির – সত্যি , এই কাঠফাটা রদ্দুরে ছাতা নিয়ে না বেরোলে একটা বড় গাছ নেই যে তার ছায়ার তলায় দু দণ্ড দাঁড়াবো ।

দূর্বাদল – এই গুলো ধর ।

সুবিনয় – কি আছে ?

মিত্তির – নিশ্চয় ভেলপুরি , দাও দাও দেখি ।

সুবিনয় – আরে ! হামলে পরার কি আছে ? তোমারটা কেউ নিয়ে তো আর পালাচ্ছে না । নাও বিজ্ঞানী নাও ।

বিজ্ঞানী – আগে মিত্তির কে দাও । ও তো এই ভেলপুরি আর মিষ্টির জন্য চন্দননগর আমেরিকায় গেল না ।

( সবাই হাসি )

মিত্তির – তা যা বলেছ । এরকম স্ট্যান্ডের ধারে পুরোনো পাপী দের সাথে    আড্ডা , এমন বন্ধু , এমন ভেলপুরি , জলভরা , আর রোজ জলখাবারের পর আর রাতে খাবার শেষে এমন মিষ্টি কোথায় পাই বল দেখি ?

( সবাই এক সাথে হেসে ওঠে )

দূর্বাদল – আচ্ছা বিজ্ঞানী , তুমি তো আমেরিকা গেছ , আমেরিকায় গাছ কাটা হয় না ? ফ্ল্যাট হয় না ? ওখানে বিশাল সব কমপ্লেক্স ।

বিজ্ঞানী – হবে না কেন ? সব ই হয় , তবে প্রাকৃতিক ভারসাম্য কে নষ্ট করে নয় । ওরা চাষ যোগ্য জমি কখন ও নষ্ট করে না । একটা সহজ জিনিস ভুললে চলবে না , শুধু আমাদের দেশে নয় , প্রতিটা দেশে মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে , কিন্তু চাষ যোগ্য জমির সংখ্যা বাড়ছে না । তাই এই ব্যাপারে উপযুক্ত পরিকল্পনা না করলে সমূহ বিপদ । যে বিপদের আঁচ লাগতে শুরু করে দিয়েছে ।

সুবিনয় – আমাদের এখানকার মত পুকুর ডোবা বুঝিয়ে বাড়ি করার চল কোথাও নেই । বাস্তুতন্ত্রের দফারফা । আসলে ঐ যে , পুরোনো বহু পুরোনো একটা কথা আছে না , লোভে পাপ আর পাপে মৃত্যু !

মিত্তির – সত্যি , এর কি কোন সুরাহা নেই ?

বিজ্ঞানী – আছে , তবে বৃহত্তর উদ্যোগ সরকার বা শেষ অবধি কোর্ট কে ই নিতে হয় । কিছুদিন আগে বড় বড় কিছু গাছ কাটার জন্য কোর্ট পার্কস্ট্রিটের একটা কোম্পানি কে বিশাল অর্থ জরিমানা করেছে ।

মিত্তির – বিষয় টা খবরের কাগজে পড়েছিলাম ।

দূর্বাদল – সে তো গাছ কাটার পর জরিমানা । সে নয় ঠিক আছে , কিন্তু গাছ লাগানো ? তাকে সংরক্ষণ করে বড় করা ? সেগুলোর প্রতি দৃষ্টি কোথায় ? যে গাছ ১০০ / ১৫০ বছর ধরে বেড়ে উঠেছিল , হঠাৎ কেটে দিলে তার অভাব কি পূরণ হয় ? হতে পারে কখন ও ?

বিজ্ঞানী – কংক্রিটের এমন জঙ্গল যে বড় গাছ গুলো একটু ঝড়েই উপড়ে পরছে । আসলে মাটির নিচে শেকড় যে যাবে , তার রাস্তাই তো বন্ধ ।

দূর্বাদল – কাকে দোষ দেবে বল ? আমাদের এখানে সব কিছু নিয়ে আলোচনা করা যায় , খেলাধুলা , শিল্প , সংস্কৃতি , কিন্তু রাজনীতি এমন একটা জঘন্য জায়গায় চলেগেছে যে আলোচনা করতে গেলেই মারামারি হবার উপক্রম ।

বিজ্ঞানী – অথচ রাজনীতি ছাড়া বাঁচার ও কোন উপায় নেই । সবকিছুতেই তো রাজনীতি । কিন্তু পালিয়ে না বেড়িয়ে যে ফেস করবে তাতেও দুবিধা ভীষণ ভাবে কাজ করে ।

সুবিনয় – এই জমি বাড়ি র ব্যাপারে সব থেকে রমরমা এখন দালাল রাজের ।

মিত্তির – হবে না কেন বল ? চাকরি বাকরি নেই বললেই চলে । চারিদিকে শুধু স্ক্যাম আর স্ক্যাম , আর দালালির থেকে সহজ রোজগার কিছু আছে ? কাঁচা টাকা । একটা জমির পেছনে তিন চার টে করে দালাল চক্র । ভদ্রেশ্বরের থেকে ব্যান্ডেল অবধি জমির দাম কলকাতার জমির দাম কে হার মানাতে চলেছে ।

বিজ্ঞানী – সমূহ বিপদ ভায়া , সমূহ বিপদ ।

দূর্বাদল – আমাদের আমলে এরকম অবস্থা ছিল না । ৩৪ বছরের রাজত্বকালে এত স্ক্যাম কেউ দেখেছে কখন ও ।

সুবিনয় – দয়াকরে পুরোনো কাসুন্দি আর ঘেঁটো না । প্রাইমারি স্কুল থেকে ইংরেজি কারা তুলেছিল ? একটা কম্পিউটার একশো জনের চাকরি খেয়ে নেবে বলে ছেলেমানুষি আন্দোলন কারা করে ছিল ? কথায় কথায় বাংলা বন্ধ , ভারত বন্ধ , এসব কাদের আমলে ঘটেছিল শুনি ?

মিত্তির – এসব তর্কের শেষ নেই , আসলে লঙ্কায় গেলেই রাবণ । কিন্তু আসল বিষয় বস্তু থেকে সরে গিয়ে লাভ আছে কি ?

বিজ্ঞানী – খুব দ্রুত যা করার করতে হবে । খুব দ্রুত , না হলে বেশি দিন নয় । সামনের দশ বছরে পরিস্থিতি ভয়ংকর হতে চলেছে । চল , এবার ওঠা যাক ।

সবাই – হ্যাঁ , চল ।

( দুই জমি বাড়ি দালালির মস্তান প্রবীর আর মকসুদ বনেদি পরিবার রায়চৌধুরী

দের বাড়িতে হাজির হয় তাদের এক মাত্র বংশধর শম্ভুনাথ রায়চৌধুরী কে  রাজী করাবার জন্য । রায়চৌধুরী রা চন্দননগরের বনেদি বাসিন্দা , জমি বাড়ি মিলিয়ে জায়গাও তাই প্রচুর । স্বভাবতই প্রমটার দের লোলুপ দৃষ্টি যে সে দিকে থাকবে তার বলার অপেক্ষা রাখেনা । )

প্রবীর – কেন ছেলেমানুষি করছেন কাকা , বলছি তো , ভাল দাম পাবেন ।

মকসুদ – কতদিন আর যক্ষের ধনের মত জায়গা জমি আগলে পরে থাকবেন ? ভাল দাম দিচ্ছি , একটা ফ্ল্যাট নিয়ে বাকি টাকা ব্যাংকে ফিক্স করে আর দশ জনের মত বাকি জীবন টা শান্তি তে কাটান ।

রায়চৌধুরী – আমি তোমাদের আগেও বলেছি , এখন ও বলছি আমার জায়গা আমি বেচবো না । টাকা বড় কথা বয় । ওটা তোমরা নতুন দেখতে শিখেছ তাই কার সাথে কি ভাবে কথা বলতে হয় ভুলে গেছ বা হয়ত জানতে ই না । বাবা মা এর কাছে মানুষ হয়েছ তো ?

মকসুদ – এই কাকা , মুখ সামলে ।

রায়চৌধুরী – শোন বাবা , তোমার মত ছেলে রা আমার বাড়িতে চাকর হওয়ার ও যোগ্য নয় । এতক্ষণ যে তোমাদের সাথে দাঁড়িয়ে কথা বলছি সেটা তোমার বাপের ভাগ্য ভাল । এদিক টা আর মারিও না , সুবিধা হবে না ।

ক্যামেলিয়া – বাপি , তুমি এত বক বক কাদের সাথে করছ ? তোমার জলখাবার ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে তো ।

রায়চৌধুরী – আসছি রে মা , নতুন দালালি তে কয়েকটা ছেলে নেমেছে । তারাই বকিয়ে মারছে । তোমরা যাও , আর এস না । এ বাড়ি এমন ই থাকবে । শুধু আমি বেঁচে থাকতে নয় , মরে গেলেও । ভারতসেবাশ্রমে দান করে যাব ।

প্রবীর – কাজটা ঠিক হচ্ছে না কাকা , এই জমি আমাদের চাই । মনে থাকে যেন । চলে আয় ।

( প্রবীর আর মকসুদ বেরিয়ে যায় )

ক্যামেলিয়া – তুমি ওভাবে ওদের সাথে কথা বল না বাবা , আমার খুব ভয় করে ।

রায়চৌধুরী – ওরা ও তো এটাই চায় রে মা , আমরা ওদের যাতে আরও বেশি করে ভয় পাই । এ এক অদ্ভুত মজার খেলা । যত ভয় পাবি , তত ভয় দেখাবে । ওদের শিক্ষা ও নেই , দীক্ষা ও নেই , শুধু একটাই মন্ত্র আর একটাই অস্তু , তোকে , আমাকে , আমাদের মত মানুষদের ভয় দেখিয়ে , দাবিয়ে , জায়গা জমি ছিনিয়ে নিয়ে নিজের আখের গোছান । আর এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে আমার বা তোর ও একটাই মন্ত্র , একটাই অস্ত্র হওয়া উচিত , ভয় না পাওয়া । সাহস দেখানো , ফুৎকারে ওদের উড়িয়ে দেওয়া ।

ক্যামেলিয়া – কিন্তু বাবা , সেটা কত দিন ? তোমার জামাই নেই আজ বছর তিনেক হল । বাবু দুন এর স্কুলে । এখানে শুধু তুমি আর আমি । ওরা তো এক একটা হায়না ।

রায়চৌধুরী – আসলে কি জানিস মা , বাড়ি , জায়গা এসবের প্রতি আমার আর কোন মোহ ই আজ নেই । হয়ত ওদের কথা ই ঠিক । সব বেচে একটা ফ্ল্যাট , আর ব্যাংকে প্রচুর টাকা নিয়ে বাকি জীবন টা বেশ ভালোভাবেই কেটে যাবে আমাদের । কিন্তু আমার সাধের বাগান , আমার সাধের গাছ গুলো ! হারামজাদা গুলো জানেনা , ঐ গাছ গুলোর অক্সিজেন আছে বলে এখন ও প্রশ্বাস নিতে পারছে এত বিড়ি , সিগারেট , গাঁজা টানার পর ও , এখন ও বেঁচে আছে । আমার ই বাড়িতে দাঁড়িয়ে আমাকেই বড় বড় কথা বলতে পারছে । না , এই বাগান , এই এত বছরের পুরোনো গাছ গুলোর কোন ক্ষতি আমি হতে দেব না । কোনো ভাবেই না । কি রে , এই সব অনাচারের বিরুদ্ধে আমরা বাপ-মেয়ে তে রুখে দাঁড়াতে পারব না ?

ক্যামেলিয়া – নিশ্চয়ই পারব বাবা , আমাদের পারতেই হবে । আমি সব সময় তোমার সঙ্গে আছি ।

রায়চৌধুরী – এই তো চাই মা । এই তো চাই । জানিস মা , বিপ্লব কথাটা সর্বকালের , সব সময়ের । শুধু সময়ের নিরিখে এর রকমভেদ ঘটে । ক্ষুদিরাম প্রাণ দিয়েছিলেন , তখন সেটার দরকার ছিল , আর আজ সময়ের ফেরে এই বাগান, এই গাছগুলোর জন্য আমাদের বিপ্লবীদের মত ই রুখে দাঁড়াতে হবে । প্রয়োজনে জীবন দিতে হবে ।

ক্যামেলিয়া – বাবা !

রায়চৌধুরী – হ্যাঁ রে মা , এভাবে বেঁচে থেকে কি লাভ , গরু গাধা ছাগল পাগলের মত ? আমরা কি অমর ? দরকার পরলে প্রাণ দেব , কিন্তু একটা গাছেও হাত দিতে দেব না । কাটতে দেব না এই সুন্দর সবুজ কে । কোনো ভাবেই না ।এরা সব এক একটা মূর্তিমান কালিদাসের প্রথম জীবনের কার্যকলাপ নিজেদের জীবনে বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে । যে গাছের ডালে বসে , সেই ডাল টা ই কাটছে । যে গাছ থেকে বেঁচে থাকার , সুস্থ থাকার রসদ নিচ্ছে , সেই গাছ গুলোকেই কাটছে ।

ক্যামেলিয়া – সত্যি বাবা , কথায় বলে নিজের ভালো পাগলেও বোঝে ।

রায়চৌধুরী – তা বোঝে , কিন্তু মূর্খরা বোঝে না । এরা সবাই নিজেদের কে প্রচুর চালাক ভাবে , কিন্তু আসলে এরা মহা মূর্খ । তুই ভাব , আমরা কোথায় পরে আছি ।

ক্যামেলিয়া – তুমি এসব নিয়ে এত ভেব না বাবা , তোমার শরীর খারাপ করবে ।

রায়চৌধুরী – না রে মা , আমার শরীর খারাপ করবে না । এই বাগান , এই গাছ গুলো ই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে । সকালে যখন বাগানে পায়চারি করি , চোখে একটা অদ্ভুত আরাম লাগে । সবুজের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে ভাবি এই গাছ গুলো এত বছর আমাদের সুস্থ ভাবে বাঁচিয়ে রেখেছে । আর আজ আমাদের দায়িত্ব নয় এদের সুস্থ ভাবে বাঁচিয়ে রাখা ?

ক্যামেলিয়া – সবাই তো তোমার মত ভাবতে পারেনা বাবা , তাহলে তো দুনিয়া টাই শুধরে যেত ।

রায়চৌধুরী – শুধরাতে তো হবেই রে মা । নিজে থেকে না শুধরালে প্রকৃতি কানধরে শুধরে দেবে ।প্রকৃতির ও তো সহ্যের একটা সীমা আছে ।

ক্যামেলিয়া – জান বাবা , আমার এক বন্ধু জাপানে গিয়েছিল । বন্ধু টা  বলছিল জাপানি রা  বাগান , গাছ এসবের প্রতি কত যত্নশীল ।

রায়চৌধুরী – সে তো হবেই রে মা । ওরা প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে আছে । ওখানে , ভূমিকম্প  সুনামি , এসব লেগেই থাকে । তাই জাপানি রা এক, একটা বিপর্যয়ের হাত থেকে নিজেদের বাঁচাতে, প্রতিনিয়ত পরিশ্রম করে চলেছে । আর এখানে ? ঝর নেই , প্রলয় নেই , সুন্দর সুজলা সুফলা জায়গা । খরা নেই বন্যা নেই , জলের কষ্ট নেই , তাই মানুষ নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করতে উঠে পরে লেগেছে । স্বজন পোষণ আর আর চুরি ডাকাতি করে সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাৎ করাই যেন এখান কার নিয়ম ।

ক্যামেলিয়া – অনেক হয়েছে , তুমি এবার খেয়ে নাও বাবা , তার পর একটু রেস্ট নাও । আমি আমার কাজ গুলো সেরে ফেলি ।

রায়চৌধুরী – রেস্টেই তো ছিলাম , কিন্তু না , বেশি রেস্ট নিলে মুশকিল । মনে হচ্ছে এবার একটু নড়াচড়া করার সময় এসেছে । তুই যা , আমি খেয়ে নিয়ে একটু লাইব্রেরি তে গিয়ে বসি ।

( সন্দীপ আর চিনির মোবাইলে পরবর্তী চ্যাট শুরু হয় )

সন্দীপ – জীবনে এত অপেক্ষা কারোর জন্য করিনি কখন ও ,

চিনি – করতে হয় , করতে হয় । সবুরে মেওয়া ফলে , বুঝলে ।

সন্দীপ – একবার দেখা কর প্লিজ ।

চিনি – দেখ , আমি মা কে না জানিয়ে কিছু করতে পারব না ।

সন্দীপ – তুমি কি পাগল ? কোন মা তার মেয়ে কে প্রেম করতে ছাড়ে ?

চিনি – তা জানিনা । আমি তোমার কথা মা কে বলেছি । তোমার ফটো ও দেখিয়েছি ।

সন্দীপ – এই রে !

চিনি – মা বলেছে বাড়িতে এসে কথা বলতে । তাই আগে আমাদের বাড়ি এস । মা এর সাথে কথা বল , তার পর ……।

সন্দীপ – তার মানে তুমি আমার সাথে প্রেম করবে কি না সেটা তোমার মা ঠিক করবে ?

চিনি – এছাড়া আমার কিছু করার নেই । তাছাড়া এতে খারাপের তো কিছু নেই । তুমি আমাদের বাড়ি চলে এস । কথা, গল্প ,আড্ডা, সব ই হবে ।

সন্দীপ – ওকে ম্যাডাম , কবে ?

চিনি – কাল ই চলে এস ।

সন্দীপ – আগামীকাল নয় , পরশু । আগামীকাল কতগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে , করে নিই ।

চিনি – ওকে । পরশু বিকেলে চলে এস তাহলে ।

সন্দীপ – ডান ।

(রাতের বেলা আধো অন্ধকার পরিবেশে প্রবীর আর মকসুদের বাক্যালাপ )

মকসুদ – শালা , বুড়োটা বড্ড জ্বালাচ্ছে । এই বয়সেও এত তেজ !

প্রবীর – রায়চৌধুরী রক্ত বইছে শরীরে ,  জমিদারি রক্ত ।

মকসুদ – শালা কে কুপিয়ে ওর বাগানেই পুঁতে দিই চল । এই ফালতু লাফড়া নিয়ে কত দিন বসে থাকব ?

প্রবীর – অত সোজা না , ধরা পরে যাব ।

মকসুদ – ছোট বানাব ?

প্রবীর – এই টুকু তে আমার কি হবে ? বড় বানা । বড় । বুড়োর মেয়েটাকে দেখেছিস ?

মকসুদ – বিধবা না ?

প্রবীর – বিধবা হলে কি ? রসে টই টম্বুর । বিধবা ই তো ভাল । আরে কি যেন বলে , ও হ্যাঁ , মেনটেন করে মেনটেন ।

মকসুদ – পুরো কাশ্মীরি আপেল । রসালো । আমরা দুজনে কামড়ে কামড়ে খাব ।

প্রবীর – ঢাল শালা বেশি করে । এই টুকু তে আমার কি হয় ? যে মেয়েটা কাজ করে , সে রাত আটটার পর চলে যায় । বাড়িতে শুধু বুড্ডহা বাপ আর রসালো মাগি । শালা , চোখের সামনে পুরো ছবিটা ভাসছে ।

মকসুদ – কি ভাসছে তোর চোখের সামনে ?

প্রবীর – পেছনের পাঁচিল টপকে নামবো , কিন্তু সাবধানে , পাঁচিলের ওপর কাচ আর পেরেক আছে ।

মকসুদ – তার পর বড় দরজায় তালা লাগানোর আগেই ঢুকে পরতে হবে । ওদের রাত নটা তেই তালা পরে যায় । যা করার , রাত আটটা থেকে নটার মধ্যে করতে হবে ।

প্রবীর – এই তো শালা , আমার সঙ্গে সঙ্গে থেকে থেকে তোর ও বুদ্ধি খুলছে দেখছি ।

মকসুদ – কিন্তু যদি ধরা পরি , বউ বাচ্চা নিয়ে শেষ ।

প্রবীর – ওস্তাদ যখন বলেছিস , ওস্তাদের ওপর ভরসা রাখ । দুটো মার্ডার , একটা রেপ কেস , পুলিশ কিছু করতে পারেনি । শালা দেখবি , কেমন মাখনের অপর দিয়ে ছুরি চালাব ।

মকসুদ – মাল মিলবে ?

প্রবীর – মিলবে মিলবে ।ওদের পূর্বপুরুষ  জমিদার ছিল , টাকা পয়সা , গয়না সব মিলবে । এক কাজে দুই কাজ হবে । বুড়োর যা , সব আমাদের হবে । সব আমাদের ।

মকসুদ – তাহলে চল , এখন উঠি । ঘরে বিবি টার জ্বর ।

প্রবীর – উঠি কি রে ? নেশা ই তো হল না । ধরা , নে ধরা ।

মকসুদ – এর ওপর আবার গাঁজা খাবে ?

প্রবীর – তবে ই তো নেশা জমবে  রে । কি নাম যেন , ক্যামেলিয়া , আ …।।বিদেশি নাম । বিদেশিদের মত ই দেখতে । অনেকদিন নতুন রস চাখিনি । বাড়ির ছিবড়ে মাগীটার দিকে তাকাতে ঘেন্না হয় । আয়েশ করে পায়েস খাব । বুঝলি ।

মকসুদ – ওস্তাদ , আমি একটা কথা বলব ?

প্রবীর – বল ।

মকসুদ – আমি বলি কি , বুড়ো টাকে মারার দরকার নেই । তার থেকে ভাল , আমরা ওর মেয়েটাকে ধরে গুদাম ঘরে নিয়ে যাই । মেয়ের বদলে বুড়ো কে যাই

বলব তাই করে দেবে । ওর তো মেয়ে ছাড়া আর কেউ নেই । কাজ ও হবে , খুনের দায়ে জেলে ও জেতে হবে না ।

প্রবীর – কেন ? তুই কি জেলে যেতে ভয় পাস ?

মকসুদ – ভয় নয় ওস্তাদ , ভয় নয় । বিবিটা র বড্ড অসুখ ,দু বছরের মেয়ে । তখন দিন মজুরের কাজ করতাম , ভালোবেসে নিকা করে নিয়ে এলাম , খুব কষ্টে দিন চলতো ,কিন্তু সুখ ছিল ,  আর এখন টাকা আছে , সারাব আছে , সুখ নাই। আমি জেলে গেলে ও মরে পরে থাকবে ।আব্বুজান কথাটাও শোনা যাবে না ।

প্রবীর – তোদের এই প্যানপ্যানানি ভাল লাগে না । শালা , এত যদি পিছুটান , এ লাইনে নেমেছিস কেন ?

মকসুদ – টাকা র জন্য ওস্তাদ , টাকা র জন্য । বিবির চিকিৎসা করাবো , বাঁচিয়ে তুলব , মেয়ে আমার মানুষ হবে ।

প্রবীর – হবে হবে , সব হবে । আগে কাজ । তবে তোর কথা টা খারাপ না । কিডন্যাপ …। অ্যা , শালা , তোর মাথায় বুদ্ধি আছে রে মকসুদ । ঠিক আছে , ভাবতে দে । দে, দে , ভাল করে ধরিয়ে দে । জমিয়ে নেশা করি । ( কয়েকটা পর পর টান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে ) , আঃ , কি সুখ । এই তো জীবন ।

( তার পরের পরের দিন অর্থাৎ পরশু দিন বিকেলে সন্দীপ চিনি দের বাড়িতে পৌঁছে যায় । সন্দিপ, চিনি আর চিনির মা একসাথে আড্ডায় মেতে ওঠে )

সোমা দেবী – তোমার বাড়িতে কে আছে ?

সন্দিপ- দাদা , বৌদি ।

সোমা দেবী – বাবা , মা ?

সন্দীপ – বাবা নিরুদ্দেশ , মা কিছু দিন আগে মারা গেছেন ।

সোমা দেবী – তোমার জীবন টা তার মানে খুব কঠিন ।

সন্দীপ -( স্মিত হেসে ) সবার ভাগ্যে তো সব কিছু থাকে না । তাই মানিয়ে নিতে শিখে গেছি , তবে মা ই আমাকে খুব কষ্ট করে মানুষ করেছেন । খুব মিস করি মা কে ।

সোমা দেবী – আমার সত্যি এটা ভেবে ভালো লাগছে যে তুমি নিজেকে কাজের মধ্যে ডুবিয়ে দিয়ে ভাল রেখেছ । এরকম ছেলে আজকাল আর দেখতে পাওয়া যায়না । দাদা কি করে ?

সন্দীপ – দাদা , বৌদি , দুজনেই  এম, এ্ন, সি তে চাকরি করে ।

সোমা দেবী – আমি চিনির কাছে তোমার কথা শুনেছি । আমার তোমাদের মেলামেশা তে কোনো আপত্তি নেই , তবে যে স্বাধীনতা দিচ্ছি তার অপপ্রয়োগ করোনা । মনে রেখ স্বাধীনতা আর স্বেচ্ছাচারিতা এক নয় । আর নিজের কাজের থেকে ফোকাস যেন না হারায় , তাহলে সেদিন ই সব শেষ ।

তোমরা গল্প কর । আমি চা পাঠাচ্ছি । আর হ্যাঁ , রাতের খাবার খেয়ে যেও ।

সন্দীপ – ওটা আজ হবে না , মানে অনেক দেরি হয়ে যাবে । এমনিতেই আমি বাইক নিয়ে এসেছি ।

সোমা দেবী – ও , ট্রেনে , বাসে নয় , একেবারে বাইকে । তাহলে আর আটকাব না , তবে খুব সাবধানে ।

সন্দীপ – হ্যাঁ , আমি সাবধানেই চালাই ।

সোমা দেবী – তুমি তো সাবধানেই চালাও বাবা , কিন্তু তোমার উলটো দিকের মানুষ টাও সাবধান কি না তুমি কি ভাবে জানবে ? অক্সিডেন্ট তো শুধু তোমার ভুলে হবে না ।

সন্দীপ – তা ঠিক ।

সোমা দেবী – গল্প কর , আমি চা পাঠাচ্ছি ।

(সোমা দেবী র প্রস্থান ) ।

চিনি – কি বুঝলে ?

সন্দীপ – তোমার মা আর দশ জনের মত নয় । আমাদের ওপর উনি প্রথম দিন ই ভরসা আর বিশ্বাস করেছেন , আমাদের সেটা রাখতে হবে ।

চিনি – এই তো, গুড বয় ।

( চা আর বিস্কুট আর মিষ্টি আসে )

চিনি – খেয়ে নাও।

সন্দীপ – এত কিছু ?

চিনি – প্রথম দিন বলে দিলাম , রোজ রোজ পাবে না । হা হা হা

সন্দীপ – আমি রোজ রোজ আমার কাজ ফেলে তোমার বাড়ি মিষ্টি খেতে আসি , তাই তো , হা হা হা । আচ্ছা শোন , আজ চলি , বাড়ি গিয়ে ফোন করছি ।

চিনি – ওকে , সাবধানে যেও , বাই ।

সন্দীপ – বাই ।

( সেদিন সন্ধেবেলা বৈঠকখানায় বাবা আর মেয়ের কথা ) ।

ক্যামেলিয়া – আচ্ছা বাবা , তুমি যে গাছ গাছ করে এত উদ্বিগ্ন , সেটা যথার্থ কারণ ছাড়া যে নয় সেটা বুঝি , কিন্তু কতটা ।

রায়চৌধুরী – তুই কি পড়াশোনা টা একদম ছেড়ে দিয়েছিস মা ?

ক্যামেলিয়া – সত্যি বাবা , সেভাবে আর …।।

রায়চৌধুরী – এটা কিন্তু ভাল কথা নয় মা । পড়াশোনার অভ্যাস কখন ও যেন নষ্ট না হয় । জ্ঞান , ওটাতো আমাদের অস্ত্র , শান দিতে হবে না ? না হলে মরচে পরে যাবে যে রে ।

ক্যামেলিয়া – কি পরছিলে বাবা ?

রায়চৌধুরী – শুনবি ?

ক্যামেলিয়া – হ্যাঁ

রায়চৌধুরী – তবে শোন ,  India’s Carbon Emission Challenge : গ্রীষ্মে তাপপ্রবাহ বাড়তে পারে ৩-৪ গুণ ! ১০০ কোটি টন কার্বন নির্গমনের লক্ষ্যমাত্রা ভারতের

নয়া দিল্লি : বিশ্বজুড়ে বাড়ছে উষ্ণতা। ক্রমাগত তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে জেরবার মানুষ। গ্রীষ্মের দাবদাহের মধ্যে বাড়ির বাইরে হলেই যেন প্রাণ হাঁসফাঁস করে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীর মনে একটাই প্রশ্ন, কবে ফিরবে স্বস্তি ? আগামী দিনে কি এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা যাবে ? ভবিষ্যৎ যা-ই থাক, IFPRI-এর রিপোর্টে কিন্তু উদ্বেগ বাড়াতে পারে ।

কী বলছে IFPRI-এর রিপোর্ট ?

IFPRI কি সেটা জানিস তো ?

ক্যামেলিয়া – হ্যাঁ বাবা ।

 International Food Policy Research Institute (IFPRI)

রায়চৌধুরী – হ্যাঁ , তার ই রিপোর্ট শোন ।

তাপপ্রবাহ, বন্যা, ভারী বৃষ্টি এবং উচ্চমাত্রায় দূষণে নাজেহাল দেশবাসী। এরই মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে IFPRI-এর রিপোর্ট বলছে- ২১০০ সাল নাগাদ ভারতের গড় তাপমাত্রা ২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহ ভারতে ২১০০ সালের মধ্যে তিন বা চারগুণ হবে বলে অনুমান করা হয়েছে। সম্ভবত, তাপমাত্রা বৃদ্ধির জেরে বন্যার ঘটনাও বাড়বে।

কিন্তু, কীভাবে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা ?

বিশ্ব উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধে’ সাহায্য করে বনায়ন বা বনসৃজন। জলবায়ু পরিবর্তনের সংকট মোকাবিলার অন্যতম সহজলভ্য উপায়- গাছ লাগানো।

গাছ- ভারতে ব্যক্তিপিছুর তুলনায় বিশ্বের পরিসংখ্যান –

ভারত- ব্যক্তি পিছু ২৮টি গাছ

বিশ্বের গড়- ব্যক্তি পিছু ৪২২টি গাছ

•    কানাডা- ব্যক্তি পিছু ৮,৯৫৩

•    রাশিয়া- ব্যক্তি পিছু ৪,৪৬১

•    অস্ট্রেলিয়া- ব্যক্তি পিছু ৩,২৬৬

•    গ্রিনল্যান্ড- ব্যক্তি পিছু ৪,৯৬৪

•    আমেরিকা- ব্যক্তি পিছু ৭১৬

•    চিন- ব্যক্তি পিছু ১০২ (উৎস : Our World in Data)

ভারত- নির্গমনের লক্ষ্য নির্ধারণ করছে

ভারতের জলবায়ু নির্গমন লক্ষ্য-

•    ২০৩০ সালের মধ্যে ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) টন কার্বন নির্গমন হ্রাস করা

ভারতের লক্ষ্যপূরণে কীভাবে সাহায্য করতে পারে একটি গাছ ?

•    একটি দেশি গাছ প্রায় ০.২ টন CO2 কমাবে।

•    প্রায় ছয়টি গাছ এক টন CO2 কমাবে।

•    ২০৩০ সালের মধ্যে ১ বিলিয়ন কার্বন নিঃসরণ লক্ষ্যমাত্রায় ৬০০ কোটি গাছ প্রয়োজন।

•    ভারতে ৩,৬০০ কোটি গাছ রয়েছে।

প্রতিদিন একজন ব্যক্তির দ্বারা নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণের জন্য কত গাছ প্রয়োজন?

প্রায় ১৫টি গাছ ২০০০-ক্যালোরি খাদ্য গ্রহণ থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড অফসেট করে। ৭৩০টি গাছ জ্বালানি থেকে নির্গত গড় কার্বন ডাই অক্সাইড অফসেট করে।

উৎস : PennState Institutes of Energy and the Environemnt

ভারতের বনভূমি – অপর্যাপ্ত

•    ভারতের ভৌগোলিক এলাকার ৩৩ শতাংশ বন বা গাছের আচ্ছাদনে থাকা উচিত

•    ভারতের বন – দেশের মোট বন ও গাছের পরিধি ৮০.৯ মিলিয়ন (প্রায় ৮.০৯ কোটি) হেক্টর যা দেশের ভৌগোলিক এলাকার ২৪.৬২ শতাংশ।

•    বনভূমির ঘাটতি – ভারতে আরও ৮.৩২ শতাংশ এলাকা বনের আওতায় থাকা উচিত।

•    শুধু মাত্র ১৭টি রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ভৌগোলিক এলাকার ৩৩ শতাংশের বেশি বনাঞ্চল রয়েছে।

উৎস : Forest Survey of India – 2022

ভারতের কার্বন নির্গমন – ধনী বনাম দরিদ্র

ভারতে নাগরিকদের কার্বন নিঃসরণে বিশাল বৈষম্য – উচ্চ-ব্যয়কারী পরিবারগুলি কম খরচের পরিবারের তুলনায় প্রায় সাতগুণ কার্বন নির্গমনের জন্য দায়ী (Journal – Global Environment Challenge)

ভারত থেকে কার্বন নিঃসরণ – রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট

•    কার্বন নির্গমনে বিশ্বের তালিকায় তৃতীয় স্থানে ভারত।

•    ভারতে ২.৪৬ বিলিয়ন মেট্রিক টন কার্বন বা বিশ্বের মোট নির্গমনের ৬.৭% রয়েছে

•    ভারতের মাথাপিছু কার্বন নির্গমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বছর ১৬.২১ টনের তুলনায় ১.৮৪ টন এখনও কম।

এই হচ্ছে মহাভারত , আরও আছে , তবে আশা করি বুঝতে এখন আর তোমার কোন অসুবিধা হচ্ছে না ।

ক্যামেলিয়া – হ্যাঁ বাবা , এখন সত্যি আর বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না ।

রায়চৌধুরী – আমাকে একটু চা খাওয়াবি মা ।

ক্যামেলিয়া – করে আনছি বাবা ।

পুতুল কে বল না ।

ক্যামেলিয়া – আট টা বেজে গেছে বাবা , পুতুল চলে গেছে । তুমি বস , কতক্ষণ ই বা লাগবে ? আমি করে আনছি ।

(ক্যামেলিয়া চা করতে উঠে যায় , কিন্তু তার জানা ছিল না রান্নাঘরে ওত পেতে আছে দু দুটো হায়না ।)

প্রবীর – চুপ চাপ দাড়া , যেই মাগি টা ঢুকবে , অমনি পিঠমোড়া করে বেঁধে ফেলবি । আমি মুখে কাপড় গুঁজে দেব যাতে চিৎকার করতে না পারে ।

মকসুদ – ঠিক আছে , ঐ আসছে মনে হচ্ছে । চল , দরজার দুপাশে লুকিয়ে পড়ি ।

ক্যামেলিয়া – মম চিত্তে , নিতে নিত্তে কে……, কে ? কে ওখানে ?

প্রবীর – চুপ শালি , একদম চুপ । ( ছুরি বার করে ) ।

ক্যামেলিয়া – তোমরা ঘরে ঢুকলে কি ভাবে ?

প্রবীর – আমরা ঠিক ঢুকে যাই ।আয়েশ করে পায়েস খেতে । একদম চুপ ,  নখরা করবি তো জানে মেরে দেব । নে মকসুদ , মুখে কাপড় গুঁজে পিঠমোড়া করে বেঁধে ফেল ।

মকসুদ – বাঁধছি ওস্তাদ ।

ক্যামেলিয়া বেগতিক দেখে পায়ের সামনে থাকা মেঝে রাখা বাসন ভর্তি ঝুড়ি টা   পা দিয়ে উল্টে দেয় । ঝনঝন করে শব্দ হয়ে ওঠে ।

রায়চৌধুরী – কে , কে ওখানে ? (শব্দ শুনে ওরা ক্যামেলিয়া কে বাঁধতে পারে না , তুলে নিয়ে পিছনের রাস্তা দিয়ে বেরিয়ে যায় ।   বলতে বলতে রায়চৌধুরী দেখতে পায় প্রবীর ক্যামেলিয়া কে তুলে নিয়ে পিছনে বাগানের রাস্তা দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে ।

(রায়চৌধুরী। পেছন থেকে প্রবীর কে  ধরে নেয়। শুরু হয় ধস্তাধস্তি ।

রায়চৌধুরী প্রবীর কে জাপটে টেনে ফেলে দেয় । প্রবীর ক্যামেলিয়া কে নিয়ে পরে গিয়ে তার পর উঠে রায়চৌধুরী কে ছুরি বার করে চালিয়ে দেয় । ক্যামেলিয়া পরে গিয়ে হাতের বাঁধন খোলার চেষ্টা করতে থাকে ।  )

রায়চৌধুরী – আঃ , মা গো । ( পেটে ছুরি নিয়ে রায়চৌধুরী লুটিয়ে পরে ) ।

প্রবীর – শালা , খুব তেজ তোর , আজ তোকে শেষ করে ফেলব ।

(মকসুদ  রাগে অন্ধ হয়ে গাছ গুলোতে বাগানের পরে থাকা কাটারি নিয়ে এলোপাথাড়ি কাটারি চালাতে থাকে ।)

মকসুদ – শালা , আজ তোদের এই বাগান আমি শেষ করে দেব ।

রায়চৌধুরী – না , যতক্ষণ আমার শরীরে প্রাণ আছে , আমি এই গাছগুলো কাটতে দেব না । কিছু তেই না  ( বলে মকসুদ কে থামাতে যায় , মকসুদ কাটারির এক কোপ রায়চৌধুরী র বুকে বসিয়ে দেয় 

রায়চৌধুরী লুটিয়ে পরে ।

(প্রবীর আর মকসুদ ভেবেছিল ক্যামেলিয়া বিধবা সরল সাধাসিধে বাড়ির বউ , সহজেই তাকে পিঠ মোড়া করে বেঁধে নিয়ে নিজেদের গো ডাউনে নিয়ে যাবে , কিন্তু ক্যামেলিয়া  বাবার ঐ অবস্থা দেখে রাগে  বাঘিনীর মত সে মকসুদের বা চোখে বাগানে পরে থাকা লোহার  অংশ ঢুকিয়ে দেয়) ।

মকসুদ – মার দিয়া রে , আঁখ ফোড় দিয়া ।

ওদিকে সন্দীপ বাইকে বাড়ি ফিরছিল , রায়চৌধুরী দাদুর আওয়াজ পেয়ে বুঝতে পারে বাগানে কিছু একটা গন্ডগোল হচ্ছে । তাই সে চিৎকার করতে থাকে ।কয়েকজন জুটে যায় । সবাই মিলে সদলবলে দৌড়ে এলে প্রবীর আর মকসুদ ক্যামেলিয়া কে ফেলে পালায় ।)

সন্দীপ – শয়তান গুলো পালিয়েছে । কাকিমা আর দাদু খুব ভাল রকম ই জখম হয়েছে । চল , ধর , হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যাক ।

সবাই – চল , চল , চল ।

( সবাই মিলে ধরা ধরি করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসায় খুব দ্রুত সাড়া দিয়ে দু তিন দিনের মধ্যে  ক্যামেলিয়া ভাল হলেও  রায়চৌধুরী র অবস্থা খুব দ্রুত অবনতি হতে থাকে । মিত্তির , বিজ্ঞানী রা সবাই দেখতে যায় । সন্দীপ পাশে বসা ।

সুবিনয় – কেমন আছেন রায়দা ? এখন কেমন বোধ করছেন ?

রায়চৌধুরী – ভাল ।

বিজ্ঞানী – সত্যি রায় দা , আমরা বলি অনেক কিছু , কিন্তু করে উঠতে পারিনা , কিন্তু তুমি যেভাবে সাহস দেখিয়েছ , অসাধারণ ।

সন্দীপ – কিন্তু কার জন্য দাদু , কার জন্য তুমি এরকমভাবে বার বার জীবনের বাজী রাখ বলতো , কার জন্য ।

রায়চৌধুরী – গাছেদের জন্য দাদুভাই । গাছেদের জন্য ।

সন্দীপ -কেন পাগলামি করছ দাদুভাই । দেখ না , মানুষ কত স্বার্থপর হয়ে গেছে । সবাই এখন খুব খুব  স্বার্থপর হয়েগেছে দাদু ।

রায়চৌধুরী – সত্যি কি আমরা স্বার্থপর হতে পেরেছি দাদু ?

সন্দীপ – মানে ?

রায়চৌধুরী – মানে সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকতে গেলে  422 টা গাছ মাথাপিছু প্রয়োজন , আমাদের দেশে মাথা পিছু গাছের সংখ্যা 28 টা । এটা আমাদের মানব সভ্যতা বাঁচাতে দরকার । গরু বা ছাগলের সভ্যতা বাঁচাতে নয় দাদু।তাই বলি কি দাদুভাই , অনেক তো অন্যের উপকার করলাম , এবার একটু স্বার্থপর হয়ে নিজেদের উপকার করতে ই  না হয় গাছ লাগাই ।

সন্দীপ – আমাদের পাশের বাড়ির বাচ্চাটা দু দিন ধরে শ্বাস কষ্টে কি ভুগছে গো দাদু । ডাক্তারখানায় গেলে ওকে ইন-হেলার লিখে দিয়েছে ।

রায়চৌধুরী – আমি আর তোমাদের কি বলব দাদুভাই । আমরা স্বার্থপর নই , আমরা বিশ্বাসঘাতক । নিজের সাথে , নিজেদের পরিবারের সাথে , আত্মীয়স্বজন , বন্ধু বান্ধব , পাড়া প্রতিবেশী , প্রকৃতি , এমন কি যে গ্রহে জন্মেছি,  সেই পৃথিবীর সাথে প্রতিনিয়ত বিশ্বাসঘাতকতা করে চলেছি গাছ কেটে ।

আমার কিছু বলার নেই । যুব সমাজ তোমরা , তোমাদের হাতেই নতুন পৃথিবী কে দূষণ মুক্ত করার চাবি খুঁজে বার করতে হবে । আমাদের এই পৃথিবীর আজ বড় কঠিন সময় । অস্তিত্ব ই সংকটে । তবে হ্যাঁ । আমার সহজ সরল বুদ্ধিতে বলে এই পৃথিবীকে দূষণ মুক্ত বা কার্বনডাইঅক্সাইড মুক্ত করার সহজতম পদ্ধতি গাছ লাগানো আর বড় গাছ না কাটা ।

ক্যামেলিয়া – বাবা , তুমি আর কথা বল না , নার্স দিদি তোমাকে কথা বলতে বারণ করে গেছে । তাছাড়া তুমি কিন্তু এখন ও সুস্থ নয় ।

পুলিশের প্রবেশ – দেখুন তো এরা ই সেই দুটো কি না ?

মকসুদ – রহিম চাচা , তুমি আমাকে বাঁচাও ।

রহিম আলি – এসব করলি কেন ?

মকসুদ – বিবি , বাচ্চা কে বাঁচাব বলে ।

রহিম আলি – হারামের টাকায় তোর বিবি , বাচ্চা বাঁচবে ? যখন গুনহা করিস , তখন আল্লার কথা মনে পরে না ? যখন সারাব খাস , আয়েশ করিস , তখন ভাবিস না এমন দিন দেখতে হবে ?

রায়চৌধুরী – হ্যাঁ । ( উত্তেজিত হয়ে ওঠে ) এরা ই । কি ভেবেছিলি । আমাকে মেরে বাগান নিবি । তোরা জানিস ই না , আমি মরে গেলেও ঐ বাগান তোদের হবে না । আমি সব সেবা প্রতিষ্ঠান কে দান করে দিয়েছি । শুধু একটা শর্তে , একটা গাছ ও ওরা কাটতে পারবে না । আঃ আঃ , বুকের ভেতর টা …উফ ,

বিজ্ঞানীরা সবাই – রায়চৌধুরী দা । ডাক্তার , নার্স ( ফ্রিজ )

পরের দিন ভোরবেলা খবর এল , রায়চৌধুরী আর নেই । সাড়া চন্দননগরে শোকের ছায়া নেমে এল । রায়চৌধুরী র লড়াই কে বীরের সম্মান দিতে ও নতুন প্রজন্ম কে প্রেরণা দিতে রায়চৌধুরী কে  গাছ দাদু নামে ভূষিত করা হল ।

বিজ্ঞানী – আমরা কত কিছু করব ভাবছিলাম , কিন্তু কিছু ভাবা আর সত্যিকারের করে দেখানোর মধ্যে যে কত তফাত তা রায়চৌধুরী দা দেখিয়ে দিয়ে গেল । কিন্তু ওনার এই গাছের প্রতি অসীম ভালবাসা এই প্রকৃতি প্রেম কে আমরা কিছু তেই বিফল হতে দেব না ।

মিত্তির – হ্যাঁ , এখন থেকে আমাদের একটাই লক্ষ্য হবে আর তা হল দূষণ মুক্ত পৃথিবী ।

সুবিনয় – শুধু গাছ লাগানো নয় । তাকে যত্ন করা , উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ  করা । তাকে বিপদ মুক্ত রাখা আমাদের মূল মন্ত্র হোক ।

দূর্বাদল – যেখানে সেখানে প্লাস্টিক ফেলে কি আমরা কম দূষণ ছড়াই ? সমুদ্র থেকে মাছ তুলতে গিয়ে ও উঠছে  টন টন প্লাস্টিক ।

সন্দীপ , চিনি – হ্যাঁ গাছদাদু ,আজ আমরা সবাই শপথ নিচ্ছি ,   তোমাকে আমরা আমাদের কাজের মধ্যে বাঁচিয়ে রাখব চিরকাল

সবাই – তুমি হও আমাদের আগামী দিনের চলার দিশা । আমরা বিশ্বাসঘাতক নই , ।আগামী দিনে আমরা হয়ে উঠবো এক একজন মানব সভ্যতার বিশ্বাসী , বিশ্বস্ত সৈনিক 

                   সমাপ্ত

Leave a Reply